Wed. Jan 27th, 2021

আমি ছাত্রলীগকে দিয়েছি খাতা-কলম, খালেদা দিয়েছিলেন অস্ত্র: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি বিডি নিউজঃ ছাত্রলীগের হাতে আমি খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম। কারণ খালেদা জিয়া ছাত্রদলকে বলেছিল তাদের হাতে নাকি আওয়ামী লীগের বিনাষ ঘটবে। আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করবে অর্থাৎ তারা দিয়েছে অস্ত্র। এটা জিয়াউর রহমানেরই নীতি ছিল। আমাদের বহু মেধাবীদের হাতে অস্ত্র আর অর্থ তুলে দিয়ে তাদের বিপথে পরিচালিত করেছিল। কাজেই আমরা চেয়েছি শিক্ষা। কারণ শিক্ষা ছাড়া একটা জাতি উন্নত হতে পারে না।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে একথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন।

সরকার শিক্ষাকে সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,প্রতিটি জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। এ পর্যন্ত নতুন ১৬টা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হয়েছে। অনেকগুলোর কাজ চলমান। আবার বেসরকারি খাতে যারা বিশ্ববিদ্যালয় করতে চাচ্ছে তাদেরও সুযোগ করে দিচ্ছি। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

তিনি বলেন,আমরা শিক্ষাকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যেহেতু করোনাভাইরাস সমস্ত স্কুল কলেজ বন্ধ, আমরা চালু করতে পারছি না। যখনই চালু করতে যাচ্ছি আবার দ্বিতীয় ঢেউ চলে আসছে সেজন্য করতে পারলাম না। তারপরেও আমার ঘর আমার বিদ্যালয় ব্যবহার করে তার মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। ছাত্রদের বলব বসে না থেকে যা পার নিজেরা কিছু পড়াশোনা কর। পাঠ্যপুস্তক তো আছেই তাছাড়ও পড়ার অনেক সুযোগ আছে। জ্ঞান যত বেশি অর্জন করতে পার তাতই নিজেকে সম্পদশালী মনে করবে, ধন সম্পদক কোন দিন কোন কাজে লাগে না। করোনা ভাইরাস একটা জিনিসি শিক্ষা দিয়ে গেছে যার যতই টাকা পয়সা থাকুক যার যতই অর্থ সম্পদ বাড়ি গাড়ী থাকুক না কেন সেগুলি যে একেবারেই ব্যর্থ তার যে কোন মূল্য থাকে না করোনা ভাইরাস অন্তত এই শিক্ষাটা মানুষকে ভালভাবে দিয়েছে।

শিক্ষা বিদ্যা এটা এমন একটা শিক্ষা এমন একটা সম্পদ এই সম্পদক কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। এই সম্পদ থাকলে জীবনে কখনো হোচট খাবে না। চলার পথ মসৃণ করে এগিয়ে যেতে পারবে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের সেই শিক্ষাই দিয়েছি। কাজেই তোমরাও সেই শিক্ষা নেবে। ছাত্রলীগের সেটাই কাজ থাকবে। নিজেরা পড়বে অন্যকে পড়াও। আর করোনা ভাইরাসের সময় নির্দেশ দিয়েছি নিজের গ্রামে গিয়ে কেউ নিরক্ষর থাকলে তার জ্ঞান দাও।

ছাত্রলীগের যে মূলমন্ত্র-শিক্ষা,শান্তি,প্রগতি। শিক্ষাটা হচ্ছে প্রথম। শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শান্তি আমরা চাই। এটা মাথায় রেখে ছাত্রলীগের প্রত্যেকটা নেতা কর্মীকে আদর্শ নিয়ে চলতে হবে এটাই আমি চাই। প্রত্যেকে আদর্শ নিয়ে না চলতে পারলে কখনো বড় হতে পারবে না। ধন সম্পদক অনেকে বানাতে পারবে কিন্তু দেশকে কিছু দিতে পারবে না মানুষকে কিছু দিতে পারবে না। নিজে ভোগ করতে পারবে। আবার করোনাকালে সে ভোগও সীমিত হয়ে যায়। সেটাও পারে না সেটাও বাস্তবতা। তোমরা সবাই পড়াশোনা কর।

করোনাকালে ছাত্রলীগের ভূমিকা প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,তোমরা যে কাজ করে গেছ তারজন্য সব সময় সাধুবাদ জানাই। আমি জানি ক্ষেত্র বিশেষে কোথাও দুই একটা ঘটনা ঘটে আর আমাদের দেশে কিছু পত্র-পত্রিকা আছে যতই ভাল কাজ কর সেটা লেখার তাদের যোগ্যতা নাই। যদি কোথাও এতটুক খুদ পায় সেগুলো বড় করে লিখতে পারে, এটা তাদের একটা দন্যতা, ব্যর্থতা। তাদের মন মানসিকতার একটা দন্যতা বলেই মনে করি, ওগুলো আমি বেশি একটা হিসাবে ধরি না।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লেখ ভট্টাচার্যর সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন।