Main Menu

আবারো সেই শাজাহান খান

ডেইলি বিডি নিউজঃ শ্রমিকদের ‘জনবিরোধী’ দাবি আদায়, লাইসেন্স সমস্যার তড়িৎ সমাধান, দুর্ঘটনা ঘটানো চালককে রক্ষা, শ্রমিকদের বেতনবৃদ্ধির আন্দোলনের মতো শ্রমিক আন্দোলনে সবসময় সক্রিয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান। মালিক-শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতা হিসেবে সরকারের সঙ্গে দর কষাকষিতে বসেন তিনি। আবার নৌমন্ত্রী হওয়ায় তিনি পদাধিকার বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও উপস্থিত থাকেন। মালিক, শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় নানা বৈঠকে তাই শাজাহান খান অবধারিত একটি নাম। তবে সড়ক নিরাপত্তার আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উভয় পক্ষের প্রতিনিধি হয়ে তিনি কখনই জনগণের পক্ষে দাঁড়ান না, এটা দুঃখজনক।

২০১১ সালে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা’র দাবিতে ছাত্র-শিক্ষক ও পেশাজীবীরা আন্দোলনে নামেন। ওই সময় পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালকের মুক্তি, যথাযথ পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স দেওয়ার দাবিতে মালিক-শ্রমিক সমাবেশ করেন শাজাহান খান। এছাড়া, ২০১৪ সালে শ্রমিক দিবসে চালকদের ‘জনগণের সেবক’ উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘চালকরা আজ সামাজিক মর্যাদা পাচ্ছেন। এখন আর কেউ শ্রমিকদের ঘাতক বলেন না। চালকরা ঘাতক হতে পারেন না।’

এদিকে, ২০১১ সালের ওই সড়ক দুর্ঘটনার মামলার রায়ে এক বাসচালকের যাবজ্জীবন সাজা হওয়ায় ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলনা বিভাগের দশ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছিল। আর সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে আদালত ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাকচালকের মৃত্যুদণ্ড দিলে এই ধর্মঘট অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী পালন করতে শুরু করে তারা। এই পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শাজাহান খানের নাম।

২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া খুলনা বিভাগের পরিবহন ধর্মঘট প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে মীমাংসা করে। প্রত্যাহার করা হয় ধর্মঘট। এর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই ধর্মঘট ডাকা হয় সারাদেশে, অনির্দিষ্টকালের জন্য। জানা গেছে, নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের বাসায় এক বৈঠক থেকেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে দেশব্যাপী অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে বুধবার (১ মার্চ) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে বৈঠকে বসেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানসহ চারজন মন্ত্রী। পরে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন নৌমন্ত্রী। দফায় দফায় বৈঠকের পর দুপুর ২টার কিছু পরে শ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটকে ‘কর্মবিরতি’ উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশ্যে যানচলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। এর কয়েক মিনিটের মাথায় রাস্তায় নেমে আসে বাস, স্বাভাবিক হতে শুরু করে যান চলাচল।

এসব বৈঠকে শাজাহান খানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙা। শাজাহানের মতোই তিনিও একদিকে সরকারের প্রতিনিধি, অন্যদিকে পরিবহন খাতের একজন নেতা।

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি নৌমন্ত্রীকে। কথা হয় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙার সঙ্গে। মন্ত্রীর বাসায় বসে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই বৈঠকে আমরা খুলনার ধর্মঘট শিথিলের জন্য বসেছিলাম। বৈঠকের সময়েই একজন চালকের মৃত্যুদণ্ডের খবর আসায় সেখানে উপস্থিত শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান৷ তখনই তারা কর্মবিরতির ঘোষণা দেন৷ নৌমন্ত্রী বা আমার কিছু করার ছিল না।’

মশিউর রহমান রাঙা আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মসূচিতে মালিক-শ্রমিক-জনগণের ক্ষতি হয়। এরশাদ সরকারের সময় দুর্ঘটনা ঘটানো এক চালককে আন্দোলন করে ছাড়িয়ে এনেছিলেন শ্রমিকরা। তাই হয়তো তারা ভেবেছিলেন যে এভাবে আন্দোলন করে দাবি পূরণ করা সম্ভব। তবে আমরা তাদের বুঝিয়েছি। আইনি সহায়তা কিভাবে নেওয়া যায়, তা নিয়ে কথা বলেছি। ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে শাহজাহান খান তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। তারা সেটা মেনেও নিয়েছেন।’

সংসদ সদস্য হিসেবে এ ধরনের কর্মসূচিতে সম্পৃক্ততা কতটা যৌক্তিক জানতে চাইলে প্রশ্নটি এড়িয়ে রাঙা বলেন, ‘এতে মালিকদেরও ক্ষতি হয়। তবে জনগণের ভোগান্তির জন্য আমরা দুঃখিত।’
এদিকে সরকারি একজন মন্ত্রী শ্রমিক নেতা হয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারে কিনা জানতে চাইলে লেখক, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পরিবহন নিয়ে ডাকা ধর্মঘটগুলোর সবগুলোই যৌক্তিক দাবিতে ডাকা হয়েছিল, এমন নয়। বরং তাদের অনেক দাবিই জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর শাজাহান খান শ্রমিকদের নেতা হিসেবে মাঠের আন্দোলন গরম রাখেন। আবার সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও তিনিই আছেন। এটা কী করে সম্ভব? তিনি জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা হলেও মন্ত্রী হিসেবে শ্রমিক স্বার্থের খাতিরে তাদের অযৌক্তিক দাবির পক্ষে থাকার কোনও সুযোগ তার নেই।’






Related News

Comments are Closed