Sun. Apr 11th, 2021

চলতি মাসেই রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটে চাঞ্চল্যকর রায়হান হত্যা মামলায় ফেব্রুয়ারি মাসেই আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চলতি মাসের কত তারিখে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি মামলা তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পুলিশ ব্যুরা অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পুলিশ সুপার মো. খালেদ উজ্জামান বিসয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর। অনেক কিছু মাথায় রেখে কাজ করছে পিবিআই। তাই তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা। সম্প্রতি এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া পুলিশের এসআই বরখাস্তকৃত হাসান আলীকে একদিনের রিমান্ড নিয়েছে পিবিআই। রিমান্ডে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক টুআইসি এসআই হাসান আলী।

কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিষয়ে মো. খালেদ উজ্জামান বলেন, নোমামের অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে পিবিআই। তার কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলী পিবিআইকে জানায়, রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবরকে (বরখাস্ত) পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন তিনি। আকবরকে বাঁচাতে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাথে নিয়ে ফাঁড়ির সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার পাশাপাশি পাল্টে দেন হার্ডডিস্ক। তবে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হননি এসআই হাসান। এর আগে গত শনিবার হাসানকে রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

পিবিআই সিলেটের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন জানান, গত ২৯ জানুয়ারি এসআই হাসানকে গ্রেফতারের পর একদিনের রিমান্ড নেয়া হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদে কি তথ্য পাওয়া গেছে সে বিষেয় কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

সূত্র জানায়, রায়হান হত্যার পর ২১ অক্টোবর এসআই হাসানকে সাময়িক বরখাস্ত করে মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তাকে সিলেট পুলিশ লাইন্সে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়। রায়হান হত্যার পর এ পর্যন্ত আকবরসহ ৫ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর রাতে সিলেট নগরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এনে নির্যাতন করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন। পরদিন ভোরে সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা হলে সেখানে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে তদন্ত করছে পিবিআই।

এরপর সিলেট মহানগর পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি হত্যাকান্ডের সাথে ফাঁড়ি পুলিশের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পায়। পরে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এর পরপরই লাপাত্তা হন প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর। তাকে পালাতে সহযোগিতা ও রায়হান হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় এসআই হাসান আলীসহ আরো চার পুলিশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।