Main Menu

১৩৫ বছর পরও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে লাশবাহী নিজস্ব গাড়ি নেই

এম,এ রউফ,সিলেট।। ১৮৬৭ সালে পৌরসভা গঠনের ১৩৫ বছর এত বছরেও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে লাশবাহী নিজস্ব কোন গাড়ি নেই।

২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তারপর ২০০৯ সালে মর্যাদা লাভ করে মহানগরীর। গাড়ি থাকলে সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় সেই সেবাটুকু পেতে পারতেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। কিন্তু নাগরিক সুবিধায় সিটি কর্পোরেশনের ইতিবাচক বিভিন্ন উদ্যোগ থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।
তবে সিটি কর্পোরেশনে লাশবাহী গাড়ি থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সিলেটের সিভিল সার্জন হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, এটি আরো আগেই থাকা উচিত ছিলো। কারণ, সিলেট শুধু বিভাগীয় শহর নয়, প্রথম শ্রেণির সিটি কর্পোরেশনও। নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতেই তো সিটি কর্পোরেশন।

সবার জন্যই তো সিটি কর্পোরেশন। অথচ পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হবার এতো বছর পরও নাগরিকরা সেই সেবা পাননি।

সিলেট নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে কয়েক লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এক সময় শহরে অনেক বাসা বাড়ির খোলা জায়গা ছিলো, অনেকের ছিলো নিজস্ব (পারিবারিক) কবরস্থান। নিজেদের কোনো স্বজন মৃত্যুবরণ করলে পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হতো। কিন্তু সেই দিন এখন আর নেই। মানুষ বাড়ার সাথে সাথে সবকিছু ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে সিলেট শহরে পারিবারিক কবরস্থান নেই বললেই চলে। তাই, গোটা সিলেট শহর এবং শহরতলীর কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাদের একমাত্র ভরসা হয় হযরত মানিকপীর (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন গোরস্থান অথবা দরগাহে হযরত শাহজালাল (রহ.) এর গোরস্থানে।

মানিকপীর কবরস্থান হচ্ছে সিলেটের একমাত্র বৃহৎ সরকারি কবরস্থান। যা সিটি কর্পোরেশন দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় প্রতিদিন সেখানে কোনো না কোনো মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া হয়ে থাকে। কোনো ধরনের ফি ছাড়াই কবরের বন্দোবস্ত করা হয় সেখানে। এক্ষেত্রে অনেকেই লাশ বহনের জন্য গাড়ি ব্যবহার করেন। বিশেষ করে দূরের যাত্রী হলে ট্রাকে করে লাশ নিয়ে আসতে হয় কবরস্থানে। যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের পক্ষে ট্রাক ভাড়া করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। স্বজন হারিয়ে সেই লাশ মাটি দেয়ার পর ট্রাক ভাড়া নিয়ে তাদের দুঃশ্চিন্তা করতে হয়। মৃত্যুর পরও অসচ্ছ্বল পরিবারের জন্য এটি একটি বাড়তি চাপ হয়ে যায় তখন।

আর যারা নিতান্ত গরিব, বাড়ি থেকে কবরের দূরত্ব অনেক, তাদেরকে পায়ে হেঁটে লাশ বয়ে নেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো বাহন থাকে না। অনেকটা পথ কাঁধে করে লাশ নিয়ে আসতে হয় কবরস্থানে। কেউ কেউ নিরূপায় হয়ে রিকসা কিংবা সিএনজি অটোরিকসা করেও লাশ নিয়ে আসেন। এতে লাশের প্রতি অযতœ অবহেলা হয়ে যায়।

সরেজমিন হযরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে কথা হয় শহরতলীর খাদিমনগর থেকে স্বজনকে কবর দিতে আসা আনু মিয়ার সাথে। তিনি একজন কাঠমিস্ত্রী। ভাড়া করা একটি ট্রাকে করে আপন চাচার লাশ নিয়ে এসেছেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাক ভাড়া দেয়ার মতো সামর্থ্য পরিবারের নেই। পুরো টাকাটা আত্মীয় স্বজনরা দিয়েছেন। তার মতো প্রতিদিন এ রকম অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে লাশ নিয়ে আসেন। যাদের অনেকেরই গাড়ি ভাড়া দেয়ার মতো সামর্থ্য থাকে না। মানিকপীর এলাকার বাসিন্দা দুলাল বলেন, প্রায় সময় দেখা যায় সিএনজি অটোরিকসা করেও অনেকে লাশ নিয়ে আসেন। নিতান্ত গরিব যারা, যাদের বাড়ি একটু দূরে, তারা লাশ আনার ক্ষেত্রে রিকসা ব্যবহার করতেও দেখা যায়।

এইসব সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সিটি কর্পোরেশনে একটি লাশবাহী গাড়ি থাকা বিশেষ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।

১৮৬৭ সালে পৌরসভা গঠনের প্রায় ১৩৫ বছর পর ২০০২ সালে নগরীর মর্যাদা পায় সিলেট। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তারপর ২০০৯ সালে মর্যাদা লাভ করে মহানগরীর। পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হবার এত বছর পরও একটি লাশবাহী গাড়ি নেই।

অথচ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সুনামগঞ্জ পৌরসভায় লাশবাহী গাড়ি রয়েছে। বেশ কয়েক বছর আগে গাড়িটি ক্রয় করে পৌরসভা। পৌরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রয়াত জগলুল চৌধুরীর সময়ে গাড়িটি আলোর মুখ দেখে। ক্রয়ের পর বিনামূল্যে এ গাড়ি ব্যবহার করতে পারছেন পৌর নাগরিকরা। আর গাড়ির সম্পূর্ণ ব্যয় বহন এবং রক্ষণাবেক্ষণ করছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত’র জানান, নাগরিক সুবিধায় লাশবাহী গাড়িটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এর জন্য কোনো ধরনের চার্জ দিতে হয় না।

এদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনে লাশবাহী গাড়ি না থাকার ফলে সেই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন সিলেট মহানগরীর মানুষ। অথচ সিটি কর্পোরেশনের যত নিয়ম আছে সব নিয়মের ভেতরেই বসবাস করছেন সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

অন্যদিকে,সিলেট নগরীতে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করলেও অধিকাংশ মানুষ থাকেন ভাড়া করা বাসায়। সেই মানুষগুলোর মানিকপীরের টিলা কিংবা অন্য কোনো কবরস্থান ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। আর যারা শহরের স্থায়ী বাসিন্দা তাদের শতকরা ৫ ভাগেরও পারিবারিক কবরস্থান নেই বললেই চলে। তাদেরও ভরসা হয় দরগা কবরস্থান অথবা মানিকপীরের টিলা। তাই, সিটি কর্পোরেশনে একটি লাশবাহী গাড়ি থাকা জরুরি। গাড়ি থাকলে সঠিক সময়ের মধ্যে কবরস্থানে লাশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়। স্বস্তি মিলে গরিব অসহায় পরিবারগুলোতে।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পরবর্তী মিটিংয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।






Related News

Comments are Closed