Main Menu

সিলেটে চাঁদাবাজ সাগরকে ১০ হাজার না দেওয়ায় ২ কৃষিপণ্য বিক্রেতাকে আটক করলো পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার :: অনুসন্ধান নিউজ, অনুসন্ধান টিভি ও অনুসন্ধান টিম নামের তথাকথিত মিডিয়ার সাংবাদিক পরিচয়ধারী ফয়ছল আহমদ সাগর নামের এক চাঁদাবাজকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় দুই কৃষিপন্য বিক্রেতাকে ২৯ এপ্রিল ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনার পরপরই সিলেট কতোয়ালী থানার এসি নির্মল চক্রবর্তী এবং ওসি সেলিম মিয়ার তৎপরতায় এবং নির্দেশে দেড় ঘন্টা পর দুই কৃষিপন্য বিক্রেতাকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর।

ঘটনার অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়ছল আহমদ সাগর নামের উক্ত চাঁদাবাজের আস্তানা সুরমা মার্কেটে। সুরমা মার্কেটের সামনেই কৃষিপন্য তেরপালসহ ত্রান সামগ্রীর ব্যাগ বিক্রেতা শাব্বির ও ইসমাইলের দোকান। গত ২৫ এপ্রিল ১লা রমজান চাঁদাবাজ সাগর কৃষিপন্য বিক্রেতাদের কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে।

এ সময় তাকে সমর্থন করে তার অন্যতম সহযোগি জনৈক কমরু ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে বলে সাগরকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে সে নিউজ করে ১২ টা বাজিয়ে দেবে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সাথে সাথে একদল পুলিশ এসে কৃষিপন্য বিক্রেতাদের গালিগালাজ করে চলে যায়।

পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল উক্ত দোকানে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট গিয়ে কৃষিপন্য বিক্রির বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। সেনাবাহিনীর একটি টিম ও দোকানটি দেখে জানতে চায় কৃষিপন্য ব্যাতিত কিছু বিক্রি হয় কি না। চাঁদাবাজ সাগর ও তার সহযোগি কমরুর চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি অনেকেই অবগত হন। ২৯ এপ্রিল বেলা সাড়ে তিনটায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তিন পুলিশ সদস্য জনি,মফিজুল ও দেলোয়ার উক্ত কৃষিপন্য দোকানের বিক্রেতা শাব্বীর ও ইসমাইলকে আটক করে কতোয়ালী থানায় নিয়ে যায়।

উক্ত খবর পৌছে যায় সহকারি কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী এবং ওসি সেলিম মিয়ার কাছে। তারা দুজনই নিশ্চিত হন চাঁদাবাজ সাগরের হয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর দুই ব্যবসায়ীকে আটক করিয়েছেন।

এসি এবং ওসি আসল বিষয়টি গোপনে অবগত হয়ে তাৎক্ষণিক এসআই আকবরকে নির্দেশ দেন দুই কৃষিপন্য বিক্রেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য। বিকেল সাড়ে ৫ টায় শাব্বীর ও ইসমাইল থানা হাজত থেকে ছাড়া পান। সেই সাথে কতোয়ালী থানার ওসি সেলিম মিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবরকে নির্দেশ দিয়েছেন দুই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লিখিত নিয়ে চাঁদাবাজ সাগরের বিরুদ্ধে জিডি করার জন্য।

কতোয়ালীর উক্ত দুই কর্মকর্তাই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। চাঁদাবাজ ফয়ছল আহমদ সাগরের মুল বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা থানার হাটবন্দ গ্রামে। তার পিতার নাম মঞ্জির আলী। চলতি ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারী উক্ত ফয়ছল আহমদ সাগরকে র‌্যাব-৯ এর একটি দল সুরমা মার্কেট এলাকা থেকে দুটি অপরাধমুলক মামলায় পলাতক আসামী হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশের কাছে সৌপর্দ করার বিষয়টি ছবিসহ নিশ্চিত করেছিলেন র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সামিউল আলম।

এ ঘটনার পর অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে উক্ত চাঁদাবাজ চক্র গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার সন্ধ্যার পর সুরমা মার্কেটের একটি চুল কাটার দোকান থেকে সাব-ইন্সপেক্টর দেলোয়ারকে দিয়ে রাজন, শাহজাহান,আলাউদ্দিন,রুহেলসহ ৫ জনকে আটক করিয়ে লক ডাউন ভঙ করার অপরাধে জেল হাজতে দেয়ার ভয় দেখিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেয়।






Related News

Comments are Closed