Main Menu

মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : সকালে সিদ্ধান্ত বিকেলে পরিবর্তন

ডেইলি বিডি নিউজঃ পৌরসভা নির্বাচনে বিধি লঙ্ঘনকারী ২৬ মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ও প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে সকালে সিদ্ধান্ত নিলেও বিকেলে তা পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ইসির সঙ্গে বৈঠক করার পরপরই কমিশন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র। তবে সকল রিটার্নিং অফিসারদের কাছে বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আবারো দায়সারা চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ২৬ মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং অফিসারদের চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দুপুরের পর হঠাৎ করে এ চিত্র পাল্টে যায়। কমিশনের অনুমোদিত ফাইলটি জরুরী ভিত্তিতে স্থগিত করা হয়। পরে সন্ধ্যায় কেবল রিটার্নিং অফিসারদের কাছে বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ইসি।

ইসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের চাপের মুখে কঠোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলো কমিশন। এর ফলে নির্বাচনে বিধি লঙ্ঘন করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য মিলিয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে শোকজ ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন। এ তালিকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম (রাজশাহী-৬), তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু (কুষ্টিয়া-২), তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদ (লালমনিরহাট-২), এ কে এম ফজলুল হক (শেরপুর-৩), আবদুর রহমান (ফরিদপুর-১), সোহরাব উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), আবদুল কুদ্দুস (নাটোর-৪), এম এ মালেক (ঢাকা-২০), মহীউদ্দীন খান আলমগীর (চাঁদপুর-১), নাহিম রাজ্জাক (শরীয়তপুর-৩), আবু জাহির (হবিগঞ্জ-৩), হাসিবুর রহমান (সিরাজগঞ্জ-৬), আয়শা ফেরদাউস (নোয়াখালী-৬), আবদুর রউফ (কুষ্টিয়া-৪), মমতাজ বেগম (মানিকগঞ্জ-২), দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-৪), নাজমুল হাসান (কিশোরগঞ্জ-৬), আনোয়ারুল আবেদীন খান (ময়মনসিংহ-৯), কবিরুল হক (নড়াইল-১), শওকত হাচানুর রহমান (বরগুনা-২) ও  গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২) নাম ছিল।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, পৌর নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা বেড়ে যাওয়া, আচরণ বিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়া এবং এসব ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পেরে কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার পিছু হটলো। এ কারণে নির্বাচনে ভোটের দিন সহিংসতা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি।

এ দিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চেয়ে কমিশন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু তাতে বেশির ভাগ রিটার্নিং কর্মকর্তা সাড়া দেননি। অনেকেই বলেছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমানকে (স্বপন) ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু জহিরকে সতর্ক করেছে ইসি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ দুজনকে সতর্ক করে নির্বাচন কমিশন থেকে সরাসরি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা করায় তাদেরকে সতর্ক করেছে কমিশন।

 






Related News

Comments are Closed