Wed. Mar 3rd, 2021

ফুটওভার ব্রিজ’টি জায়াগায় রেখেই চলবে বন্দরবাজার সড়কের উন্নয়ন কর্মকান্ড

ডেইলি বিডি নিউজঃ সহসাই সরছে না নগরীর বন্দরবাজারে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজ। বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে চায় না সিটি কর্পোরেশন। আপাতত অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা কিংবা বিক্রি থেকে সরে এসেছে ‘নগর কর্তৃপক্ষ। ফুটওভার ব্রিজ’টি জায়াগায় রেখেই চলবে ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট তথা বন্দরবাজার সড়কের উন্নয়ন কর্মকান্ড। এমনটাই জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান।

সিলেট নগরীর বন্দরবাজারে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি নির্মিত হয় সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে। সেই ওভারব্রিজটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও,পথচারীরা এটি ব্যবহার করেন না। ফলে কোটি টাকার স্থাপনাটি কাজে আসছে না। যানজট নিরসনে এটি করা হলেও বাস্তবে তা উল্টো যানজটের কারণ হয়ে উঠেছে।

২০১৩-১৪ অর্থ বছরে, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দেয়া বিশেষ বরাদ্দে পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য সিলেট নগরীর সবচেয়ে জনবহুল এলাকা বন্দরবাজার পয়েন্টে নির্মাণ করা হয় এই ফুট ওভারব্রিজটি। এতে ব্যয় হয় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

জানা যায়, সিটি কর্পোরেশন এলাকার চারটি স্থান ও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য বিশেষ কোটা থেকে বরাদ্দ দিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ফুটওভারব্রিজ ছাড়াও সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পুনঃনির্মাণ,ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়, বর্ণমালা প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন ছিলো ঐ প্রকল্পে। ঐ চারটি প্রকল্পের মধ্যে ফুটওভারব্রিজ প্রকল্পটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে নগরীর জিন্দাবাজার ও আম্বরখানা পয়েন্টেও ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিলো সিসিকের। তবে,জিন্দাবাজার ও আম্বরখানায় ফুট ওভারব্রিজের সিড়ি নির্মাণের জায়গা না থাকায় আপাতত সে স্থান দুটিতে ফুট ওভার ব্রিজ করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সিটি কর্পোরেশন। এছাড়া বন্দরবাজারের ফুটওভারব্রিজ অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ায় নতুন করে চিন্তাই করতে পারছে না নগর কর্তৃপক্ষ। জানা যায়,ফুটওভার ব্রিজ মূলত সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই হয়ে থাকে। এরজন্য ফুটওভারব্রিজ স্থাপনের আগে খুব একটা জানতে পারেননি নগরবাসী। যখন স্থাপন করা হয়, তখন কেউ কেউ মুখ খুললেও ততক্ষণে সময় পেরিয়ে যায়। ওই ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প কাজের জন্য তখন কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড ব্রিজটি নির্মাণ করে এসে সিলেটে স্থাপন করে দিয়ে যায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর ২০১৫ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ফুটওভারব্রিজটির উদ্বোধন করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দিনে-রাতে সমানভাবে ভাসমান টোকাইদের আস্তানায় রূপ নিয়েছে ওভারব্রিজটি। মাঝে টোকাইরা বসে মাদক সেবন করছে। অনেকটা অপরাধীদের আস্তানায় রূপ নিয়েছে ওভারব্রিজটি। বিগত বছর দুএক থেকে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া ওভারব্রিজটি সরিয়ে নিতে চায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এ নিয়ে দুই দফা নিলাম আহবান করেছিলো সিসিক। তবে, কাক্সিক্ষত মূল্য পায়নি। ফলে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সিটি কর্পোরেশন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান জানান,অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশেষ কোটার বরাদ্দ থেকেই সিলেটের ফুটওভারব্রিজটি নির্মিত হয়। তবে বর্তমানে ব্রিজটি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান,অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগও ভেস্তে গেছে। দুই দফায় টেন্ডার দিয়ে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। এরজন্য আপাতত সরিয়ে নেয়া বা বিক্রির চিন্তা বাদ দেয়া হয়েছে। ফুটওভারব্রিজ জায়গায় রেখেই উন্নয়ন কর্মকান্ড চলবে বলে জানান তিনি।