Main Menu

ওসমানীনগরে ভোটের মাঠে আতঙ্ক

ডেইলি বিডি নিউজঃ হঠাৎ করে থেমে গেল সিলেটের ওসমানীনগরের নির্বাচনী আমেজ। রোববার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর থেমে যায় সেই উৎসব। নির্বাচনী এলাকায় বিরাজ করছে এক অজানা আতঙ্ক। সংঘর্ষে নিহত দুই যুবকের গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামের পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নারীরা রয়েছেন চরম বিপাকে। সিলেটের ওসমানীনগরে প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ৬ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় প্রতীক পাওয়াটাই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রতীক পাওয়ার পর পরই প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল পুরো উপজেলায়। পোস্টার আর লিফলেটে সয়লাব হয়ে পড়ে উপজেলা। প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে কমতি ছিল না উৎসব। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতা এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন।  নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ছিল তুঙ্গে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া আতাউর রহমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। জেলা আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরী (জগলু চৌধুরী) বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির শিব্বির আহমদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা প্রতীক পাওয়ার পরপরই এলাকার প্রতিটি গ্রামে চষে বেড়ান। ভোটাদের কাছে চান ভোট ভিক্ষা। কিন্তু হঠাৎ করে থেমে গেল নির্বাচনী আমেজ।

গত রোববার সকালে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন- ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ কালনীচর গ্রামের মাহমুদ আলীর ছেলে সুহেল আহমদ, উত্তর কালনীচর গ্রামের শরফ উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত দুই যুবকের স্বজনদের আহজারিতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে পড়ে। সংঘর্ষের পর থেকে এলাকার ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রার্থীদেরও প্রচার-প্রচারণা শীতল হয়ে পড়ে। কিন্তু এলাকার কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনী প্রচারণায় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। কিন্তু রোববার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর থেকে সেই উৎসব থেমে যায়। নির্বাচনের প্রার্থীদের আগমনে এলাকায় এক অজানা আতঙ্ক নেমে এসেছে। সংঘর্ষে নিহত দুই যুবকের গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গ্রামের পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে নারীরা রয়েছেন চরম বিপাকে ভোটারদের মধ্যে আনন্দ-উৎসব লক্ষ করা গিয়েছিল। কিন্তু রোববার দুপুরের পর থেকে প্রার্থীদের তেমন দেখা যায়নি এলাকায়। সাইফুল ইসলাম নিহতের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।

খুনের ঘটনায় মামলাঃ ওসমানীনগরে গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি সাদিপুর ইউপির কালনীচরে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কবির উদ্দিন আহমদকে প্রধান আসামী করে দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে নিহত সাইফুলের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে কবির উদ্দিনসহ ১৮জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে এ হত্যা  দায়ের করেন।






Related News

Comments are Closed