Fri. Jan 22nd, 2021

ভাসানচরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি বিডি নিউজঃ আমরা এত অমানবিক নই যে রোহিঙ্গাদের বিপদে ফেলব। অন্য কেউ তো তাদের নিতে আসেনি, আমরাই তাদের আশ্রয় দিয়েছি। ভাসানচরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একেএম আব্দুল মোমেন।

সোমবার (১১ জানুয়ারি) রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আয়োজিত মুজিববর্ষ উপলক্ষে মারী স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসব উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

রোহিঙ্গাদের বর্তমান ক্যাম্পগুলো ক্ষণস্থায়ী জানিয়ে একেএম আব্দুল মোমেন বলেন, কুতুপালংয়ে পাহাড়ধস হয়েছিল। মানুষ মারা গিয়েছিল। আমাদের ভয় সামনের মৌসুমে এমন ঘটনা আরও ঘটতে পারে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ২২-২৩ হাজার পরিবারকে ওখানে (ভাসানচর) স্থানান্তর করব।

কুতুপালংয়ে কাজ করার সুযোগ ছিল না। তবে মিয়ানমারে তারা মাছ ধরা, কৃষিকাজসহ যে ধরনের কাজ করতেন সে ধরনের কাজ তারা ভাসানচরে করতে পারবেন। এতে সন্ত্রাসবাদের সম্ভাবনা কম বলেও জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রথমে আমরা ১৬শ ৪২ জনকে ভাসানচরে নিয়ে গেছি। তবে তা অনেক দীর্ঘায়িত হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ওখানে যেতে চাইনি। তারা ভাসানচরকে ভাসমান বলে ইস্যু করেছে। তবে আমরা মঙ্গল চাই বলে তাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মন্ত্রী বলেন, সাড়ে ৩ বছরেও একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। আমরা আশাবাদী তারা যাবে। তারা না গেলে আমাদের বিপদ। অনেক দিন ধরে এতগুলো মানুষ থাকলে নানা রকম ষড়যন্ত্র হবে। এদের মধ্যে যদি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি হয় আমাদের জন্যও ক্ষতিকর মিয়ানমারের জন্যও ক্ষতিকর। এটি ভারত, চীন এবং জাপানও বোঝে।

করোনা ভ্যাকসিনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। তারা যেদিন ভ্যাকসিন পাবে, আমরাও সেদিন ভ্যাকসিন পাব।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, রিজিয়ন কমান্ডার মো. ইফতেকুর রহমান, বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নিজামি, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন।

পাঁচ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসবে সারা দেশের ১০০ অংশগ্রহণকারী পর্বতারোহণ, নৌবিহার, কায়াকিং, হাইকিং ও ট্রেইল রান, টিম বিল্ডিংসহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিচ্ছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর অ্যাডভেঞ্চার উৎসব সম্পন্ন হবে।