Mon. Mar 8th, 2021

সিলেটে ব্যাংক কর্মকর্তা হত্যায় গ্রেপ্তার নেই, আন্দোলনে ব্যাংকাররা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট নগরের বন্দরবাজারে ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে এঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন সিলেটের ব্যাংকাররা।

সোমবার তারা বিক্ষোভের পর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।এতে খুনিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও ঘাতকদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করবেন ব্যাংকাররা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনায় নগরের চৌহাট্টায় মানববন্ধন ডেকেছেন ব্যাংকাররা।

শনিবার সন্ধ্যায় বন্দরবাজার এলাকায় ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদের ওপর হামলা করে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই রাতেই তিনি মারা যান।

নগরের চৌহাট্টায় পরিবহন শ্রমিকরা মেয়র, পুলিশ ও সংস্কার কর্মীদের ওপর হামলার তিন দিনের মাথায় অটোরিকশা শ্রমিকদের হামলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো।

ব্যাংক অফিসার্স ক্লাব সিলেটের সভাপতি সৈয়দ মো. নকিব হোসেন বলেন, ব্যাংকার হত্যার প্রতিবাদে লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ার আলোচনা চলছে।

অগ্রণী ব্যাংক অফিসার্স সমিতি সিলেটের সভাপতি ওলিউর রহমান জানান, পিটিয়ে হত্যা করা মওদুদ আহমেদ (৩৫) আমার সহকর্মী। তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক, হরিপুর গ্যাস ফিল্ড শাখার অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নগরীর রাজারগলির একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। মুল বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার টেংগুরিপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মো. আব্দুল ওয়াহেদ। সোমবার জানাজা শেষে তার লাশ দাফন হয়েছে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আড়াল করার অপচেষ্টা ছিল ঘাতকদের। হত্যার বিষয়টি ফাঁস হলেও জানাজানি হতে সময় লেগে যায়। সোমবার আমরা নগরীতে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছি। মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছি। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে গত শনিবার বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের পিটুনিতে নিহত ব্যাংকার মওদুদ আহমেদ হত্যা মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তাদের অনেক তথ্য এখন পুলিশের হাতে। আসামিরাও যে কোনো মুহূর্তে ধরা পড়বে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকালে জৈন্তাপুরের হরিপুর থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় নগরীর বন্দরবাজারে আসেন ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ। একপর্যায়ে চালক নোমান হাছনুরের (২৮) সাথে ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় মওদুদের। তখন হাছনুরসহ সিএনজি অটোরিকশা চালকরা মওদুদ আহমেদকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রচার চালায় পরিবহন শ্রমিকরা।

নিহত মওদুদের বড়ভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের টুকেরগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে সিএনজি অটোরিকশাচালক নোমান হাছনুর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।