Fri. Feb 26th, 2021

আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৫ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা

ডেইলি বিডি নিউজঃ বগুড়ায় মোটর মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার দলীয় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে মোটর মালিক গ্রুপের যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম পক্ষের ডাকা পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে তার ও অন্যান্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের একপেশে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চারমাথা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে মোটর মালিক গ্রুপের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় পুলিশ কনস্টেবল রমজান আলীকে ছুরিকাঘাতসহ সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক নান্নু খান বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনসহ ৬ জনের নামোল্লেখ করে আড়াইশ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে মোটর মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তার অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নামোল্লেখসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মীর নামে আরেকটি মামলা করেছেন।

এছাড়াও মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষে তার ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন বাদী হয়ে পেট্রোল পাম্প ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগে আমিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে শতাধিক নেতাকর্মীর নামে আর একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত আটক ১৪ জনকে ওই তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আমিনুল পক্ষের ডাকা অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠক হয়। বৈঠকের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরের পর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা জানান, ফলপ্রসূ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম মোহনের পক্ষে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মালিক সমিতির বিগত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফটিক অধিকারী। তিনি মোহনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের একপেশে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেসঙ্গে সাধারণ মালিকদের ওপরে হামলায় জড়িত আমিনুল ও তার সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।