Mon. Mar 8th, 2021

সিলেটে আইনের তোয়াক্কা না করে সড়কেই লেগুনা স্ট্যান্ড

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট নগরীর জেলরোড পয়েন্ট থেকে শিশু পার্কের সামনা পর্যন্ত সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে লেগুনা স্ট্যান্ড। দীর্ঘদিন থেকে ব্যস্ততম এ সড়কে স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হলেও উচ্ছেদে নেই কোনো পদক্ষেপ। এর বাইরে এসব লেগুনা ১৫ কিলোমিটারের রুট পারমিট নিয়ে চলছে প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এছাড়া হাইওয়ে সড়কে এসব থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা মানছেন না লেগুনার চালক-শ্রমিকরা।

এর বাইরে শিশুদের দিয়ে হেলপারের কাজ করানো কিংবা অদক্ষ চালকের দিয়ে এসব লেগুনা চালানোর কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। কেউ কেউ বরণ করছেন পঙ্গুত্ব। সব মিলিয়ে ‘কোনো আইন না মেনে চলা’ লেগুনাকে আইন অনুযায়ী পরিচালনার জন্য নেই কোনো কার্যকরী উদ্যোগ। উল্টো পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সিলেট থেকে জৈন্তাপুর পর্যন্ত চলাচল করছে এসব লেগুনা।

তবে বিআরটিএ সিলেট অফিস বলছে, এসব থ্রি-হুইলারগুলোকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রুট পারমিট দেয়া হয়। এর বাইরে তাদের চলাচলের অনুমতি নেই। এছাড়া হাইওয়ে এলাকায় তো এসব থ্রি-হুইলার কোনোভাবেই চলতে পারে না। কারণ,হাইওয়ে সড়কে থ্রি-হুইলার নিষিদ্ধ রয়েছে।

এদিকে শ্রমিকরা বলছেন, ১৫ কিলোমিটারের রুট পারমিটের নিয়ম মেনেই তারা গাড়ি চালাচ্ছেন। সেজন্য প্রথমে নগরীর শিশু পার্কের সামনে থেকে বটেশ্বর পর্যন্ত গাড়ি যায়। পরবর্তীতে বটেশ্বর থেকে হরিপুর, হরিপুর থেকে জৈন্তাপুর পর্যন্ত গাড়ি যায়। একই হিসেব করে অন্যান্য রুটেও এসব গাড়ি চলাচল করছে। এজন্য কোনো গাড়িই ১৫ কিলোমিটারের উপরে চালানো লাগে না। আর হাইওয়েতে গাড়ি চালানো না গেলে এসব গাড়িতে যাত্রী পাওয়া যাবে না। সেজন্য হাইওয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে লেগুনা হিউম্যান হুলার চালক শ্রমিক ইউনিয়ন (চট্ট-১৩২৬) তামাবিল স্ট্যান্ডের সাধারণ সম্পাদক বদরুল ইসলাম বলেন,নির্ধারিত স্ট্যান্ডের জন্য আমরা মেয়র মহোদয়ের নিকট বারবার আবেদন করেছি। কিন্তু মেয়র মহোদয় আমাদের বারবার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে তিনি আমাদেরকে উচ্ছেদ করেন আবার আমরা এসে বসি। তিনি সবশেষ আমাদের স্ট্যান্ড থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। তখন তিনি আমাদের বলেছিলেন একটি জায়গা বের করে দিবেন কিন্তু তিনি দেননি।

তিনি আরও বলেন,সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে আমাদের জন্য একটি নির্ধারিত জায়গা ঠিক করে দিলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো। আমরা শুধুমাত্র সিরিয়ালের গাড়ি শিশু পার্কের সামনে রেখে বাকীগুলো স্ট্যান্ডে রাখতে পারতাম। কিন্তু এরকম ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের গাড়িগুলো সবই সড়কে রাখতে হচ্ছে। এতে আমাদের যেমন অসুবিধা হচ্ছে তেমনি মানুষের চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন,আমরা এসব গাড়িগুলোর জন্য একটা নির্দিষ্ট পার্কিং জোন খুঁজছি। কারণ বিভিন্ন সময় আমরা উচ্ছেদ করলেও তারা আবার রাস্তায় গাড়ি রাখছেন। এজন্য আমরা একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য চেষ্টা করছি।

আর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়ছল মাহমুদ চৌধুরী বলেন,অবৈধ পার্কিং করলে আমরা মামলা দেই এবং উচ্ছেদ অভিযানও করি। এছাড়া আমরা একটা পরিকল্পনা নিচ্ছি, যার মাধ্যমে আমরা এদের বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিতে পারবো।