Main Menu

ভুনবীরের সফল চেয়ারম্যান চেরাগ আলী

শেখ শফিকুর রহমান।। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ চেরাগ আলী। একজন ব্যবসায়ী,সফল রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, সালিশ বিচারক, শিক্ষানুরাগী ও অভিনয় শিল্পী।

মোঃ চেরাগ আলী চেয়ারম্যান ভুনবীর ইউনিয়নের আঐ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন পিতা মৃত গহর আলী। স্বশিক্ষিত এই জননেতার জীবনের অধিকাংশ সময়ধরে ছিল ব্যবসা বানিজ্য। মুলত তিনি গাছ মহালদার হিসেবে ব্যবসায়ী জীবন শুরু করেন পরবর্তীতে লেবু বাগান ব্যবসায় জড়িত হন। ব্যবসায়ী জীবনে তিনি খুবই সফল একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। যেহেতু গাছ মহালদার ছিলেন সেই জন্য সবাই তাকে চেরাগ আলী মহালদার নামেই চিনতেন বেশী। তিনি জীবনে এক সময় অসংখ্য যাত্রা পালায় অভিনয় করেছেন। এবং যাত্রা পালায় অভিনয় করে দর্শকের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করতে সমর্থ হয়েছিলেন। অভিনয় ছিল তার অন্যতম একটি শখ।

জাতীয় পাটি ক্ষমতায় আসার পর শ্রীমঙ্গলের জাতীয় পাটির সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ আহাদ মিয়ার সংস্পর্শে আসেন ও জাতীয় পাটিতে যোগদান করার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের সুচনা হয়। জাতীয় পাটি ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর তাকে আর রাজনীতিতে খুব এক‌টা সক্রিয় দেখা যায়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মৌলভীবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদের নৌকার পক্ষে ভুনবীর মির্জাপুর ইউনিয়নে জয়লাভে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রাখেন তিনি। তারপর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আসলে তিন বারের উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেবেের সকল নির্বাচনে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত থেকে সহযোগিতা করেন মরহুম চেরাগ আলী চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে ভুনবীর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন এবং ডাঃ আবুল বাশার চেয়ারম্যানকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে তাকে হত্যা মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ দিন কারাবরণ করতে হয়। আদালতের মাধ্যমে হত্যা মামলা থেকে খালাস হয়ে আসেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভুনবীর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার জীবনের সর্বশেষ নির্বাচনে নৌকা প্রতিক না পেয়েও বিপুল ভোটে আবারও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি একজন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ছিলেন। লাহারপুর আব্দুল ওহাব উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি, লছনা সাতগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তার সার্বিক সহযোগিতায় ছনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একজন গর্বিত পিতা তার এক মেয়ে পারভীন আক্তার বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এক ছেলে মোঃ কাওছার আহমেদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছে। আঐ পুর্ব পাড়া জামে মসজিদ ও ঈদগাঁও প্রতিষ্ঠা করেন। খেলা ধুলার প্রতি তার সীমাহীন আগ্রহ ছিল। এলাকার অনেক ফুটবল খেলার আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন আন্তরিক ভাবে। গান্ধী রেলওয়ে ফুটবল মাঠে নিয়মিত ফুটবল আসর বসে থাকে প্রতি বছর যেখানে তিনি নিজে অবস্থিত থেকে উৎসাহ দিয়ে আসতেন। তিনি আপাদমস্তক একজন সালিশ বিচারক তথা আটাশের অন্যতম সর্দার ছিলেন। এলাকার মানুষের সুখে দুখে বিচার সালিশের জন্য ছুটে গেছেন বিরামহীন ভাবে। ভুনবীর ইউনিয়ন বাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই চেরাগ আলী চেয়ারম্যান হৃদযন্ত্রের ক্রীড়া বন্ধ হয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন আর রেখে গেছেন মানুষের কাছে তার হাজারো স্মৃতি। জীবনের শেষ মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তার দায়িত্ব শেষ করতে পারেননি তার স্বপ্ন অসমাপ্ত রেখেই মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয়েছে। ভুনবীর ইউনিয়নের ইতিহাসে একজন জনপ্রিয় সফল চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়ন বাসীর হৃদয়ে অটুট হয়ে থাকবেন চিরদিন।

লেখকঃ শেখ শফিকুর রহমান
সাংবাদিক, কলামিস্ট
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।






Related News

Comments are Closed