Main Menu

পরিবহন ধর্মঘটের নেপথ্যে কারা?

ডেইলি বিডি নিউজঃ সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় দুজন চালকের শাস্তির রায় হওয়ায় মঙ্গলবার আকস্মিকভাবে দেশব্যাপী পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এ নিয়ে আগে-ভাগে কোনও ঘোষণা না থাকায় সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা। ধর্মঘট নিয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু এর দায়িত্ব কেউ নিতে চাইছে না। কার নির্দেশে হঠাৎ করে সারাদেশে হাজার হাজার গণপরিবহন বন্ধ হয়ে গেল, সেটা যথাসাধ্য চেষ্টা চলছে আড়ালে রাখার।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরিবহন সেক্টরের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা ধর্মঘটের নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন।এসব নেতা পরিবহন মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতি’ এবং শ্রমিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রকাশ্যে এরা নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করলেও গোপনে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন ধর্মঘটীদের সঙ্গে।

জানা গেছে, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি ওয়াজিউদ্দিন খান। কিন্তু বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে মূল ভূমিকা রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। শাজাহান খান এই ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। একই ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু খুলনা অঞ্চলের ডাকসাইটে পরিবহন নেতা। তার নেতৃত্বে খুলনা অঞ্চলের দশ জেলায় সোমবার পর্যন্ত দু’দিন ধর্মঘট পালিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মূল চালিকাশক্তি হলেন সংগঠনের মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্লাহ।

জানা গেছে, মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ নামে আরেকটি সংগঠন রয়েছে। এই ঐক্যপরিষদে আলোচিত সব নেতা রয়েছেন। সোমবার রাতে ঐক্যপরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয় মিন্টো রোডে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসভবনে।

সূত্র জানিয়েছে, ঐক্যপরিষদের সভায় খুলনা অঞ্চলের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সাভারের অপর এক চালকের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় নিয়ে আলোচনা হয়। এক নেতা সরাসরি ধর্মঘটে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। রাত এগারটা পর্যন্ত চলা সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আদালতের রায় নিয়ে ঐক্যপরিষদ সরাসরি কর্মসূচি দেবে না। তবে কেউ ধর্মঘট করলে নেতারা বিরোধিতা করবেন না। কৌশলে এ খবর বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যার ফলাফল দেখা যায় মঙ্গলবার সকাল থেকে।

আকস্মিক ধর্মঘট নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয় সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খুলনা অঞ্চলের ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে সোমবার রাতে আমরা নৌমন্ত্রীর বাসভবনে ঐক্যপরিষদের মিটিং করেছি।’

তিনি বলেন,‘রাত এগারটার দিকে খবর এলো সাভারের একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলায় মীর হোসেন মীরু নামে অপর এক চালকের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এতে সবাই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।চালকরা আমাদের জানিয়েছেন, যেহেতু তাদেরকে অদক্ষ চালক বলা হচ্ছে, সেহেতু তারা আর গাড়ি চালাবেন না, প্রয়োজনে অন্য পেশায় চলে যাবেন।’

আবদুর রহিম বক্স দুদু বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশব্যাপী ধর্মঘট করছে। কারণ যে দুজন চালককে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে, সেটা প্রচলিত আইনে হয়নি। প্রচলিত আইনে আদালত রায় দিলে শ্রমিকরা নিশ্চয়ই মেনে নিতেন।’ তিনি বলেন, ‘ধর্মঘট নিয়ে সরকার আলোচনায় বসতে চাইলে আমরা রাজি আছি।’

জানা গেছে, ধর্মঘটের পক্ষে দিনের প্রথমার্ধে কেউ দায়িত্ব না নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে নেতাদের আগমন ঘটতে থাকে। এসব নেতার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রুস্তম আলী খান। সোমবার রাতে নৌমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং ঐক্যপরিষদের নেতাও তিনি।

মঙ্গলবার গাবতলী টার্মিনালে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশে রুস্তম আলী খান দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদেরকে পরিবহন ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাতে যোগাযোগ করা হলে রুস্তম আলী খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শ্রমিকদের মাথায় যাবজ্জীবন ও ফাঁসির আদেশ। এই দায় নিয়ে তারা গাড়ি চালাবেন কিভাবে? আইন বাতিল ও দুই চালকের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।

 






Related News

Comments are Closed