Main Menu

লীগ শব্দের ব্যবহারে কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

ডেইলি বিডি নিউজঃ মূল দল আওয়ামী লীগ, ৬ সহযোগী এবং ২ ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাড়া ‘লীগ’ শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা অন্য কোনো সংগঠন কৌশলে যাতে নামের শেষে লীগ শব্দ বা বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনো সদস্যের নাম ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে একমত হয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিয়ে খুব শিগগির গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হবে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬ সহযোগী সংগঠন- আওয়ামী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ শুধু সংগঠনের নামের সঙ্গে ‘লীগ’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। আরেক সহযোগী সংগঠন আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নামের সঙ্গে লীগ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা বলেন, এ নিয়ে ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পরে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করলে তিনিও এতে সায় দেন। তাই বলা যায়, অনানুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। হয় তো দ্রুতই তা গণমাধ্যমে জানানো হবে।

সূত্র জানায়, দল ও সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে এ উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যত্রতত্র ‘লীগ’ শব্দের ছড়াছড়ি এবং লীগ শব্দ ব্যবহার করে অসাধুদের বাণিজ্য বন্ধ করতে এ নিয়ে দল হার্ডলাইনে থাকবে। যারা এ নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে রাজি না হলেও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ দেশের সুপ্রাচীন রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রের বিকাশে এবং জাতি গঠনের প্রতিটি সোপানে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায় করে, লীগ শব্দের অপব্যবহার করে, দলের সুনাম নষ্ট করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিভিন্ন সংগঠন তাদের নামের সঙ্গে লীগ শব্দটি যোগ করছে, কেউ আবার বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারও নাম ব্যবহার করছে। এসব বন্ধ হতে হবে। কেননা লীগ শব্দের ব্যবহারে এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি থাকায় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়।’

সূত্রমতে, সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে উপস্থিত অন্য কেন্দ্রীয় নেতারাও তাতে (যত্রতত্র লীগ শব্দের ব্যবহার বন্ধে) সমর্থন দেন। পরে বিষয়টি তোলা হয় দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে। তিনি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল কোনো নেতা। দু’জন কেন্দ্রীয় নেতা যুগান্তরকে বলেন, গণমাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের আগে এ নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই।

২০০৯ সালে সরকার গঠনের পরপরই বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধু পরিবার এমনকি সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামেও নানা সংগঠন ব্যাঙের ছাতার মতো গজাতে থাকে। লীগ শব্দ দিয়ে শতাধিক সংগঠন দৃশ্যমান হয়। এসব সংগঠন ‘দোকান’ নামেই দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। এদের কাজই হল বিভিন্ন দিবস বা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা বা মানববন্ধন আয়োজন করা এবং তাতে আওয়ামী লীগের কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে আসা। পরে এ কর্মসূচি বা সেই নেতাকে পুঁজি করে নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, তদবিরসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায় এসব সংগঠনের নেতারা।

ভুঁইফোড় এসব সংগঠনের ব্যানার বা পোস্টারে ছোট করে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি দিয়ে সংগঠনের নেতার ছবি ও পরিচয় বড় করে দেয়াই রেওয়াজ। এমনকি একসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ রাসেলের নাম জুড়ে অন্তত ১৪টি সংগঠনের অস্তিত্ব ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং এ নিয়ে কড়া হুশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রকাশ্য বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম কোনো সংগঠন ব্যবহার না করতে হুশিয়ারি দেন তিনি।

এরপর শেখ রাসেলের নাম ব্যবহার বন্ধ হলেও থেমে থাকেনি ‘দোকানি’দের দৌরাত্ম্য। তারা লীগ বা আওয়ামী সংশ্লিষ্ট নাম শব্দ জুড়ে দিয়ে সংগঠন তৈরি করতে থাকে। এসব বন্ধ করতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার প্রকাশ্য বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে একাধিক সংগঠন জন্ম নিলে তা নজর আসে সজীব ওয়াজেদ জয়ের।

তিনি সম্প্রতি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমার পরিবার এবং আমি চাই না যে অহেতুক আমাদের পরিবারের নাম ব্যবহার হোক। এতে শুধুই আমাদের দল এবং পরিবারের ভাবমূর্তি, বিশেষ করে আমার মা-বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এই লীগ পুরোপুরি অননুমোদিত এবং আমার ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।’ এরপরও তা চালু থাকলে দলের দফতর থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। কিন্তু বন্ধ হয়নি এসব ভুতুড়ে সংগঠনের তৎপরতা। এসবের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগ।






Related News

Comments are Closed