Sun. Apr 11th, 2021

করোনায় বিপর্যস্ত বিমানঃ আয়হীন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মাসে ব্যয় ২২০ কোটি টাকা

ডেইলি বিডি নিউজঃ করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আয় কমলেও ব্যয় কমছে না। এই মুহূর্তে প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটির উড়োজাহাজ ক্রয়ের কিস্তি, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বীমার কিস্তি বাবদ প্রায় ২২০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন-ভাতা, জ্বালানি খরচ ও পরিচালন ব্যয় ধরে মাসিক ব্যয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় উঠে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ১ হাজার কোটি টাকার ঋণ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলসহ অপারেশনাল ব্যয় মেটাতে এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে ১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে বিমান। তবে মহামারীতে ব্যয়ের তুলনায় আয় কমে যাওয়ায় এখন প্রতিষ্ঠানটি আগের ঋণের কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় মূলধন বাবদ আরও হাজার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিস্থিতি এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, তারা এখন আর প্রবাসী বাংলাদেশির লাশ এবং বিভিন্ন দেশের পাঠানো ত্রাণ আনতেও স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ মওকুফের আবেদনে সাড়া দিতে পারছে না। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংস্থার আমদানিকৃত পণ্যের স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি কর্মীর মৃতদেহ পরিবহনসহ বিভিন্ন চার্জ বিমানকে মওকুফের আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে বরং পরিশোধ করার অনুরোধ জানিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাবেরা আক্তার জানান, তারা বিমানের কাছ থেকে এ বিষয়ে চিঠি পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যাতে বিমানের স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ অর্থ বরাদ্দ রাখে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নিজস্ব অর্থায়নে এর আয়-ব্যয় পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে সরকারি কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে গত বছরের মার্চ থেকে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ৩৫ শতাংশ ফ্লাইট পরিচালন করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরোপিত বিধি অনুযায়ী আবার প্রতি ফ্লাইটে উড়োজাহাজের দুই-তৃতীয়াংশ আসনে যাত্রী পরিবহন করার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ছাড়া বিমানের নিজস্ব ১৪টি উড়োজাহাজ আছে। বর্তমান সময়ে এর অধিকাংশ বসে থাকলেও ইঞ্জিন সচল রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর স্টার্ট দিতে হয়। প্রতি স্টার্টে বিপুল পরিমাণ জ্বালানির খরচ বিমানকে বহন করতে হয়। এ ছাড়া ফ্লাইট না থাকলেও পাইলটসহ বিমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ অর্থ বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন চার্জ মওকুফের আবেদন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, মহামারী শুরু হওয়ার পর শুধু কভিড-১৯ মোকাবিলায় আমদানিকৃত ভ্যাকসিন, মাস্কসহ বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল উপকরণ আমদানির পর স্টোরেজ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ প্রায় ২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে মওকুফ করেছে বিমান। ভাসানচরে স্থানান্তরিত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য সম্প্রতি সিঙ্গাপুর থেকে যে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে সে বাবদ বিমানের প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার কার্গো স্টোরেজ ও হ্যান্ডলিং চার্জ মওকুফ করতে হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালে প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশি কর্মীদের লাশ বিনা খরচে আনা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। করোনা মহামারীর কারণে আর্থিকভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের নানামুখী ব্যয় মওকুফের সামর্থ্য এই মুহূর্তে নাই বলে বিমানের কর্মকর্তারা বলছেন।