Sun. Apr 11th, 2021

সিলেটে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল, কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটে করোনাভাইরাসের ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এজন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলাসহ সারাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দেয়া হয়েছে কর্মস্থল ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং মেডিকেল কলেজের পরিচালকদের সঙ্গে অনলাইন সভা শেষে একথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, শুক্রবারসহ সরকারি ছুটির দিনে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রস্তুত আছেন। এখন পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি মানুষ টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন। যারা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন না তাদের সহায়তা করবেন মাঠ স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম চালানে সিলেটে আনা ১৯ কার্টন টিকার মধ্যে প্রতিটি কার্টনে ১ হাজার ২০০টি ভায়াল রয়েছে। প্রতি ভায়ালে ১০ ডোজ করে টিকা রয়েছে। সে হিসাবে ২ লাখ ২৮ হাজার ডোজ টিকা এসেছে সিলেটে। কোল্ড চেইন বজায় রেখে এসব টিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ইপিআই স্টোরে রাখা হয়েছে।

সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল জানান, সিলেটে প্রথম দফায় আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর জন্য সিলেট জেলায় টিকাদানের জন্য ১৫৩টি সেন্টার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি সেন্টার সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এলাকায় এবং ১২৮টি সেন্টার সিভিল সার্জনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন উপজেলায়। সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য বরাদ্দকৃত শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথমে টিকা পাবেন বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগর এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। টিকা গ্রহণকারীদের রেজিস্ট্রেশনের ওপর ভিত্তি করে ইপিআই স্টোর থেকে মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা সরবরাহ করা হবে।

ইতোমধ্যে টিকা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ২২ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। একইভাবে জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডলকে সদস্য সচিব করে জেলা পর্যায়ের ৮ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টিকাদানের জন্য ৭২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। সিলেট মহানগর এলাকার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের নির্ধারিত কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে। প্রত্যেক টিকাদান কেন্দ্রে ২ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। টিকাদান পরবর্তী শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ৭ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম থাকবে।

সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল আরও বলেন, আগামী মাসে টিকার দ্বিতীয় চালান আসার কথা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট করে কত তারিখে টিকা আসবে, সেটি বলা যাচ্ছে না। টিকা দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে। তবে তালিকায় কতজন আছেন, সেটি বলা যাচ্ছে না। টিকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।