Main Menu

অবহেলিত গ্রাম ডাক্তারদের মনের কথা

এম এ মতিনঃ এই করোনা ভাইরাস শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা যারা গ্রাম ডাক্তার প্রতিনিয়ত জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগীগুলোকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছি ও আজ অবধি আমাদের চেম্বারে বা ফার্মেসীতে আছি, আমাদের জন্য কথা বলার মত কাউকে পাইনি। ভাইরাস ছড়ানোর পর বড় বড় ডাক্তাররা মোটা অংকের ভিজিট নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোজ রোগী দেখতেন তারা চেম্বার ছেড়ে আত্নগোপনে চলে গেলেন প্রাণের ভয়ে। হ্যাঁ এটা আবার অনেকটা ভয়ের বিষয় ও ছিল তাদের কে প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়নি বা সরকার কর্তৃক প্রথম অবস্থায় ডাক্তারদের কাছে সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিলম্ব হয়েছে। তবে এখানে একটা কথা বলে রাখি যদিও পৃথিবী জুড়ে অনেক দেশে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহামারী শুরু হয়েছে তখন আমাদের দেশে তেমন তার প্রভাব বিস্তার করেনি। আর শুধু জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা হলেই যে করোনায় আক্রান্ত এটা তো না। সাধারণ রোগীরা তাদের সমস্যা নিয়ে যে ভোগান্তিতে পড়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। অন্যান্য রোগ নিয়ে লোকজন কার কাছে যাবে,যখন বড় বড় ডাক্তাররা চেম্বার বন্ধ করে বড় বড় অক্ষরে লিখে রেখেছেন এখানে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথার চিকিৎসা করা হয় না তখন উপায়ান্তর না পেয়ে লোকজন আমাদের মত গ্রাম ডাক্তারদের কাছে আসা শুরূ করেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি সবাইকে কিছু না কিছু সান্ত্বনা সরূপ চিকিৎসা দিতে এবং এখন পর্যন্ত সাধারন মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমার।

এটা শুধু যে এই করোনা ভাইরাস আসার কারনে বড় বড় ডিগ্রী ধারী ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ হওয়াতেই যে আমাদের কাছে সাধারণ মানুষ গুলো আসছেন তা কিন্তু নয় সারা বছর জুড়েই খেটে খাওয়া মানুষ গুলো আমাদের মতো পল্লী চিকিৎসকের কাছে এসে থাকেন।আমাদের দেশের খেটে খাওয়া মানুষ গুলো হাজার টাকা খরচ করে বড় বড় ডিগ্রী ধারী ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য নেই। যাদের নুন আনতে পানতা ফুরায় তারা কি করে হাজার টাকা খরচ করে বড় বড় ডিগ্রী ধারী ডাক্তার দেখাবেন। দেশের যে কোন পরিস্থিতিতে আমাদের মতো পল্লী চিকিৎসকরা সব সময় মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বর্তমানে কোন বড় ডাক্তার কারো বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখেন না। হয় ডাক্তারের চেম্বার না হয় উনাদের নির্ধারিত কোনো ক্লিনিক বা হসপিটালেে রুগী নিয়ে যেতে হয় তা না হলে বড় বড় ডিগ্রী ধারী ডাক্তাররা রুগী দেখেন না। কিন্তু আমরা যারা পল্লী চিকিৎসক হিসেবে শহরে,গ্রামেগনঞ্জে, হাটে বাজারে ছোট পরিসরে অবহেলিত অবস্থায় আছি একমাত্র আমরাই সাধারণ মানুষের ডাকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছি।

এই কথা গুলো বলার একটাই কারণ হল আমরা এতো বড় ডিগ্রি ধারী ডাক্তার না,সাধারণ পল্লী চিকিৎসক হিসাবে সবার অবহেলার চোখে থেকে সব সময় বিপদের কান্ডারী হয়ে আসছি। ইনজেকশন, আইভি সেলাইন, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত, সাধারণ জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা,ডায়রিয়া বমি, গ্যাসট্রিক, নানান কারণে পেট ব্যাথা, এলার্জি, খাবার পিলসহ নানান রোগের চিকিৎসা দিয়ে আসছি সব সময়। আমাদের সেইভের কথাটা সরকারী বা বেসরকারি ভাবে কেউ উত্থাপন করেননি একটি বারের জন্য। আমাদের ফ্যামেলি থেকে ও চাপ আসে লকডাউনে থাকার জন্য, মা বাবা ভাই বোন বউ বাচ্চা দুশ্চিন্তায় থাকেন আমাদের যদি কিছু হয়ে যায়। তবুও আমরা এই বলে ঘর থেকে বের হয়ে থাকি আল্লাহ ভরসা। মানুষের এই সংকটময় সময়ে পলাতক আসামির মত থাকতে বিবেক বাঁধা দেয় বিধায় দিন রাত ঝুকির মধ্যেও সার্ভিস দিতেছি, আমরা সরকারের কাছে মরণ বীমা চাইতেছিনা। আমাদের নিরাপদ থাকার জন্য যে সকল সামগ্রী বড় ডাক্তারদের দেওয়া হয়েছে সেইভ থেকে চিকিৎসা করার জন্য আমরা ও কি এই নিরাপদে থাকার আওতায় পড়িনা?

আমরাও মানুষ,আমাদের ও কিছু হলে কান্না করার মানুষ আছে, আমাদের ও একটা জীবন আছে। আমাদেরকে কি এভাবেই সারা জীবন শুধু অবহেলার চোখেই দেখা হবে? সকল বাংলাদেশ পল্লী চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমাদের ও দাবী আপনারা এইবার অন্তত পল্লী চিকিৎসকদের দিকে একটু সুনজর দিন।

এখনো সাধারণমানুষ গুলো সবার আগে আমাদের মতো
পল্লী চিকিৎসকের কাছেই আস।

বর্তমানে সরকার বড় বড় ডিগ্রী ধারী ডাক্তারদের যখন বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন তখন আমরা সব সময়ের মতো অবহেলিতই রয়ে গেলাম।

যাই হোক আমার কথায় কেউ কষ্ট নিবেননা, অনেক কথা বলে ফেলছি ছোট মানুষ হিসাবে, আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন আমরা এখনো এই দুঃসময়ে মানব কল্যানে আছি ও থাকবো। তাই মন থেকে আমাদের জন্য একটু দোয়া করবেন এইটুকুই বিনয়ে প্রার্থনা।।

সবাই সচেতন ও সাবধানে থাকেন, লকডাউন মেনে চলি, আল্লাহ ভরসা।

লেখক পরিচিতিঃ এম এ মতিন (পল্লী চিকিৎসক)
এল এল এ এফ (সিলেট)
আর এম পি (সিলেট)
এল এস পি (বিশ্বনাথ)






Related News

Comments are Closed