Main Menu

যাত্রী নিয়ে নারায়াণগঞ্জ থেকে বিশ্বনাথে ক্যাভার্ড ভ্যান, এলাকায় আতঙ্ক

ডেইলি বিডি নিউজঃ কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে লকডাউন করা হলেও মানছে না সাধারণ মানুষ । এদিকে জরুরী পণ্যবাহী পরিবহন ছাড়া গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ২৬শে মার্চ থেকে অঘোষিত লকডাউন ঘোষণা কার হলেও পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে লকডাউন করা হয় সেইসব স্থান । এদিকে চলতি মাসের ১১ তারিখে সিলেট জেলাকে লকডাউন ঘোষণা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজি এম কাজি এমদাদুল ইসলাম । ফলে সিলেট জেলা জনসাধারণের প্রবেশ ও বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক/মহাসড়ক ও নৌপথে অন্য কোনও জেলা থেকে সিলেট জেলা প্রবেশ করতে কিংবা এ জেলা থেকে অন্য কোনও জেলায় গমন করতে পারবেন না।

এরপর থেকে সিলেট বিভাগের অন্যান্য তিনটি জেলা যথারীতি -সুনামগঞ্জ,হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজারকে লকডাউন বা অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয় । এর আগে সিলেট জেলায় ৫ এপ্রিল প্রথম করোনা আক্রান্ত হন । এর ১০ দিন পর ওই রোগী মারা যান । এরপর থেকে বাড়তে থাকে করোনা রোগীর সংখ্যা ফলে জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয় ।

কিন্তু কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই গত ১৮এপ্রিল সিলেটে প্রবেশ করে ঢাকা থেকে আসা একটি ট্রেন । সেই ট্রেনে প্রায় শতাধিক যাত্রী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছিলেন । এরপর জানা যায় এখানে আসা বেশিরভাগ লোকেই রেলস্টেশনের নিরাপত্তাকর্মী । তাদের বেতন নিয়ে আসা হয়েছে । পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক থেকে জানানো হয় এব্যাপারে তাদেরকে অবগত করা হয়নি। এই ঘটনার চারদিনের মাথায় আবারো সিলেটে প্রবেশ করে পটুয়াখালী থেকে ৩৯ জন যাত্রী নিয়ে আসে একটি বাস ।

জানা যায়, ওই বাসের ৩৯জন যাত্রীরা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মরত শ্রমিক ছিলেন । দেশের উত্তরাঞ্চলে ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিলে তারা সিলেট আসেন ।

এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা। ফলে সিলেটে এই আতংক বাড়তে থাকে । কেননা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানের লোকজন নারায়ণগঞ্জে কাজ করে থাকেন । ফলে ভাইরাসে সংক্রমতি হওয়ার আশংকা রয়েছে । সিলেট বিভাগের তিনটি জেলা ও দেশের অন্যকোনো স্থান থেকে সিলেটে কোনো লোককে প্রবেশ করলে প্রশাসনকে জানানোর জন্যে বলা হয়েছে । এই জেলাকে সংক্রমণ থেকে দূরে রাখার জন্য জেলার সবকটি প্রবেশদ্বারে পুলিশই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে । সেই সাথে রয়েছে সেনাবাহিনীর টহল।

এই দুটি ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে নতুন করে আরও একটি ঘটনা ঘটেছে । বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) ভোরে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় মানুষ ভর্তি ঔষধের ভ্যান প্রবেশ করে। ভোর ৬টার দিকে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ থেকে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নে মেসার্স রূপা এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা মেট্রো-ড, ১৪-৬০২৪) একটি ভ্যান ১৩জন যাত্রী নিয়ে প্রবেশ করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে ওই এলাকায় একটি ভ্যান প্রবেশ করলে স্থানীয় জনতা তার গতিরোধ করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পালিয়ে যায় চালক। উপস্থিত জনতার সন্দেহ হলে দ্রুত অকেজো করে রাখা হয় একটি চাকা। পরে খোলা হয় ভ্যানের দরজা। ভেতরে পাওয়া যায় ৯ জন নারী-পুরুষ ও ৪ শিশু।

যাত্রীরা জানান, তারা সকলেই স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা। তারা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। কাজ না থাকায় ওই ভ্যানে করেই বাড়ি ফিরেন তারা। পরে পুলিশে খবর দিলে নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয় হয়। হোম কোয়ারাইন্টাইন নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে দেয়া হয় খাদ্য সামগ্রী। ঔষধের ভ্যানটি জিম্মায় নেয় থানা পুলিশ।

অন্যদিকে এই ঘটনার পর থেকে সিলেটসহ বিশ্বনাথ উপজেলার সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেড়েছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ শামীম মুসা বলেন,স্থানীয় জনতা আঁচ করতে না পারলে বিষয়টি অগোচরেই থেকে যেতো। ইটভাটা শ্রমিকদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ওই ভ্যানটি আমরা আটক করেছি। শ্রমিকদের ত্রাণসহ হোম কোয়ারাইন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে।






Related News

Comments are Closed