|
এই সংবাদটি পড়েছেন 1,613 জন

চলেই গেলেন দিতি

ডেইলি বিডি নিউজঃ ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে চলে গেলেন দেশিয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা নায়িকা দিতি। আজ রবিবার বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইইউ)তে অবস্থান করছিলেন দিতি। মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন দিতির দুই সন্তান।

ইউনাইটেড হাসপাতালের ডা. সাগুফতা জানান, মৃত্যুর আগমূহুর্তে দিতির শারিরিক অবস্থার অবণতি ঘটে। কৃত্রিম পর্যায়েও শ্বাস নিতে পারছিলেন না।একপর্যায়ে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

দিতির মৃতদেহ এখনো আইসিইউতেই রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডা. সাগুফতা। স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

মস্তিস্কে ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর দিতিকে মাদ্রাজের ইন্সটিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা আশানুরূপ ফলাফল জানাতে পারেননি। তাই চলতি বছরের শুরুতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

টানা তিন মাস ক্যানসার চিকিৎসার পর ভারতের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতাল থেকে গেল ৮ জানুয়ারি অসুস্থতা নিয়েই দেশে ফিরেন অভিনেত্রী দিতি। একই দিন সরাসরি ভর্তি করানো হয় গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে। এতদিন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তাঁর পুরো নাম পারভীন সুলতানা দিতি। ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ তার জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে দিতির সম্পৃক্ততা ঘটে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘আমিই ওস্তাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু।

এরপর দিতি প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে তিনি আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতেই অভিনয় করে দিতি প্রথমবারেরমতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

গেল ক’বছর দিতি ছোট পর্দায় নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। একক ও ধারাবাহিক নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন । সঙ্গে রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানে উপস্থাপনাও করেছেন সাফল্যের সঙ্গে।

দিতির দুই সন্তান। ছেলে দীপ্ত এবং লামিয়া।