Main Menu

পুলিশ বক্সে যেভাবে হামলা করে ‘জেএমবি’র সদস্যরা

ডেইলি বিডি নিউজঃ গত ফেব্রুয়ারিতে নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকার পুলিশ বক্সে হামলার সঙ্গে নব্য জেএমবির সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে জানতে পেরেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। হামলায় নব্য জেএমবির ৭ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

হামলার সঙ্গে জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতারের পর সোমবার (৪ মে) এসব তথ্য জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

হামলার ঘটনায় গ্রেফতার তিনজন হলেন- সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা হাদুরপাড়া এলাকার মো. ইসহাক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল্লাহ (২৪), দক্ষিণ মারফলা এলাকার মনির আহমদের ছেলে মো. এমরান (২৫) ও উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে মো. আবু সালেহ (২৫)।

এদের মধ্যে মো. সাইফুল্লাহ চকবাজার এলাকার নুরা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী, এমরান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এবং আবু সালেহ ন্যাশনাল পলিটেকনিকের ছাত্র।

রোববার বিকেলে নগরের বাকলিয়া থানাধীন ডিসি রোডের গণি কলোনীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথের নেতৃত্বে একটি টিম।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, পুলিশ বক্সে হামলার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে সরাসরি ৭ জনের জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছি আমরা। তবে তাদের গ্রুপটিতে ১২ জনের মতো সদস্য রয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি সেলিম, আবু সাদেকসহ তিনজন আইইডি নিয়ে এমরানের বাসায় যান। দুপুরে জুমার নামাজ শেষে কয়েক জায়গায় ঘোরাঘুরি করে সবাই মিলে বিস্ফারণের জন্য দুই নম্বর গেইট পুলিশ বক্সকে টার্গেট করেন।

রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে কীভাবে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটাতে হবে এমরানকে সেই প্রশিক্ষণ দেন সেলিম। পরে তার হাতে রিমোট কন্ট্রোলার হস্তান্তর করেন। আবু সাদেক আইইডি পুলিশ সদস্যদের অগোচরে পুলিশ বক্সের ভেতরে থাকা টেবিলের নিচে রেখে আসেন। পরে এমরানকে ফোনে জানান তিনি।

এমরান বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে রিমোট কন্ট্রোলারটি আপন নিবাসের সামনে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। পরে সাইফুল নামে আরেকজন ডাস্টবিন থেকে রিমোট কন্ট্রোলারটি সংগ্রহ করেন। তিনি পুলিশ বক্সের বিপরীতে যাত্রী ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে রিমোট কন্ট্রোলারের মাধ্যমে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটান।

বিস্ফোরণের পর এমরান ছাড়া অন্যরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে সাইফুল ডিসি রোডের গণি কলোনী এলাকার ওই বাসা ভাড়া নেন। সাধারণ ছুটিতে সবাই যার যার বাড়িতে চলে যায়।

পরে জহির নামে তাদের এক সদস্য ফোন করে বাড়ি থেকে সরে যেতে বললে সাইফুল, এমরান, আবু সালেহ সেলিমের দেওয়া ব্যাগ নিয়ে ডিসি রোডের বাসায় এসে আত্মগোপন করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা পলাশ কান্তি নাথ বলেন, গ্রেফতার নব্য জেএমবির সদস্যরা ইউটিউবে রাজ্জাক নামে একজনের বক্তব্য শুনে জঙ্গিবাদে অনুপ্রাণিত হয়। একই নিয়মে নামাজ পড়ার সময় তারা নিজেদের একই মতাদর্শ সেটা জানতে পারেন। পরে তারা এক এক করে সংঘবদ্ধ হন।

গ্রেফতার নব্য জেএমবির সদস্যরা ও পলাতক সদস্যরা জামায়াত অধ্যুষিত সাতকানিয়া, লোহাগাড়াসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। এদের সবার বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা আগে শিবিরের আদর্শে বিশ্বাসী কী না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান বলেন, পুলিশ বক্সে হামলার সঙ্গে জড়িত ৩ জন নব্য জেএমবির সদস্য বলে জানতে পেরেছি আমরা। তাদের অন্য কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড আছে কী না তা যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেফতার আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তাদের গ্রেফতারের পর চট্টগ্রাম নগরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নগরের ২ নম্বর গেট মোড়ের পুলিশ বক্সে বোমা বিস্ফোরণে সার্জেন্ট আরাফাতুর রহমান, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মো. আতিকসহ ৫ জন আহত হন। এ ঘটনার পর হামলাকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযানে নামে পুলিশ।






Related News

Comments are Closed