Fri. Mar 5th, 2021

সুনামগঞ্জ ব্রীজ থেকে বিশ্বম্ভরপুর: এত ভাঙ্গা সড়ক অতীতে দেখেনি কেউ !

মিজানুর রহমান: বিশ্বম্ভরপুর চালবন পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জের আঃ জহুর ব্রীজ পর্যন্ত ভাঙ্গা রাস্তা নিয়ে চরম বিরক্ত সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের দাবী অতীতে কোন সময় এত ভাঙ্গা সড়ক দেখেনি জনগণ। তাই সরকারের ইমেজ ধরে রাখতে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবী জানান সচেতন মহল। মানুষ রাস্তায় বের হলেই সরকারের সমালোচনা করে। নারী পুরুষ সবাই শুধু ভাঙ্গা রাস্তা নিয়ে কথা বলে কারণ মানুষ সত্যিকার অর্থে রাস্তায় চলতে চরম অসুবিধায় পড়ছে। সুনামগঞ্জ হলো হাওরাঞ্চল তবে সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে, মানুষ কিন্তু সে গুলো নিয়ে কথা বলে না, শুধু রাস্তার সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মানুষ দৃশ্যমান কাজে বিশ্বাসি বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিপুল উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে এটা সত্য কিন্তু সেই উন্নয়ন থেকে মানুষ এখনো সুবিধা পায়নি বরং মানুষ রাস্তা ঘাটে চলাচল করতে চরম অসুবিধায় পড়ছে সেটাই বেশি দেখছে।তাই সাধারণ জনগণ যে সমালোচনা করবে সেটাই বাস্তবতা। বিশ্বম্ভরপুর সরকারি দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন যে, দুর্ঘটনা এড়ানোর রোধে ও যাত্রীসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা উচিত।

জনগণ মনে করেন শহরের প্রধান সড়ক যদি সড়ক বিভাগ সুনামগঞ্জ উন্নয়ন কতৃপক্ষকে হস্তান্তরও করে তাহলে উন্নয়ন কতৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল সড়কটি সচল রাখা। সুনামগঞ্জের অনেক সড়কের উন্নয়ন হচ্ছে তবে বাকি সড়ক গুলোর বেহাল অবস্থা কেন? সেটার কি জবাব দেবে সড়ক বিভাগ। আমাদের মতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।

মোট কথা সরকার যতই উন্নয়ন কর্মকান্ড করুক না কেন মানুষ কিন্তু সুনামগঞ্জের চালবন পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জ ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তাঘাট নিয়ে খুব বিরক্ত সাধারণ জনগণ। চালবন পয়েন্ট এর কয়েকজন বলেন যে,আমাদের সামনের সড়ক এক সময় মাটির ছিল পরে ইট বিছিয়ে গাড়ি চলতো এরপরে পাকা রাস্তা হয়েছে অনেক কিছুই দেখেছি তবে রাস্তার এরকম করুণ অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। জানিনা কর্তৃপক্ষ কি করে। তারা বলেন,আব্দুল জহুর ব্রীজের পশ্চিম পাশের বেশির ভাগ সড়ক এতই নাজুক মানুষ রাস্তায় বের হলেই মন্দ কথা বলে।

লালপুরের এক ব্যবসায়ী বলেন যে,আমার দীর্ঘ জীবনে সুনামগঞ্জের প্রধান সড়কের এত ভাঙ্গা অবস্থা আর দেখিনি। প্রত্যেক মানুষ গাড়ি চড়লেই সরকারের সমালোচনা করে নারী হউক আর পুরুষ হউক রাস্তা দিয়ে চলতেই সরকারকে নিয়ে ব্যাপক আজে বাজে কথা বলে। আর বলারই কথা কারণ যদি ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে ১ ঘন্টা লাগে তখন মানুষের শরীরের অবস্থা নাজুক হয়ে যায়।

রোহিঙ্গা নিয়ে সরকার বা বিদেশী সংস্থা হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে কিন্তু নিজেট দেশের স্থানীয় জনগনের রাস্তাঘাট নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে সেটা দেখার যেন কেউ নেই। এসব নিয়েও মন্তব্য করে সাধারণ জনগণ। এতে বর্তমান সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে জানান সচেতন মহল। স্থানীয় নেতারা বলেন যে, এ রাস্তা নিয়ে উপর মহলে অনেকবার গিয়েছি তারা আশ্বাস দিয়েই গেছে কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না, মানুষ চায় কাজ সেই কাজ দেখাতে পারছিনা এটাই আমাদের বড় ব্যর্থতা। তবে সড়কের এমন নাজুক পরিস্থিতির জন্য সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফেলতীকে বেশি দায়ি করেন জনগণ। কারণ তারা সঠিক সময়ে পরিকল্পনা নিলে আজকের এই অবস্থা দেখতো হতো না।এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, টেন্ডার হয়েচে শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।