Mon. Mar 8th, 2021

পুলিশি নির্যাতনে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

ডেইলি বিডি নিউজঃ বরিশাল নগরীতে পুলিশি নির্যাতনে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রোববার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়ছে।

মারা যাওয়া ওই যুবকের নাম রেজাউল করিম (৩০)। তিনি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদী হামিদ খান সড়কের মো. ইউনুস মুন্সির ছেলে। রেজাউল করিম আইন কলেজ থেকে গতবছর এলএলবি (পাস) ডিগ্রি অর্জন করেন।

রেজাউল করিমের বাবা মো. ইউনুস মুন্সির অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন তার ছেলে রেজাউল করিম। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিন সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে যান। পরে তিনি জানান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ১৩৮ গ্রাম গাঁজা এবং চার পিস নেশাজাতীয় ইঞ্জেকশন উদ্ধার করা হয়েছে।

ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেজাউল করিমকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা মাদক আইনে মামলা করেন এসআই মো. মহিউদ্দিন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

মো. ইউনুস মুন্সি বলেন,এসআই মহিউদ্দিন ধরে নেয়ার সময় রেজাউল সুস্থ ছিলেন। তার শরীরে মারা যাওয়ার মতো কঠিন কোনো রোগ ছিল না। তবে শুক্রবার আদালতের সোপর্দের সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিল। স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছিলেন না। আদালতের নির্দেশে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শুক্রবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে রেজাউলের মৃত্যু হয়।

ইউনুস মুন্সির অভিযোগ,নির্যাতনের কারণেই ছেলে রেজাউলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিচার দাবি করেছেন তিনি।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন,১ জানুয়ারি রেজাউল করিম নামের ওই হাজতি আসামিকে কারা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তার হাজতি পরোয়ানায় বাম পায়ে একটি পুরাতন জখমের কথা উল্লেখ ছিল। হস্তান্তরের পর প্রথমে তাকে কারা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাতেই তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মহিউদ্দিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) নরেশ কর্মকার জানান, পুলিশ হেফাজতে রেজাউল করিমকে নির্যাতন দূরের কথা, তার সঙ্গে কেউ দুর্ব্যবহারও করেননি।

তিনি বলেন,রেজাউল করিম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। গত আগস্ট মাসেও ১৬০ পিস নেশাজাতীয় ইঞ্জেকশনসহ তাকে আটক করা হয়। ২০১৯ সালেও তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছিল। তিনি নিজেও নেশাজাতীয় ইঞ্জেকশন পুশ করে নেশা করতেন। এ কারণে তার বাম পায়ের ওপরের অংশে একটি ক্ষত ছিল। ওই ক্ষততে ইনফেকশন হয়ে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো.শাহাবুদ্দিন খান জানান, হাজতি রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।