Main Menu

টেকনাফ সীমান্তে সর্তকাবস্থানে বিজিবি-কোস্টগার্ড

ডেইলি বিডি নিউজঃ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ করার ঘটনায় টেকনাফ সীমান্তজুড়েই সতর্কবস্থায় রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড সদস্যরা।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে টেকনাফ সীমান্তজুড়েই যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে তীক্ষ্ম নজর ও সর্তকভাবে অবস্থান রয়েছেন তারা।

২ মার্চ শুক্রবার দুপুরে টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আসাদুজ্জামান চৌধুরী জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জবাব দিতে শক্ত ও সর্তক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। মিয়ানমারে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সীমান্তজুড়েই বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এর পাশাপাশি টেকনাফ উপজেলা সীমান্তের হোয়াইক্যং, উনচিপ্রাং, ঝিমংখালী, খারাংখালী, হ্নীলা, লেদা, নোয়াপাড়া, দমদমিয়া, টেকনাফ সদর, নাজির পাড়া, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ দায়িত্বপূর্ণ এলাকা সীমান্তে বসবাসরত নাগরিকদের নাফ নদীতে মাছ ধরা ও চলাচলে সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া নাফ নদীর সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের শক্ত ও সর্তক অবস্থানে থেকে টহল দিতে দেখা গেছে।

এদিকে টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. এম ফয়েজুল ইসলাম মন্ডল জানান, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এ তৎপরতায় সীমান্তজুড়েই কোস্টগার্ডও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের নাফ দনী ও বঙ্গোপসাগরে দিবা-রাত্রী কোস্টগার্ডের টহল জোরদার রয়েছে বলে জানান তিনি।

সীমান্তে বসবাসকারী মো. ইসমাইল জানান, প্রতিদিন গভীররাতে মিয়ানমার ওপারে এখনও গুলি বর্ষণের শব্দ পাওয়া যায়। অনেকবার গুলি বর্ষণের আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। মাঝে মাঝে খুবই ভয়ভীতির মধ্যে রাত কাটে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যবাসন বন্ধ করতে মিয়ানমারের আরেকটি নতুন কৌশল বলে জানিয়েছেন টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা আমির হোছন।

তিনি জানান, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বসবাস করুক সেটা চায়না মিয়ানমার সরকার। তারা বারবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের সেই দেশ থেকে নিধন করতে চায়। যে সময় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে প্রত্যাবাসনের কাজ শেষ পর্যায়ে ঠিক ওই সময় নতুন করে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি তমব্রু সীমান্তের ওপারে হঠাৎ ভারী অস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। এতে বোঝা যায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাক তারা সেটা চায়না। তাছাড়া মিয়ানমারে এখনও সেনারা রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে, ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আসা এখনও বন্ধ হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক জানান, সীমান্তে ও নাফ নদীতে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্তক অবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে, সমুচিত জবাব দেয়া হবে। নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ ভূখন্ডে যদি কোনো রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ে তাদের মানবিক সহতায় দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেরে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে রাখাইন রাজ্য থেকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে পালিয়ে আসে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে আসে আরও ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।






Related News

Comments are Closed