Main Menu

পণ্য রফতানিতে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য

ডেইলি বিডি নিউজঃ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি খাতের আয় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ সময়ে ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয় ৩ হাজার ৪২৪ কোটি ডলার। তবে গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রফতানি আয় হয়নি। এ সময়ের জন্য নির্ধারিত ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয় ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ডলার। এ প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে রক্ষণশীল অবস্থান নেয়া হয়েছে বলে সরকারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য পণ্য খাতে রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার। এ হিসাবে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ।

রফতানি খাতে চলতি অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সভা আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, শিল্প সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হালদার, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে পণ্য খাতে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ের জন্য সেবা খাত থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫০ কোটি ডলার। এ হিসাবে মোট রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এটি রক্ষণশীল লক্ষ্যমাত্রা এবং তা অর্জন হবে। রফতানি-সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা পেলে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। ২০২১ সাল নাগাদ রফতানি খাত থেকে ৬ হাজার কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমাদের। এর মধ্যে শুধু পোশাক খাত থেকেই আয় হবে ৫ হাজার কোটি ডলার। আমরা এখনো এ লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী জানান, সরকার রফতানি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় দেশের রফতানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বাজার সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু পণ্যকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য, জাহাজ ও ফার্নিচার রফতানিতে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সভায় গুরুত্বপূর্ণ ১০টি পণ্যের আয় ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা উপস্থাপন করা হয়। পোশাক খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। হোমটেক্সটাইল খাতে আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে ৮৮ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ১২ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ওষুধ শিল্পে ১২ দশমিক ১৫, কৃষিতে ৪ দশমিক ১৩, প্রকৌশল পণ্যে ২৭ দশমিক ১৭, হিমায়িত মাছ রফতানিতে ১ দশমিক ৬২, প্লাস্টিক পণ্যে ২৬ দশমিক ৫৫ ও সিরামিক পণ্যে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে যথাক্রমে ১৩৮ কোটি, ১০ কোটি, ৫৭ কোটি ৬০ লাখ, ৮৭ কোটি ৬০ লাখ, ৫৩ কোটি ৫০ লাখ, ১৪ কোটি ৮০ লাখ ও ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, রফতানি খাতে আমাদের বেশকিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বন্দরের সক্ষমতার কথা বলা যায়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে অনেকটা সময় চলে যাবে। এ সময়ে আমাদের অর্জিত বাজারগুলো অন্যদের দখলে চলে যাবে। রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য সরকারকে সঠিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে সহায়ক হবে।






Related News

Comments are Closed