Sat. Mar 6th, 2021

বিয়ানী বাজারের বিবিরাই হাজারও মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

ডেইলি বিডি নিউজঃ দেশ স্বাধীনের আগে থেকেই দুর্দশা আর ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছেন এলাকার শত শত মানুষ। এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা একমাত্র বাশের সাকোঁ। চলাচল করতে গিয়ে আহতও হচ্ছেন অনেকে। এটাই যেন তাদের নৃত্যদিনের সঙ্গী। তরপরও থেমে নেই তাদের চলাচল। বর্ষাকাল এলে শেষ ভরসা
নৌকা,পানি কমলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত বাশের সাকোঁ। বছর পেরিয়ে নতুন বছর আসলেও দুর্দশা আর ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি তাদের। বর্ষা এলে মারাত্বক ঝুঁকিতে পড়েন বিবিরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্বারপ্রান্ত হলেও প্রতিকার পাননি এলাকাবাসী। দীর্ঘকার সাকোঁটি বিয়ানী বাজার উপজেলার তিলপারা ইউনিয়নের বিবিরাই এলাকায় অবস্থিত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,বিবিরাই এলাকায় ভেদ করে প্রবাহিত বরোদল নদী। নদীর নদীর সাথে সংযুক্ত। সকাল থেকেই দুই প্রান্তের মানুষ চলাচল করেন বাশেঁর তৈরি সাকোঁ দিয়ে। এক পাড়ে বিবিরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,অপরপ্রান্তে ফকির বাজার উচ্চ বিদ্যালয় এম মুন্তাজিম আলী কলেজ জামে মসজিদ। প্রতিদিন খরস্রোতা নদী পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের।

এছাড়া স্থানীয় ঢাকাদক্ষিণ সরকারি ডিগ্রী কলেজ, ঢাকাদক্ষিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়,বহুমখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,গোলাপগঞ্জ এমসি একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন এই পথ দিয়ে। নদী পারাপারে মারাত্বক ঝুঁকি,অপরদিকে রাস্তার নাজুক অবস্থা। সব মিলিয়ে যেমনি রয়েছে ঝুঁকি,তেমনি হচ্ছে কষ্টের কারন। এ এলাকার বেশির ভাগ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকায় প্রতিদিন সকালে বের হয়ে আবার গভীর রাত পর্যন্ত চলাচল করেন। এলাকাবাসী এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাপ পেতে চা্ন বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলার বিবিরাই এলাকার জনসাধারণ জানান,প্রতি বছর বর্ষকালে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে বাশেঁর তৈরি সাকোঁটি তছনছ হয়ে যায়। বছরের বাংলার আশ্বিণ মাসে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগ ও ব্যয়ে তৈরি করতে হয় সাকোঁটি। নদীর এপার-ওপার দীর্ঘ হওয়ায় সাকোঁ তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ৩০/৩৫ হাজার টাকা। দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর থেকে এভাবে এ এলাকাবাসী যাতায়াত করছেন।

এলাকার ছাত্রছাত্রীরা জানান,বর্ষাকালে বাড়ি থেকে দুই সেট কাপড় নিয়ে বের হতে হয়। কাদা ও আর নদী মাড়িয়ে ময়লাযুক্ত কাপড় পরিবর্তন করে আমাদের যেতে হয় গন্তব্য স্থানে। বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের এ পথে যাতায়াত অনেক বেশি কষ্টদায়ক। এছাড়া এপাড়ের কোন মানুষ অসুস্থ হলে সব থেকে বেশী কষ্ট পোহাতে হয় এলাকাবাসীর। সরকারিভাবে বরোদল নদির উপর একটি ব্রীজ নির্মাণ ও রাস্তা মেরামত করে দিলে এই এলাকার জীবনমান বৃদ্ধি ও কষ্টের অবসান ঘটবে।

বিবিরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান,বরোদল নদীর অপরপ্রান্ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০জন শিশু বিদ্যালয়ে আসে। বর্ষাকালে বিদ্যালয়ের আশপাশ ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে অভিভাবকরা নৌকাযোগে শিশুদের বিদ্যালয় নিয়ে আসেন। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা প্রায়শই বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল জানান,এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি ব্রীজ। বাশেঁর সাকোঁর স্থানে সরকারি উদ্যোগে একটি ভেইলি ব্রীজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর কষ্ট লাঘব হবে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন।