Sun. Apr 11th, 2021

দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৩১ লাখ, বৈধ চালক সাড়ে ১৭ লাখ

ডেইলি বিডি নিউজঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরযান চালালে রয়েছে জেল-জরিমানার বিধান। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনে এ শাস্তি আরো কঠোর হয়েছে। তার পরও কমেনি ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যান চালানোর প্রবণতা। আর চলাচলকারী যানের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেই আইন অমান্যের এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩১ লাখ ২৫ হাজার। বিপরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যা ১৭ লাখ ৫৩ হাজার। ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের কারণে দুর্ঘটনাও তুলনামূলক বেশি মোটরসাইকেলে।

শহর কিংবা গ্রাম—সবখানেই সমান জনপ্রিয় মোটরসাইকেল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বাহনটির বেচাকেনা। সঙ্গে বেড়েছে দুর্ঘটনাও। বেসরকারি তথ্য বলছে,২০২০ সালে দেশে যত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে,তার ২৭ শতাংশই হয়েছে মোটরসাইকেলে। বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী,দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৩১ লাখ ২৫ হাজার। বিপরীতে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী মোটরসাইকেল চালকের সংখ্যা ১৭ লাখ ৫৩ হাজার। সংখ্যার হিসাবে প্রায় ১৪ লাখ মোটরসাইকেল চালকের লাইসেন্স নেই।

তবে এ সংখ্যাটি আরো কয়েক গুণ বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের যুক্তি, মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিয়ে এর চালকের সংখ্যা নিরূপণ করা যায় না। কারণ পরিবারে যদি একটি মোটরসাইকেল থাকে, তাহলে সেটি কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরাও ব্যবহার করেন। এমনও দেখা যায়, পরিবারে মোটরসাইকেল একটি, কিন্তু সেটি চালান অন্তত পাঁচজন। কাজেই মোটরসাইকেলের সংখ্যার চেয়ে বাহনটির চালকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি বলে মনে করেন তারা। বিপুলসংখ্যক চালকের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও সচেতনতা না থাকায় দেশে মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনার হার বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলন। নিসচার তথ্য বলছে, ২০২০ সালে সারা দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে ১১২৭টি, যা মোট দুর্ঘটনার ২৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে এ হার ছিল ১৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮ শতাংশ।

নিসচার চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন জানিয়েছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে মোটরসাইকেল চালকরা তুলনামূলক আইন মেনে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু জেলা ও গ্রামাঞ্চলে এ প্রবণতা অনেক কম। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বাহন নিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকরা। একইভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও আইন না মেনে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালায়। অবৈধ চালক, অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক আর বেপরোয়া ড্রাইভিং—মূলত এ তিন কারণে সিংহভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করেন তিনি।

সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনসহ অনিয়ম-বিশৃঙ্খলায় সবচেয়ে বেশি জড়িত থাকে মোটরসাইকেল—এমন তথ্য পাওয়া গেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যানেও। গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএমপির ট্রাফিক আইনে করা মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেদিন ট্রাফিক আইনে মোট মামলা হয় ৭৪৬টি।

এর মধ্যে মোটরসাইকেলে মামলার সংখ্যাই ৫৪২। মোটরসাইকেল মামলার বড় অংশই চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার অপরাধে দায়ের করার কথা জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নজরদারির দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতা আর দুর্নীতিকে দায়ী করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো বিআরটিএ। কিন্তু বাস্তবে তারা কতটুকু কাজ করছে? ফাঁকির সুযোগ আছে বলেই কিন্তু চালকরা লাইসেন্স নেয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লাইসেন্স গ্রহণের সময় গ্রাহক ভোগান্তি। আমাদের এখানে প্রক্রিয়াটি এত জটিল আর দুর্নীতিতে পূর্ণ করে রাখা হয়েছে যে চালকরা লাইসেন্স করাতে আগ্রহী হন না। কিংবা আগ্রহী হলেও ভোগান্তির কারণে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। এ অবস্থা বদলানোর জন্য বিআরটিএতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন তিনি।