Main Menu

প্লট ফেরত দিতে চান রাজউকের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের স্ত্রী !

ডেইলি বিডি নিউজঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে পাওয়া ৬ কাঠার প্লট ফেরত দিতে চান প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নূরুল হুদার স্ত্রী ওয়াহিদা হুদা। কিন্তু তিনি এমন সময় ওই প্লট ফেরত দেওয়ার আবেদন করেছেন, যখন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজউকের বিভিন্ন প্লট জালিয়াতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।

চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর ওয়াহিদা হুদা রাজউককে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৬ কাঠার প্লটটি ফেরত দেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেন ওয়াহিদা হুদা। রাজউকের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এক আবেদনপত্রে ওয়াহিদা হুদা জানান, প্লট গ্রহণে বিধি-বিধানের ব্যত্যয় ঘটে থাকলে প্লটটি তিনি ফেরত দিতে চান। তবে তার আবেদন এখনো রাজউকের বোর্ড সভার অনুমোদন লাভ করেনি বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, তার (ওয়াহিদা হুদা) প্লট ফেরতের বিষয়টি আনঅফিসিয়ালি শুনেছি। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র রাজউক থেকে দুদকে সরবরাহ করা হয়নি।

এ বিষয়ে দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, নূরুল হুদা রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৯ নম্বর সেক্টরের ১০৩ নম্বর রোডে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট (প্লট নং-১৯) বরাদ্দ নেন। এ সময় স্ত্রী ওয়াহিদা হুদার নামে একই প্রকল্পের সেক্টর-৫, রোড-৩০৯, প্লট নং-৪৯ নম্বরে ৬ কাঠার আরেকটি প্লট বরাদ্দ নেন। অনেক গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ কোটায় এ প্রকল্পে এখনো প্লট পাননি। কিন্তু নূরুল হুদা তার স্ত্রীকে গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার ‘মূল অধিবাসী’ ও ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ দেখিয়ে ‘ক্ষতিগ্রস্ত কোটায়’ প্লটের বরাদ্দ নেন। অথচ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায়ও নূরুল হুদা দম্পতির প্লট রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্বামীর নামে সরকারি প্লট থাকার পর আর স্ত্রীর নামে প্লট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে নূরুল হুদা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তার করে এ কাজটি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীতে নিজের প্লট থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একাধিক প্লট নেন নূরুল হুদা। এমন অনেক অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন।

যদিও এর আগে ২০১৪ সালের নভেম্বরে নূরুল হুদার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি নথিভুক্তির (অব্যাহতি) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছিল দুদক।

প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, গুলশানে ৯৩ নম্বর রোডের সিইএন (এ) ১৫/বি প্লটটি রাজউকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান নূরুল হুদা নিয়মনীতি না মেনে নিজের একক ক্ষমতা খাটিয়ে আবাসিক থেকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেন। অনেকটা একক প্রভাব খাটিয়ে বড় বড় প্রকল্প পছন্দের ব্যবসায়ীদের ভাগ-বাটোয়ারা করে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শেষ সময়ে বরাদ্দের হিড়িক : ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ ৩ নম্বর বোর্ড সভাটি ছিল নূরুল হুদার দায়িত্বের সর্বশেষ বোর্ডসভা। সে সভার সভাপতি হিসেবে তিনি গুলশান ও পূর্বাচল প্রকল্পে একাধিক প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। বোর্ডসভায় বেশ কয়েকটি প্লট ও খণ্ড জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে- গুলশান আবাসিক এলাকার ৭১ নম্বর রাস্তা ও ১৫ নম্বর প্লটটির পূর্বপাশে ওয়াকওয়ে সংলগ্ন ১ বিঘা ৩ কাঠা ৩ ছটাক পতিত জমি কন্টিনেন্টাল হাসপাতাল লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া। উত্তরা আবাসিক এলাকার ১১ নম্বর সেক্টরের ১১ নম্বর রোডের ৫ কাঠা আয়তনের ১৮ নম্বর প্লটের অতিরিক্ত আরো ২ কাঠা ৬ ছটাক খণ্ড জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফেরদৌস আরা নামের এক নারীর অনুকূলে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প আবাসিক এলাকার ১৬/এইচ নম্বর সেক্টর ১/বি ৩ কাঠার পরিবর্তে ৫ কাঠা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, মিসেস রেহেনা নামের একজনকে উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পের ১৭/এফ সেক্টর ৪/এ তিন কাঠার পরিবর্তে বসবাসযোগ্য উত্তরা ১ম/২য় নিকুঞ্জে (দক্ষিণ) বিকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। উত্তরা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে ৫ ও ৬ নম্বর রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গায় ৪ কাঠার প্লট সৃজন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুলশান আবাসিক এলাকার গুলশান অ্যাভিনিউ সিডব্লিউএস (এ) ১০ এর ২৪ নম্বর রাস্তা সংলগ্ন সিডব্লিউএস (এ) ২০ নম্বর প্লটটি একত্রীকরণ করা হয়েছে। শুধু একটি বোর্ডসভায় এসব প্লট ও খণ্ড জমি বরাদ্দ দিয়ে নূরুল হুদা কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৯ সালের ৩০ মার্চ অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদায় দুই বছরের জন্য রাজউকের চেয়ারম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান মো. নূরুল হুদা। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর কয়েক দফা তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল রাজউক চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়।

 






Related News

Comments are Closed