Sun. Apr 11th, 2021

কথিত সেবায়েতের বিরুদ্ধে তারাপুর চা বাগানের ভূমি লিজ ও দোকান কোঠা বিক্রির অভিযোগ

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটের তারাপুর চা বাগানের কথিত সেবায়েতের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চা বাগানের ভূমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে লিজ প্রদান ও বিক্রি এবং চা বাগানের জমিতে দোকান কোঠা নির্মাণ করে তা বিক্রি ও চড়া জামানত নিয়ে ভাড়া প্রদানের অভিযোগ করেছেন বাগান সংলগ্ন এলাকাবাসী। চা বাগান সংলগ্ন কুচার পাড়ার মো. মুহিবুর রহমান, করের পাড়ার মো. জাকির আহমদ, গুয়াবাড়ির মো. আলম ও উপরপাড়ার হাবিবুর রহমান আবির গত ২৭ জানুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এক আবেদন দাখিল করেন। অভিযোগকারীরা বর্ণিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

লিখিত অভিযোগে তারা বলেন,আমরা সিলেটের তারাপুর চা বাগানের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা। তারাপুর চা বাগান শুধু আমাদের এলাকার সৌন্দর্য নয়; বরং বাংলাদেশের সৌন্দর্যে অবদান রাখার পাশাপাশি চা শিল্পে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেবে-এমন কামনাই করি। কিন্তু, বিগত কয়েক বছর যাবত কথিত সেবায়েত দ্বৈত নাগরিক (ভারতীয় নাগরিক) পংকজ কুমার গুপ্ত বাগানের উন্নয়ন না করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে বাগানটি ধ্বংসের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছেন। তিনি বাগানের উন্নয়ন না করে চা গাছ উচ্ছেদপূর্বক রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উত্তর গেটের উত্তর পার্শ্বে চা চাষাবাদের জমিতে আঠারোটি দোকান কোঠা নির্মাণ করেন। তার মধ্যে কিছু দোকান বিক্রি করেন এবং কিছু দোকান চড়া জামানত নিয়ে ভাড়ায় দেন। শুধু তাই নয়, তিনি পার্শ¦বর্তী এলাকার স্থানীয় ভূমি খেকোর কাছে চা বাগানের জমি অনিবন্ধিত চুক্তির মাধ্যমে লীজ প্রদান ও বিক্রয় করে আসছেন। সম্প্রতি মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এক রিভিউ আদেশে দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষিত এই বাগান পরিচালনার লক্ষ্যে এগারো সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করেন। এমন নির্দেশের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন পংকজ কুমার গুপ্ত। তিনি তাড়াহুড়ো করে বাগান এলাকার যতটুকু সম্ভব ভূমি লীজ প্রদান ও বিক্রয় করছেন। সম্প্রতি তিনি বনকলাপাড়া, পীরমহল্লা ও মালনীছড়া এলাকা সংলগ্ন তারাপুর চা বাগানের ভূমি বিভিন্ন লোকের কাছে লীজ প্রদান ও বিক্রয় করছেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়,তিনি মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বিরাট অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং টাকা পয়সা আত্মসাৎ করে ভারতে পলায়ন করার পাঁয়তারা করছেন। তিনি পালিয়ে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হবে। কেননা, সিলেটে তার কোন স্থায়ী ঠিকানা নেই। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে এসব বিষয় প্রচার ও প্রকাশ হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এইভাবে চলতে থাকলে অচিরেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখা ঐতিহ্যবাহী চা বাগানটি ধ্বংস হয়ে যাবে। এ কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষতির বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে’-অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।