Main Menu

জকিগঞ্জে পুলিশের বিরুদ্ধে মাদকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : তোলপাড়

ডেইলি বিডি নিউজ: সিলেটের জকিগঞ্জে ইয়াবা উদ্ধারের পর মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উদ্ধার মাদক ব্যবসার টাকা গায়েব করে দিয়েছে পুলিশ। মাদক মামলার এজাহারে ও সিজার লিস্টের কোথাও নগদ টাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। পুলিশের মাঝেও নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। মাদকের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান ও থানার ওসির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

জানা যায়,১৫ আগস্ট জকিগঞ্জ থানার এসআই তন্ময় কান্তি দাস,এএসআই সিদ্দিকুর রহমান,কনস্টেবল নাইমুল ইসলাম ও জাহেদুল ইসলাম বিরশ্রী ইউনিয়নের বড়চালিয়া গ্রামে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার ৫শ টাকা জব্দ করে আসামিদের থানায় নিয়ে আসে। পরে এসআই তন্ময় কান্তি বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানায় আসামিদের আনার পর নগদ টাকা ও উদ্ধার ইয়াবা আসামিদের সামনে রেখে ছবি তোলা হয়। কিন্তু টাকাসহ ছবি তোলা হলেও মামলায় ও জব্দ তালিকায় মাদক বিক্রির ৪০ হাজার ৫শ টাকা গায়েব করে ফেলা হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আসামিদের হইচই হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে আসামির বাড়িতে গিয়ে পায়ে-হাতে ধরে কিছু টাকা ফেরত দিয়ে পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়। জানা গেছে,৬টি মাদক মামলার আসামি আব্দুশ শুক্কুরকে আবারও মাদকসহ আটকের তথ্য ও ছবি গণমাধ্যমের কাছে পুলিশ পাঠালেও আসামিদের সামনে রাখা টাকার অংশটি কেটে শুধু আসামির সামনে ইয়াবা রাখা এমন ছবি পাঠানো হয়। তবে ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ পুলিশের তোলা আসামিদের আসল ছবিটি এসেছে।

মামলার এজাহারে জানা যায়,১৫ আগস্ট জকিগঞ্জ থানার এসআই তন্ময় কান্তি দাস, এএসআই সিদ্দিকুর রহমান,কনস্টেবল নাইমুল ইসলাম ও জাহেদুল ইসলাম ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক উদ্ধার করতে থানায় ৫২৮ নাম্বার সাধারণ ডায়েরি করে অভিযানে বের হন। তারা জানতে পারেন আব্দুশ শুক্কুরের (৫৮) বসতঘরে সে ও তার সহযোগী ব্যবসায়ীরা মাদক বিক্রির জন্য অবস্থান করছে। তারা অভিযান চালিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী বড়চালিয়া গ্রামের জহরলাল পাল (৫৫),একই গ্রামের সজল পালের (৩৬) উপস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ী আব্দুশ শুক্কুর (৫৮),কোনাগাঁও গ্রামের হোছন আহমদ (৩৩) ও উত্তর মইয়াখালী গ্রামের ইমরান আহমদকে (২৩) ১৫১ পিস ইয়াবাসহ আটক করে অভিযানিক দল। পরে জব্দ তালিকা মূলে ইয়াবা জব্দ করে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে জহরলাল পাল,সজল পাল ও পুলিশ কনস্টেবল জাহিদুল ইসলামের স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়। পুলিশের প্রস্তুত জব্দ তালিকার বিবরণীতে দেখা যায়,সাক্ষীদের উপস্থিতিতে গ্রেফতার আসামিদের দেহ তল্লাশি করে ১৫১ পিস ইয়াবা জব্দ করেন মামলার বাদী এসআই তন্ময় কান্তি দাস। মামলার বাদী টাকার বিষয়টি আড়াল করে শুধু ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করেন জব্দ তালিকায়।

সজল পাল বলেন,আব্দুশ শুক্কুরকে গ্রেফতারের পর পুলিশ রাস্তা থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ১৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার ও নগদ ৪০ হাজার ৫শ টাকা পাওয়ার বিষয়টি জানায়। তিনি ইয়াবা ও পুলিশের হাতে থাকা এক বান্ডিল টাকা দেখেছেন। গ্রেফতার আব্দুশ শুক্কুরের ছেলে শাব্বির আহমদ যুগান্তরকে বলেন,ইয়াবা ও টাকাসহ তার বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলায় টাকার বিষয়টি উল্লেখ না করায় কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানও হয়ে গেছে।

আমরা কিছু টাকা পেয়েছি,কিছু টাকা মাইর গেছে। শনিবার পুলিশ দুবার বাড়িতে গিয়ে পায়ে-হাতে ধরছে, তারার চাকরি চলে যাবে বলছে। পুলিশ তাদের টাকার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বাধা নিষেধ করেছে। তাই তিনি এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,টাকা মাদকের সঙ্গে ছিল না। ঘরের অন্য কক্ষ থেকে তারা নিয়ে গিয়েছিল। আসামিদের সামনে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসার টাকা রেখে ছবি তোলা হলেও পরে টাকাগুলো আসামিদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। তাই মামলার জব্দ তালিকায় নগদ টাকার কথাটি উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার বাদী ও জকিগঞ্জ থানার এসআই তন্ময় কান্তি দাস বলেন,এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। ওসি স্যারের সঙ্গে কথা বলেন। জকিগঞ্জ থানার ওসি আবুল কাসেম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন,টাকা ছিল না। শুক্কুর আলী বাড়িতে গিয়ে কথাও বলেননি বলে দাবি করেন ওসি। সূত্র- দৈনিক যুগান্তর






Related News

Comments are Closed