Main Menu

সিলেটের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ শোকর‌্যালীঃ নেতৃত্ব দিলেন শফিউল আলম নাদেল

নাঈম চৌধুরীঃ নীরবতা মানে হারিয়ে যাওয়া নয়, নিরবতা মানে শক্তি সঞ্চার করে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য জোর প্রস্তুতি গ্রহন, নিরবতা মানে আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হয়ে নিজের সামর্থ্য এবং অবস্থার জানান দেয়া। সিলেটে আওয়ামী নেতৃত্বের অন্যতম প্রাচীন আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত দর্শন দেউড়ির শহীদ নূর হোসেন ব্লক গতকাল জানান দিলো তারা আজো অমর, আজো অক্ষয়। হাজার বছরে শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে শহীদ নূর হোসেন ব্লক যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে গতকাল সিলেটের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ শোকর‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

কেউবা বুকে ব্যাজ বেঁধে কেউবা আবার বুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি অংকিত ব্যাজ বেঁধে মৌনতার সাথে এগিয়ে সমানতালে এগিয়ে চলছিল। এ চলার গন্তব্য ছিলো নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে প্রায় সন্ধ্যা অবদি নগরীর নানা অলি-গলি আর আশপাশের থানা-উপজেলা থেকে আসা আশা শোক র‍্যালি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, জনস্রোতে হারিয়ে গিয়েছিলো নাগরিক কোলাহল, সিলেট পরিনত হয়েছিলো নীরবতার মূলকেন্দ্রে, যে নিরবতা শুধু জাতির পিতার প্রতি সম্মানার্থে। আর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্ট অভিমুখী এই র‍্যালিতে আশ্চর্যজনক যে ব্যাপারটি বেশী নজর কেড়েছে তা হচ্ছে মৌনতা। শোক র‍্যালিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ, সিলেটবাসীর সমর্থন আর রাজপথের দুই ধারে দাঁড়িয়ে নীরবে মাধ্যমে সম্মান জানানোর মাধ্যমেই সর্বশেষে শোক র‍্যালিটি রূপ নেয় ভালবাসার র‍্যালিতে। এই শোক র‍্যালি যেন জানান দিচ্ছিল সিলেটবাসীর কাছে জাতির পিতা কতটুকু সম্মানীয়। কতটুকু ভালোবাসা বিদ্যমান জাতির পিতার জন্য তা সিলেটবাসীর নীরবে সম্মান জানানোয় প্রকাশ পেয়েছে।

উল্লেখ্য গতকাল বিকাল ৩টায় সিলেট মহানগরীর দর্শনদেউড়ী থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে আম্বরখানা-দরগাগেট, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার হয়ে মিছিলটি ঐতিহাসিক কোর্টে পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন- পাকিস্তানের পরাজিত শক্তিরা ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে দেশকে পাকিস্তারি ভাবধারায় পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করেছিলো। পরবর্তীতে পাকিস্তারি দোসর জামায়াতকে পুনর্বাসন করে এবং জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে সেই পথেই বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছিলো বিএনপি। কিন্তু বাঙালির আশা-আকাঙ্খার প্রতিক জননেত্রী শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁঁচে যাওয়ায় এবং পরবর্তীতে দেশে আসায় পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের সেই স্বপ্ন মলিন হয়ে যায়। শেষ মরণকামড় হিসেবে তারা আরেকটি ১৫ আগস্ট জন্ম দিতে এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো। কিন্তু আবারো আল্লাহর দয়ায় তিনি বেঁচে যান। আজ সেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ১৫ আগস্টের হামলাকারী বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের পাশাপাশি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা দ্রুত সম্পন্ন করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এসময় তিনি নিহত সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।






Related News

Comments are Closed