Main Menu

“আমাদেরকে মেধাশুন্য করা সম্ভব নয়, কারন আমরা বাঙ্গালি, আমরা বীরের জাতি”

কানু দাস কাঞ্চনঃ আজ ১৪ই ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের প্রায় শেষ পর্যায়ে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে, ইয়াইয়া খানের পেটোয়া বাহিনী পাকিস্থানি হানাদার শাসকচক্র যখন বুঝতে পারে রণাঙ্গনে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। ঠিক সেই মূহুর্তে পাকিস্থানি নরপিশাচরা গভীর এক ষড়যন্তে লিপ্ত হয়। সেই ষড়যন্ত্রটি ছিল বাঙ্গালি জাতিকে মেধাশুন্য করার ষড়যন্ত্র। বাঙ্গালি জাতি আর কখনোই যাহাতে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে না দাড়াতে পারে সেই ষড়যন্ত্র। বাঙ্গালি জাতির শিক্ষা শান্তি উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে চিরতরে সমূলে ধংস করার ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পাকিস্থানি নরপিশাচ হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করে জাতির মেধাবী সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবিদের। মা ও দেশ মাতৃকার টানে আপনাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চির শ্রদ্ধা চিত্তে চিরকাল স্বরন করবে। আপনাদের স্মৃতির প্রতি জানাই নতমস্তকে শ্রদ্ধাঞ্জলি। ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি হত্যা দিবসে, পাকিস্থানি নরপিশাচ হানাদার বাহিনীর নির্মম পাশবিকতার কিছু কথা।

ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী দরজা খুলে হাসিমুখে বললেন- কেমন আছো বাবা? (তিনি ধরেই নিলেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটি তার ছাত্র) কলিমউল্লাহ বলল- স্যার ভালো আছি। আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন স্যার? (তিনি তাকে চিনতে পারেন নি। চিনতে পারার কথাও না) তারপরও হাসিমুখে বললেন- চিনতে পারবনা কেন? চিনেছি। (মিথ্যা বলার কারণ হলো তিনি অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছেন, যতবার কোনো ছাত্রকে দেখে তিনি না চেনার কথা বলেছেন, ততবারই তারা ভয়ঙ্কর মনে কষ্ট পেয়েছে। এক ছাত্র তো কেঁদেই ফেলেছিল) ধীরেন্দ্রনাথ রায় বললেন- বাবা, তোমার নামটা যেন কী ? – কলিমউল্লাহ। – হ্যাঁ, তাই তো। কলিমউল্লাহ। এখন পরিস্কার মনে পড়েছে। তুমি কি খাওয়াদাওয়া করেছ ? – জি না স্যার। – এসো আমার সঙ্গে চারটা ভাত খাও। আয়োজন খুব সামান্য। ভাত, ডিম ভর্তা। ঘরে আরো ডিম আছে। তোমাকে ডিম ভেজে দেব। ঘরে এক কৌটা ভালো গাওয়া ঘি ছিল, কৌটাটা খুঁজে পাচ্ছি না কলিমউল্লাহ বলল- এখন খেতে পারব না। আপনার কাছে আমি একটা অতি জরুরী কাজে এসেছি। – জরুরী কাজটা কী ? – মিলিটারির এক কর্নেল আপনার সাথে কথা বলতে চান। ধীরেন্দ্রনাথ রায় বিস্মিত হয়ে বললেন- আমার সাথে মিলিটারির কী কথা ? – আমি জানি না। তবে স্যার আপনার ভয়ের কিছু নেই। আমি সঙ্গে আছি। ধীরেন্দ্রনাথ রায় বললেন- তুমি আমার কোন ব্যাচের ছাত্র বলো তো ? – কথা বলে সময় নষ্ট করতে পারব না। মিটিংটা শেষ করে আসি, তারপর গল্প করব। – দুইটা মিনিট অপেক্ষা করো, ভাতটা খেয়ে নিই। আমি খুব ক্ষুধার্ত। সকালে নাশতা করিনি – ভাত খাবার জন্যে অপেক্ষা করার সময় নাই স্যার – তাহলে দাঁড়াও, পাঞ্জাবিটা গায়ে দিয়ে আসি। আমার সঙ্গে কি কথা বুঝলাম না। সে আমার ছাত্র না তো? করাচি ইউনাভার্সিটিতে আমি দু’বছর মাষ্টারি করেছি। প্রফেসর সালাম সাহেব সেখানে আমার কলিগ ছিলেন। কলিমউল্লাহ বলল- আপনার ছাত্র হবার সম্ভাবনা আছে। কর্নেল সাহেব যেভাবে বললেন “স্যারকে একটু নিয়ে আসো”… তাতে মনে হচ্ছে উনি আপনার ছাত্র। ধীরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী গাড়িতে উঠে দেখলেন.. গাড়ি ভর্তি মানুষ। তারা সবাই চিন্তায় অস্থির। ধীরেন্দ্রনাথ রায় তাদের দিকে তাকিয়ে আন্তরিক ভঙ্গিতে হাসলেন। ভুলে তিনি চশমা ফেলে এসেছেন বলে তাদের কাউকে চিনতে পারলেন না। চোখে চশমা থাকলে এদের অনেককেই তিনি চিনতেন। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা সেই গাড়িতে বসেছিলেন। তাদের নিয়ে যাওয়া হবে বধ্যভূমিতে….। (জোছনা ও জননীর গল্প : হুমায়ুন আহমেদ)

১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ডের মাধ্যমে পাকিস্থানি নরপিশাচ হানাদার বাহিনী ভেবেছিলো তারা সফল হয়েছে। কিন্তুু তারা যে সফল হতে পারেনি, তার বাস্তব প্রমান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আজকের এই বাংলাদেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের এক রোলমডেল। জাতির জনক সর্বকালের সর্বশ্রেস্ট বাঙ্গালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের ভাষনে বলেছিলেন “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, তবুও এই দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ” পৃথিবীতে একমাত্র জাতি আমরাই যারা নিজের অধিকার আদায়ের জন্য মা দেশ মাতৃকার টানে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়েছি। বাঙ্গালি মানেই রক্ত দেওয়ার ইতিহাস, আমরা ৫২ তে রক্ত দিয়েছি, আমরা ৬৬ তে রক্ত দিয়েছি, আমরা ৬৯ রে রক্ত দিয়েছি, আমরা ৭১ এর মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে রক্ত দিয়েছি। পরিশেষে বলবো আমাদেরকে মেধাশুন্য করা কখনোই সম্ভব নয়, কারন আমরা বাঙ্গালি আমরা বীরের জাতি। ১৪ই ডিসেম্বর জাতির শ্রেস্ট সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবি ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।






Related News

Comments are Closed