Sun. Apr 11th, 2021

সিলেটে ট্রাফিক অভিযান: বিপাকে অটোরিকশা ড্রাইভাররা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট মহানগরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিলেটে চলছে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে বিপাকে পড়েছেন রেজিষ্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভাররা।

রবিবার সকালে এয়ারপোর্টে এলাকার বাইপাস পয়েন্টে অনেক সিএনজি অটোরিকশা ড্রাইভারদের পুলিশের কাছে কাকুতি মিনতি করতে দেখা যায়। কয়েকজন ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব যখন চরম বিপর্যয়ে ঠিক এই সময়ে আমাদের পুলিশের দৌরাত্বে জীবন অতিষ্ঠ। ছেলে মেয়েদের মুখে সামান্য খাবার তুলে দেওয়ার জন্য এই শীতে ঘন কুয়াশার মধ্যে আমরা বাহির হই। সারাদিন গ্যাস, মালিক ইনকাম পর (৩০০-৪০০) টাকা আয় করি। এর মধ্যে আছে পরিবারের ভরণপোষণ বাচ্চাদের লেখা পড়ার খরচ। কোন ভাবে দিন আনি দিন খাই। তার উপর আছে অনেকের গাড়ির কিস্তি। এখন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় তেমন যাত্রী নেই। খুব কষ্টে আমাদের দিনযাপন করতে হয়।

নাম বলতে অনিচ্ছুক একজন ড্রাইভার জানান কদিন আগে আমার গাড়ি ধরে নিয়ে যাওয়া হয় প্রায় এক মাস অতিক্রম হওয়ার পর অনেক কষ্টে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ করে গাড়ি ছাড়িয়ে আনি। আজ আমি প্রতিদিনের মতো পেটের দায়ে ঘন কুয়াশার মধ্যে বের হই। আমার গাড়ি এই বাইপাস পয়েন্টে দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ করে ট্রাফিক পুলিশ আটক করে। পরিবারে ১০ জনের আহার জুটে এই গাড়ির আয় দিয়ে এই পরিস্থিতিতে এই গাড়ি আমার একমাত্র আয়ের উৎস। এখন আমার পরিবারকে না খেয়ে মরতে হবে। আমরা তো এদেশের কোন চোর না, আমরা এদেশের নাগরিক। আমার পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই। যদি সরকার ভারত থেকে গাড়ি গুলো আমদানি করতে না দিত। তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষ এই চোর পুলিশ খেলার দূর্ভোগে পরতে হতো না। অনেকে জায়গায় জমি বিক্রি করে কিস্তিতে গাড়ি কিনেছে। আজ তারা কোথায় যাবে। এখন নতুন সিএনজি অটোরিকশায় রেজিষ্ট্রেশন করা ও সিএনজি আমদানি বন্ধ করা সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ ইনচার্জ আবুল খয়ের জানান আমাদের চলমান ট্রাফিক অভিযানের অংশ হিসেবে আজ সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার বাইপাস পয়েন্টে অভিযান চালাছি। অভিযানে মধ্যে আছে রেজিষ্ট্রেশন বিহীন গাড়ি, ফিটনেস বিহীন গাড়ি, হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেল ত্রিপল রাইডার, নিষিদ্ধ যানবাহন,। আমাদের এ অভিযান আরো কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।