Sun. Mar 7th, 2021

সুনামগঞ্জে ধর্ষণ করতে না পেরে বাস থেকে ধাক্কাঃ সিআইডি

ডেইলি বিডি নিউজঃ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এর অতিরিক্ত ডিআইজি হাফেজ আজিজ বলেন, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চালক ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে চলন্ত বাস হতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। রাজধানীর সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

উল্লেখ্য,সুনামগঞ্জের দিরাই পৌর শহরে চলন্ত বাসে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন বাসের চালক ও তার সহকারী। নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে বাস থেকে লাফ দেয় ওই ছাত্রী। এতে গুরুতর আহত হয়েছে সে। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের দিরাই পৌরসভার সুজানগর এলাকায় শনিবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২০) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে ধর্ষণ চেষ্টার প্রধান আসামি চালক শহীদ মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিআইজি হাফেজ আজিজ বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর ‘ফাহাদ এন্ড মায়শা পরিবহন’ (সিলেট-জ-১১০২২৩) বাসটি সিলেট হতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ভিকটিমকে তার দুলাভাই সিলেটের লামাকাজি থেকে সুনামগঞ্জের দিরাইপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে তুলে দেন। পথে সব যাত্রী নেমে গেলে বাসটি দিরাইয়ের পাতারিয়ায় পৌঁছালে চালক শহীদ মিয়া ভিকটিমকে চলন্ত বাসে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।

তিনি আরও বলেন, এ সময় ভিকটিম আত্মরক্ষার্তে চিৎকার শুরু করে। ভিকটিমের চিৎকার শুনে সুজানগর গ্রামসহ আশপাশের লোকজন গাড়িটি আটকের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চালক ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে চলন্ত বাস হতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে রাস্তায় পড়ে ভিকটিম গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা ভিকটিমকে উদ্ধার করে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে পাঠান।

অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন,এই অপরাধে সিআইডির অতিরিক্ত বিশ্বাস পুলিশ সুপার মুক্তাধর ছায়া তদন্ত করে প্রথমে চালক শহীদের ছোট ভাই মো.কছির ও দুলাভাই সুমনকে আটক করে। পরে তাদের তথ্য অনুযায়ী শহীদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর ভোগড়া বাইপাস ও উত্তরা দিয়াবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২ জানুয়ারি) শহীদ ঢাকার সায়দাবাদ হতে বাসযোগে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে এমন সময় গ্রেপ্তা করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহীদ মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের দিরাই থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা হয়েছে।