Thu. Mar 4th, 2021

২য় দফায় পেছালো এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ

ডেইলি বিডি নিউজঃ ২য় দফায় পিছিয়েছে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ।

আজ বুধবার (২৭ জানুয়ারি) স্বাক্ষীগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু স্বাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় ২য় বারের মতো পিছিয়েছে স্বাক্ষ্যগ্রহণ।

এর আগে গত রোববার (২৪ জানুয়ারি) ছিল স্বাক্ষীগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ। কিন্তু সেদিনও কোন স্বাক্ষী আদালতে যাননি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পিপি রাশিদা সাঈদা খানম। তিনি বলেন, আজও কোন স্বাক্ষী আদালতে আসেননি। তাই আরেকদফা পিছিয়েছে স্বাক্ষীগ্রহণের তারিখ।

তিনি জানান, এ ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। এরকটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অন্যটি চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগে। এই দুই মামলায় পুলিশ পৃথক অভিযোগপত্র দিয়েছে। আমরা এই দুই মামলা একত্রে বিচারের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে আবেদন করবো।

এ মামলায় মোট ৫১ জনকে স্বাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।

এদিকে সকাল ১১টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হকের আদালতে ৮ ধর্ষককে উপস্থিত করা হয়।

উল্লেখ্য: গত রোববার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো.মোহিতুল হকের আদালত আলোচিত এ ধর্ষণ মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।

ওই দিন ধর্ষণ মামলার আসামী সাইফুর রহমান, মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল হাসান ইসলামের পক্ষে অভিযোগপত্রের উপর ডিসচার্জ পিটিশন দাখিল করলে আদালত শুনানী শেষে তা না মঞ্জুর করেন। একই সাথে অর্জুন লস্কর ও মাহবুবুর রহমান রনির আইনজীবীরা জামিন চাইলে আদালত তা না মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে অভিযোগ করে এই মামলার অভিযোগপত্র প্রদান করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

পরে ৩ জানুয়ারি (রোববার) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এই মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ছিলো। এদিন বাদীর পক্ষে আদালতের কাছে সময় প্রার্থনা করা হয়। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি থাকলে তা জানাতে এক সপ্তাহের সময় প্রদান করেন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মোহিতুল হক। পরে ১০ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারত করেন আদালত।

পরবর্তীতে ১০ জানুয়ারি (রোববার) সকালে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মো. মোহিতুল হকের আদালতে বাদীপক্ষ ফের দুদিন সময় বাড়ানোর আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন।

পরে ১৩ জানুয়ারি বুধবার নির্ধারিত তারিখে এই মামলার অভিযোগপত্রভূক্ত ৮ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী। কলেজের গেট থেকে স্বামীসহ তাকে ধরে ছাত্রাবাসে এনে স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ ধর্ষণ করে ছাত্রলীগের কর্মীরা।