Main Menu

আদর্শবান, অনুকরণীয় ব্যাক্তিত্বঃ রাহাত তরফদার

নাঈম চৌধুরীঃ আমি একজন বাংলাদেশী, আর একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি সাংবিধানিকভাবে অধিকারপ্রাপ্ত আমার নিজস্ব মতামত প্রকাশের। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশ আজ স্বীয় যোগ্যতায় বিশ্ব দরবারে অর্জন করে নিয়েছে যোগ্যতম স্থান। ১৯৭১ সালে যে অর্জন তার পিছনে অবদান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, আর ২০১৭ সালে যে অর্জন তার পিছনে অবদান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার। ব্যাক্তিগতভাবে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন ভক্ত, উনার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে একজন নাগরিক হিসেবে আমি আমার পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাই। তবে জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের সাথে আমার পরিচয়ের যে যোগসূত্র, আজ আমি তা নিয়েই আলাপ করতে চাই।

জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ আমার সামনে প্রথম যিনি তুলে ধরেছিলেন তিনি জনাব রাহাত তরফদার। সময়কাল ২০০৪, ফাইনাল পরীক্ষা শেষে নির্ঝঞ্ঝাট সময় কাটাচ্ছি, হঠাৎ একদিন শুনি ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সম্মেলন, জনাব রাহাত তরফদারের ছোট ভাই শাফাত তরফদারের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়লাম উপমহাদেশের প্রাচীনতম ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে। সেই থেকে আজ অবধি এই জনস্রোতের সাথেি আছি। গুরু বলেন আর শিক্ষক বলেন আর পথপ্রদর্শক বলেন সর্বদাই পাশে পেয়েছি জনাব রাহাত তরফদারকে। আমি ছোট মানুষ, কোন পদ পদবী নেই, রাজনীতির গভীরে ডুব দেয়ার ও কোন অভিজ্ঞতা নেই, তবে নিজ জ্ঞ্যানে অর্জিত কিছু আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেস্টা করবো।

সদা হাস্যোজ্জল রাহাত তরফদার সিলেটের সর্ব মহলে একজন অসম্ভব অমায়িক, সৎ, পরিচ্ছন্ন, মেধাবী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত। এ ব্যাপারে আমার থেকে আপনারাই বেশি জানেন। আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনে উনার বিরুদ্ধে কাউকে কিছু বলতে শুনি নাই এবং দেখি ও নাই। কারন উনার কার্যক্রম এমন যে তার বিরুদ্ধাচারনের সরঞ্জাম এই যুগে দুষ্প্রাপ্য।

দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর নয় মাস বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট মহানগরের কান্ডারী হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন রাহাত তরফদার। সিলেটের ছাত্র রাজনীতির সুপরিচিত মুখ রাহাত তরফদার ছাত্র রাজনীতি থেকে ইতি টানলেও রাজনীতি থেকে অবসর নেননি। তার ভাষায় দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে আজীবনই একজন লড়াকু মুজিব সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাবেন।

রাজনীতির মাঠের চ্যাম্পিয়ান রাহাত তরফদারকে নিয়ে কিছু বলার আগে তার বিরোধীপক্ষও দশবার চিন্তা করে নেয়। কারন রাহাত তরফদার ছাত্ররাজনীতির আইকন, রাহাত তরফদারের তুলনা শুধু তিনি নিজে। রাহাত তরফদার নামটা শুনলেই শ্রদ্ধা ও ভালাবাসায় মন ভরে যায়। ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সব বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে, নেতৃত্বের অপব্যবহার না করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করে নিয়েছে। সেই সুনাম ভাঙ্গা কি এতই সহজ?

সুদীর্ঘ ১৫ বছর ছাত্রলীগের রাজনীতি সাথে জড়িত থাকা রাহাত তরফদার ছিলেন সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন। সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় চাঁদাবাজী ও টেন্ডারবাজীর কোন অভিযোগ ছিলোনা তার উপর। চাঁদাবাজী টেন্ডারবাজীর বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিলো কঠোর। দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে বিরোধী দলের আন্দোলন আবার দলীয় কোন্দল সব মিলিয়ে প্রায় ৫ বছর সিলেটের রাজপথে থেকে মুজিব আর্দশে অগ্র সেনানীর ভুমিকায় দলের জন্য কাজ করে গেছেন রাহাত তরফদার।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুনদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন রাহাত তরফদার। দায়িত্ব পালনকালে ছাত্রলীগের অন্যতম পরিচ্ছন্ন, কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে সিলেট সহ সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেন তিনি। বর্তমানেও রাজনীতির মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন, সহায়তা করে যাচ্ছেন তার উত্তরসূরীদের।

ব্যক্তিগতভাবে যারা উনাকে চিনেন তারা খুব ভালোভাবেই জানেন তিনি মানুষ হিসেবে কেমন, নেতা হিসেবে কেমন। তার মত মানুষ আমাদের বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুস্কর। সিলেটের রাজনীতিতে একজন রাহাত তরফদারের জন্ম এই একবারই হয়েছে। রাহাতের মত সজ্জন মানুষের পদ পদবী লাগেনা, রাহাত তরফদার নামটাই অনেক কিছু।

পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা; ছাত্রলীগের রাজনীতির গৌরবের ধারাকে প্রবাহমান রাখার লক্ষে তিনি কখনো কোন আপোস করেননি। উনার নেতৃত্বকালে কোন অছাত্র, বিবাহিত বা সন্তানের জনক ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেনি। কারো বিরুদ্ধে দলীয় শৃখলা ভংঙ্গের কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগ উত্থাপিত হলে সততা যাচাই সাপেক্ষে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাহাত তরফদারের পরিবারে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ এক গৌরবময় রাজনৈতিক ঐতিহ্য। রাহাত তরফদারের চার চাচা ১৯৭১সালে বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে সক্রিয় ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। উনার চাচা মো: ইলিয়াছ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। বাঙালীদের ভাগ্য নির্ধারণকারী ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জেন্টলম্যান পলিটিশিয়ানখ্যাত ভাষাসৈনিক প্রয়াত মো. ইলিয়াছ মৌলভীবাজার সদর, রাজনগরও কমলগঞ্জ এলাকা নিয়ে গঠিত পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলী এম.এন.এ তে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। একজন আদর্শবান চাচার আদর্শের পথ ধরেই এগিয়ে চলেছেন রাহাত তরফদার।






Related News

Comments are Closed