Thu. Feb 25th, 2021

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের দুই নীতি!

জৈন্তাপুর সংবাদদাতা :: সিলেট তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর অংশে ট্রাফিক পুলিশের দুই নীতি। বৈধ কাগজপত্র ও বিআরটিএ অনুমোদিত গাড়ীতে হয় আইনের প্রয়োগ। আর নাম্বার বিহীন টোকেন চালিত সিএনজি অটোরিকশা গুলোতে নেই আইনের প্রয়োগ। যদিও সরকার মহাসড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও এই রোডে তার প্রয়োগ নেই, এ যেন দেখার কেউ নেই ?

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার বাজার গুলোর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি করোনাকালে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জৈন্তাপুর সদরে সার্বক্ষনিক যানজট লেগেই থাকে। সিলেট তামাবিল মহাসড়কের হরিপুর বাজার, দরবস্ত বাজার ও সারীঘাট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে তাদের দেখা মিলেনি৷ যানজট এলাকায় তাদের দেখা না মিললেও দেখা মিলেও সিলেট তামাবিল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে হরিপুর বাজার পার হয়ে করিচের ব্রীজের মধ্যবর্তী স্থানে, পাখিটিখি, বাঘের সড়ক, দামড়ী, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, বাধরোকা, হাইওয়ে পুলিশের নির্মাণাধীণ কমপ্লেক্স সম্মুখ, কাটা গাং, কদমখাল এলাকায় তাদেরকে বেশির ভাগ সময় যানবাহনের উপর অভিযান পরিচালনা করতে দেখা মিলে।

সিলেট থেকে কানাইঘাট-গোয়াইনঘাট-জাফলং রোডে চলাচলরত যাত্রীরা ট্রাফিক পুলিশের এসব বিষয়ে অবগত থাকলেও কেউ হয়রানির ভয়ে এর প্রতিবাদ করেন না। চলাচলকারী নাম্বার যুক্ত গাড়ী গুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেও নাম্বার বিহীন টোকেন পরিচালিত সিএনজি অটোরিকশা গুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। অপর দিকে ট্রাফিক সপ্তাহ পরিচালিত হলেও নাম্বার বিহীন যানবাহন গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।

এবিষয়ে একাধিক চালকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সিলেট তামাবিল মহাসড়কে ট্রাফিকরা কি করছেন তা পুলিশের অনেকের জানা আছে। তারা শুধুমাত্র আইন মোতাবেক অনুমোদিত গাড়ী গুলোতে অভিযান পরিচালনা করে মামলা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ চালকদের। কিন্তু সিলেট তামাবিল মহাসড়কে অন্তত প্রায় ৫ হাজার নাম্বার বিহীন গাড়ী বা সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে যাহা টোকেন পরিচালিত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টোকেন নিয়ে পরিচালিত সিএনজি চালকরা জানান, আমরা ইতোপূর্বে চতুল বাজার শাখা নামক টোকেন ৪শত হতে শুরু করে ৭শত টাকা দিয়ে ক্রয় করে গাড়ী পরিচালনা করে আসছি। এই টোকেন দিয়ে শুধু মাত্র জৈন্তাপুর উপজেলায় গাড়ী পরিচালনা করতে পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হত না। বিগত ২মাস হতে আমাদের এলাকায় আরও কয়েকটি টোকেন পাওয়া যাচ্ছে যা ব্যবহার করে তিন উপজেলা জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কানাইঘাট চলাচল করা যায়, যার কারণে পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হয় না। অপরদিকে নতুন টোকেন আসার কারনে ৭শত টাকা হতে দাম কমে ৪শত টাকায় নেমে আসে ফলে আমাদের সুবিধা হয়েছে। আমরা সুবিধা পাচ্ছি তাই টোকনের মাধ্যমে মহাসড়কে গাড়ী চলাচল করতে পারছি।

এ বিষয়ে ট্রাফিক টিএসআই দিপাংঙ্কর বলেন, আমরা আইনগত ভাবে যে কোন পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করছি। নাম্বার বিহীন সিএনজি অটোরিশাগুলো বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি উধ্র্তন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্দেন।
এ নিয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মহসিন আলী জানান, যদিও আমার থানা এলাকায় হাইওয়ে রোডে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে বিষয়টি তাদের এখতিয়ার, আমার নয়। আপনি এবিষয়ে সার্কেল স্যারের সাথে কথা বলেন।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট-জৈন্তা উত্তর সার্কেলের সিনিয়র এ.এস.পি আব্দুল করিম জানান, একই রোড এ দুই আইন বলিতে কিছুই নেই। আইন সবার ক্ষেত্রে সমান। আপনি তথ্য দিন আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব। যেহেতু আপনি বলেছেন আর বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।