Fri. Jan 22nd, 2021

পৌর নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান, আ’লীগের ৭ নেতা বহিষ্কার

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভা নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী সাজ্জাদুল হক রেজাসহ সাত নেতাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গত শনিবার রাতে এক জরুরিসভায় তাদের বহিষ্কারের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রোববার রাতে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট হোসেন আলী হাসান দলের পক্ষে এ ঘোষণা দেন।

বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন, বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল হক খান ঘোষণা, সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক হযরত আলী, বেলকুচি পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান আলী প্রামাণিক, সহসভাপতি বদরউদ্দিন মণ্ডল ও বেলকুচি উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবীব।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট হোসেন আলী হাসান বলেছেন, আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে দলের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র বেগম আশানুর বিশ্বাসের (প্রতীক নৌকা) বিপক্ষে অবস্থান নেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার বিরুদ্ধে যারাই অবস্থান নেবে, তাদের বিরুদ্ধেই এ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, আশানুর বিশ্বাস শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তাকে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

এ জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এর কোনো ব্যতিক্রম হতে দেয়া হবে না।

দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১৬ জানুয়ারি এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলার তাঁতশিল্পসমৃদ্ধ বেলকুচি পৌরসভার এ নির্বাচন কেন্দ্র করে বেলকুচিসহ জেলাব্যাপী এ বিষয় নিয়ে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নির্বাচনে কি হবে তা নিয়েও রয়েছে নানা উৎকণ্ঠা ও জল্পনা-কল্পনা।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বেগম আশানুর বিশ্বাস (প্রতীক নৌকা) দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাজ্জাদুল হক রেজা (প্রতীক নারিকেল গাছ)।

এ ছাড়া এ নির্বাচনে কাউন্সিলর (সাধারণ) পদে ৪২ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ৫৩ হাজার ৩৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৭ হাজার ৩১৮ ও নারী ভোটার ২৬ হাজার ৪৮ জন। এ নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্র ২৬টি।

এর মধ্যে ২০টি ভোটকেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে চিহ্নিত করেছে।