Main Menu

সিরিজ বোমার ১১ বছর : জঙ্গিরা বেপরোয়া, অনেকেই জামিনে

ডেইলি বিডি নিউজঃ দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলার ১১ বছরপূর্তি আজ। ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও সবগুলো মামলার বিচার কাজ এখনও শেষ হয়নি। জঙ্গিরা এখনও বেপরোয়া, অনেক জঙ্গি আবার জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে।

ঘটনার জন্যে দায়ি ‘জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)’ প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ হলেও ভিন্ন ভিন্ন নামে গোপনে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। প্রকাশ্য হয়ে খুন করে যাচ্ছে মুক্তচিন্তার মানুষদের। হামলা চালিয়েছে গুলশানে, শোলাকিয়া সহ আরও অনেক স্থানে।

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলা গুরুত্বপূর্ণ ৪শ’টি স্থানে বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ আতংক। আর এর মাধ্যমে শক্তিমত্তার জানান দিয়েছিল ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনটি জেএমবি। ওই বোমা হামলায় ২ জন নিহত এবং ২ শতাধিক সাধারণ মানুষ আহত হন।

সিরিজ বোমা হামলার পাশাপাশি ওই সময় জঙ্গি এ সংগঠনটি সারা দেশে একটি লিফলেট ছড়িয়ে দেয়। ওই লিফলেটে দেশে কর্মরত বিচারকদের প্রতি দেশে ইসলামী হুকুম কায়েম করার আহ্বান জানানো হয়। আর তাদের এ আহ্বানে সাড়া না দিলে জেএমবি কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে বলে লিফলেটে উল্লেখ করা হয়।

তাদের ভাষায়, ‘তাগুতি আইন বাদ দিয়ে বিচারকদের প্রতি ইসলামী আইনে বিচার শুরু করার কথা বলা হয়। জেএমবির লিফলেটে সতর্কবাণী উল্লেখ করা হয়, ‘আমরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারপর আবার হামলা শুরু হবে।’ জঙ্গি সংগঠনটি মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারা দেশে বিভিন্ন থানায় ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় ৬শ’র মতো জেএমবি সদস্যকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১০২টি মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। এসব মামলার রায়ে ৪৫ জঙ্গির ফাঁসির আদেশ হয়। এর মধ্যে ২০০৭ সালে শীর্ষ জঙ্গি নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম, খালেদ সাইফুল্লাহ, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হাসান আল মামুনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়। অন্যদিকে উচ্চ আদালতে আপিল করায় ফাঁসি কার্যকর আটকে আছে ৩৯ জঙ্গির। এছাড়া ১১৮ জন জঙ্গিকে যাবজ্জীবন ও ৯৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এছাড়া বিচারাধীন রয়েছে ৫৯টি মামলা। এসব মামলার দেড় শতাধিক আসামি জামিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছে। পাশাপাশি মামলা দায়েরের পর থেকে অদ্যাবধি পলাতক রয়েছে ৫৮ জন আসামি।

গত ১১ বছরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জঙ্গিবিরোধী তৎপরতায় এ সংগঠন কোণঠাসা হলেও সম্ভব হয়নি তাদের নির্মূল করা। বিভিন্ন ঘটনায় মাঝেমধ্যেই নাম আসে জেএমবির।

২০০৫ সালে ওই সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ১৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ঢাকার ৮টি আদালতে এখনও ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলার কার্যক্রম অনেক দিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। এর মূল কারণ সাক্ষীদের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি। ঢাকার আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর ২৫৬ জন সাধারণ সাক্ষীর বিরুদ্ধে আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রেখেছেন।

এসব মামলায় সাক্ষী হিসেবে থাকা দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সাধারণ সাক্ষীর পাশাপাশি এসব পুলিশ সদস্যও আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন না।

জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার পরও সংগঠনের সদস্যরা ছদ্মবেশে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ২০০৭ সালের ২৯ মে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও কাশিমপুর কারাগারে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল ও ইফতেকার হাসান মামুনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়।

তারপর সংগঠনের দায়িত্ব নেন মাওলানা সাইদুর রহমান। তিনি গ্রেপ্তার হলে পরবর্তী সময় মাওলানা সায়েম দলটির হাল ধরেন। আত্মগোপনে থাকা অনুসারীরা বিভিন্ন কারাগারে গিয়ে আটক জঙ্গি নেতাদের দিকনির্দেশনা নিচ্ছে বলে অভিযোগ।






Related News

Comments are Closed