Sun. Apr 11th, 2021

মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে সদর উপজেলার ১৪৪ ভূমিহীন পরিবার

ডেইলি বিডি নিউজঃ মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে সিলেট সদর উপজেলার ১৪৪ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার মাথা গোঁজার ঠাঁই। আগামী ২৩ জানুয়ারি সদর উপজেলার গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ১৭টি ঘর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই দিন সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এমপি উপস্থিত থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সদর উপজেলা পিআইসি কমিটি। ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণের জন্য এ উপজেলায় ১৪৪টি ঘর তৈরির জন্য ২কোটি ৪৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ পৌঁছে গেছে সদর উপজেলা প্রশাসনের কাছে। গৃহহীনদের জন্য টিনশেড ঘরের মধ্যে দুটি কক্ষসহ বারান্দা, একটি রান্নঘর, একটি বাথরুম ও ইউটিলিটি রয়েছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে মুজিববর্ষে সব গৃহ ও ভূমিহীনদের (ক শ্রেণির) ঘরসহ ভূমি উপহার দিতে সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে উপজেলা পিআইসি কমিটি। দুর্যোগ সহনীয় প্রতিটি ঘরে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ভূমি চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

ভূমিহীনরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছে এমন খরব পেয়ে আনন্দে ভাসছে পুরো উপজেলার গৃহহীন পরিবারগুলো। ভূমিহীনদের জন্য ঘর উপহার দেওয়ার ফলে সিলেট সদর উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার গুলোর ভাগ্য বদলে যাবে। তারা পাবে মাথা গোজার ঠাঁই। অধীর আগ্রহে উপকারভোগীরা সময় পার করছেন কখন তাদের স্বপ্নের গৃহে উঠবে। আশ্রয়ণের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার মুজিববর্ষে সদর উপজেলায় গৃহহীন ও ভুমিহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবাসন হিসেবে প্রদত্ত খাস জমিতে গৃহ নির্মাণের কাজ করছে সদর উপজেলা প্রশাসন। সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে চলছে গৃহনির্মাণের কাজ খাদিমনগর ইউনিয়ন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন, মোগলাগাঁও ইউনিয়ন, জালালাবাদ ইউনিয়ন, টুলটিকর ইউনিয়ন, টুকের বাজার ইউনিয়ন ও হাটখোলা ইউনিয়ন।

আপাতত উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নে চাঁনপুরে ৩টি, খাদিমপাড়া ইউনিয়নে ৯টি, কান্দিগাঁও ইউনিয়নে ৭টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখান থেকে ১৭টি ঘর ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। মোগলাগাঁও ইউনিয়ন, জালালাবাদ ইউনিয়ন, টুলটিকর ইউনিয়ন, টুকের বাজার ইউনিয়ন ও হাটখোলা ইউনিয়নে সরকারি জমি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। খুব শিঘ্রই এই ৫ ইউনিয়নে ঘর নির্মানের কাজ শুরু হবে।

১৫ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ খাদিমনগর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৩টি ঘরের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। জমি চিহ্নিত করার কাজ শেষ হলেই পর্যায়ক্রমে সব গুলো গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ইতোমধ্যে ১৬ জানুয়ারী খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজারে সরেজমিনে গিয়ে তালিকাভুক্ত ৭৩ গৃহহীন উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মহুয়া মমতাজ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারিয়া সুলতানা। এসময় খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেন ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনছার আলী উপস্থিত ছিলেন। একই প্রক্রিয়ায় বাকি নির্মিত ঘর গুলো উপকারভোগীদের জন্য প্রদান করা হবে।

সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পিআইসি কমিটির সভাপতি কাজী মহুয়া মমতাজ বলেন, মুজিববর্ষে আমাদের উপজেলা মোট ১৪৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এর মধ্যে ১৯টি ঘরে কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উপকারভোগীদের ২ শতাংশ জমি দিয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। ১৭টি ঘর প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৩ জানুয়ারী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সবগুলো বাড়ি সরকার নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেটসহ অন্যান্য সুবিধা থাকছে এসব বাড়িতে। এই কাজ বাস্তবায়ন করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ভূমি অফিসের তহশিলদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের সরকারি জমি চিহ্নিত করতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে। ১৯৯৮ সাল থেকে সরকারি জমি বন্দোবস্ত বন্ধ ছিল। বর্তমানে সরকার সেটি বিশেষ ভাবে চালু করে প্রতিজন ভূমিহীনদের জন্য ২শতক করে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে। আমরা সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে যথা সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।