Main Menu

মাটির ঋণ শোধ করতে এসেছি, সুযোগ না দিলে ফিরে যাব : ডা. ফেরদৌস

ডেইলি বিডি নিউজঃ ডাক্তার শাহেদ ইমরানের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করেছিলাম। যে টিমের সদস্যরা মাঠে থেকে করোনা আক্রান্ত মানুষের সেবা দেবেন। এছাড়া এই টিমের সদস্য হয়ে মেডিক্যাল কলেজের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করবেন। রোগীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হবে রুটিন মাফিক। কিছু টিম আমাদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও সেবা দেবে। দেখুন বাংলাদেশের ডাক্তারা অবশ্যই বিশ্বমানের। তাদের আত্মত্যাগের কোনো কমতি নেই। যারা খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তাদের কথাগুলো হয়তো মিডিয়ায় খুব বেশি প্রচার পায়নি। তারাই এই করোনা যুদ্ধের জেনারেল আর সেক্টর কমান্ডার। আমি তাদের টিমের একজন সৈনিক হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে এসেছি।

দেশে আসার পর গত রবিবার থেকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন তিনি। ব্র্যাক ট্রেনিং সেন্টারে রাখা হয়েছে তাকে।

ফেরদৌস খন্দকার বলেন, আমি মানুষের ভালোবাসার টানে এসেছি, দীর্ঘ সময়ের জন্য আসিনি। আমার তো দেশে ফেরত যেতে হবে। কিন্তু কোয়ারেন্টিনে বন্দির মতো চলে গেলো ছয়দিন সময়, ১৪ দিন যদি কোয়ারেন্টিনেই থাকতে হয়, তাহলে সেবার দেওয়ার সময় কোথায় পাবো? যদিও অ্যান্টিবডি পজিটিভ থাকার পরো আমাকে এখানে রাখা হয়েছে। দেখুন আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্ররাজনীতি করে আসছি, বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধারণ করি। আমাকে মানুষের সেবা দেওয়ার সুযোগ না দিলে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে চলে যাবো। তাহলে হয়তো দূর থেকেই কাজ করতে হবে। আমার ডাক্তার টিমের সদস্যরা নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠে কাজ করবেন।

আফসোস করে ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার বলেন, ভালো কাজের পদে পদে বাধা আসে। আমার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। আমি আসছি কাজ করতে, আমি ভালোবাসা দিয়েই জয় করবো সবাইকে। আমি বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বেচ্ছায় কাজ করতে এসেছি। ব্যবসা করতে নয়। যদি কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়; তাহলেই কাজ করবো, নইলে চলে যাবো। আমি তো কোনো সময় বলেনি যে এখানে থেকে যাবো। আমার পরিবারের সবাই আমেরিকা থাকে। আমি কোনো এমপি-মন্ত্রী হতে আর রাজনীতি করতে আসিনি। আসছি এদেশের মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য, জন্মভূমির বিপদে পাশে থাকার জন্য। আমার এই আসাটাকে কিছু মানুষ হয়তো ভালোভাবে নেয়নি। কি কারণে নেয়নি আমি জানি না। আমার কাছে মাটির যে ঋণ, সেই ঋণ শোধ করতে এসেছি। মাটির ঋণ যদি একটুও শোধ করতে পারি আমার নিজের আত্মা শান্তি পাবে। আমি আমার দায়িত্ব বোধ থেকে এসেছি।

ফেরদৌস খন্দকার বলেন, আমরা যদি কিছু কুচক্রি মানুষগুলোর জন্য ছেড়ে চলে যাই। তাহলে আমাদের নেত্রীর হাত দুর্বল হবে, যারা এমন মিথ্যাচার করছে তারাই খন্দকার মোস্তাকের দোসর। তারা আমার নেত্রীর হাতকে দুর্বল করে দিয়ে খন্দকার মোস্তাকের কাজ করছে। আমাদের সবাইকে চ্যালেঞ্জ নিতে হবে, ছেড়ে যাওয়া যাবে না।

গুজব ও মিথ্যাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেখুন, আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি, কখনও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। যখন যুক্তরাষ্ট্রে আমি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত হতে থাকলাম, তখন থেকেই বুঝতে পারলাম, আমাকে কেউ কেউ রাজনীতির মাঠে মেনে নিতে পারছে না। নানাভাবে আমার রাজনীতির কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছিল। আমাকে খন্দকার মোস্তাকের ভাতিজাসহ নানাভাবে বিতর্কিত করতে চেয়েছে। আমার ধারণা সেই নিউইয়র্ক থেকে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপসহ স্বাধীনতাবিরোধী চক্রও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে মাঠে নেমেছে। সেই গ্রুপের প্ররোচণায় বাংলাদেশের একজন শ্রদ্ধাভাজন মানুষের ফেসবুক আইডিতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারটি শুরু হয়। এরপর না বুঝেই গুজবটি ভাইরাল হয়।শেষ পর্যন্ত গুজবকে বিতারিত করে সত্যটি উন্মোচিত হয়। গুজবকারীরা অনেকেই লজ্জায় অনুতপ্তও হয়। তবে এই মিথ্যাচার আর গুজবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল আমার ছাত্রলীগের ভাইয়েরা,যুবলীগ, আওয়ামী লীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ।আমি ওইসব মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ,তাদেরও ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না।






Related News

Comments are Closed