Main Menu

আমাদের জাতির পিতা ও তাঁর বঙ্গবন্ধু উপাধি

শাবানা হোসেনঃ মানুষের যতগুলো অনুভূতি আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে ভালবাসা। আর এই পৃথিবীতে যা কিছুকে ভালবাসা সম্ভব তার মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ভালোবাসাটুকু হওয়া উচিত মাতৃভূমির জন্য। যে মাতৃভূমিকে ভালবাসতে পারে না কোন কিছুকেই তার পক্ষে ভালবাসা সম্ভব না। আমাদের এই ছোট্ট সোনার বাংলাদেশ, যার রয়েছে বীরত্বপূর্ণ গৌরব গাঁথা ইতিহাস। আর এই সাফল্যগাঁথা ইতিহাসের পিছনে রয়েছেন একজন মহানায়ক। যার ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারবো না। যার জন্ম না হলে এই বাংলাদেশ হত না। যার জন্ম না হলে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক কোন দেশের নাম থাকতো না। এই বাংলাদেশ, এই মায়ের সৃষ্টির জনক হচ্ছে আমাদের জাতীয় পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। এই সুন্দর বাতাস, এই সুন্দর নদী, এই স্বাধীনতা যাকে ছাড়া সম্ভব ছিল না তিনি হলেন আমাদের জাতীয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার কথা আজো আমাদের বুক নাড়িয়ে দেয়, আমাদের বাহুতে শক্তি এনে দেয় তিনি হচ্ছে আমাদের পরম বন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ মুজিবুর রহমান-সাধারণ একটা নাম বলেই মনে হওয়ার কথা। কিন্তু বাঙালীর কাছে এটি কোনো সাধারণ নাম নয়। এই নাম শুনলেই মনেহয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম, একজন জাতির পিতার নাম, একজন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালির নাম।

১৭ মার্চ ১৯২০ সালে যখন শেখ মুজিব জন্মান, তখন কিন্তু তিনি বঙ্গবন্ধুও ছিলেন না, জাতির পিতাও ছিলেন না। ছিলেন না হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। একজন সাধারণ মায়ের সাধারণ সন্তান হয়েই জন্মেছিলেন তিনি। খুব কম বয়সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের দেখেছিলেন খুব কাছ থেকে। তবে সব নেতাকে ছাড়িয়ে তিনিই হয়ে ওঠেন বাঙালীর নেতা, বাংলাদেশের স্থপতি।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালীর সব ধরণের আন্দোলনের সাথে ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। যখন বাঙালী নিজেদের অধিকার আদায়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে, তখন তিনিও সকল বাঙালীর সঙ্গে সমবেত সুরে প্রকাশ করেছেন তার ক্ষোভ, চেয়েছেন বাঙালীর অধিকার। তিনি কখনোই নিজের ক্ষমতা চাননি, চেয়েছেন বাঙালীর অধিকার, বাঙালীর সুখ।

পূর্ব পাকিস্তানে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে ১৯৬৮ সালে দায়ের করা ‘আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা‘ অন্যতম। এই মামলায় শেখ মুজিবুর রহমান সহ ৩৪ জন বাঙালী সামরিক ও সিএসপি কর্মকর্তাকে আসামী করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানসহ এই কর্মকর্তারা ভারতের ত্রিপুরা অঙ্গরাজ্যের অন্তর্গত আগরতলা শহরে ভারত সরকারের সাথে এক বৈঠকে পাকিস্তানকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। শেখ মুজিবুর রহমানকে এই মামলার মূল আসামী ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

এই মামলা দায়ের করার পর পুরো বাংলায় ঝড় ওঠে। এই মামলাকে মিথ্যা অভিযোগ করে সর্বস্তরের বাঙালী শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল আসামীকে মুক্তি দেয়ার দাবী জানায়। এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই সে বছর ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আসামীদের বিচারকার্য শুরু হয়। বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ১১ দফা দাবী পেশ করে, যার মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফার সবগুলো দাবীই অন্তর্ভুক্তত ছিল।

এই পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের প্রস্তুতি গৃহীত হয়। এই আন্দোলন একসময় গণ আন্দোলনে রূপ নেয়। যা পূর্ব বাংলার আরেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা-গণঅভ্যুত্থান। বাঙালীর আন্দোলন চরম পর্যায়ে গেলে পাকিস্তানী সরকার ছাড় দিতে বাধ্য হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান রাজনৈতিক নেতাদের সাথে এক গোলটেবিল বৈঠকের পর এই মামলা প্রত্যাহার করে নেন। মুক্তি দেন শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল অভিযুক্তদের।

সে বছরই ২৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার এই সম্মেলনে সেদিনই শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধীতে ভূষিত করা হয়। উপাধী প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন জনাব তোফায়েল আহমেদ। সেদিন থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময়েই বাঙালীর বন্ধু ছিলেন। উপাধী পাওয়ার আগে এবং উপাধী পাওয়ার পরে-সকল সময়েই তিনি চেয়েছেন শুধু এদেশের মানুষের অধিকার। ক্ষমতা পাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ থাকলেও তিনি তা কাজে না লাগিয়ে চিরদিন লড়াই করে গিয়েছেন একটি স্বাধীন দেশের জন্য,একটি স্বাধীন পতাকার জন্য।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধীতে ভূষিত করা হয়। স্বরণীয় হয়ে ওঠে দিনটি। বাঙালীর এই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর প্রতি রইলো আমার গভীর শ্রদ্ধা।






Related News

Comments are Closed