Main Menu

ওসমানীর পরে শহীদ শামসুদ্দীনেও টেস্ট জ্যাম

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে না হয়,কর্তৃপক্ষের ভাষায়, ব্যাকলগ বা জ্যাম তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শহীদ শামসুদ্দীন মেডিকেলের তাহলে কি ঘটেছে? ওসমানীর সূত্র অকপটে স্বীকার করেন দুসপ্তাহ আগেও তাদের মহাজ্যাম লেগেছিল। যে অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত ৫ হাজারের কম টেস্ট হয়েছে, সেখানে যদি ১ হাজারের বেশি নমুনা একসঙ্গে আটকে পড়ে তাহলে সেটা কী ধরণের শৃঙ্খলা নির্দেশ করে, সেটা বলা বাহুল্য। অবশ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, দিনরাত খেটে সেটা বহুলাংশে দূর করা গেছে। ৩/৪ দিন আগেও ওসমানীতে অন্তত চারশ স্যাম্পেল জ্যামে পড়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে আমরা শহীদ শামসুদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি পিসিআর পরীক্ষার নয়টি নমুনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি।

সমীক্ষায় দেখা যায়, শহীদ শামসুদ্দীন মেডিকেলের নমুনা সংগ্রহ এবং টেস্টের ফলাফল প্রকাশে জ্যাম লেগে আছে। আমাদের প্রতিবেদকগণ লক্ষ্য করেন যে, নমুনাদাতাদের টেলিফোন নম্বরগুলোর বেশিরভাগ বেজেই চলে। কেউ ধরেন না সহজে। বিশেষ করে যারা পজিটিভ তাদের ক্ষেত্রে দ্বিধাটি বেশি। অনেক ক্ষেত্রে তারা সামাজিকভাবে কলংকিতও হচ্ছেন।

নয়জনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাদের বাইরে আরো কয়েক জনের সঙ্গে কথা হয়। তারাও এবিষয়ে কথা বলতে দ্বিধান্বিত। অজানা এবং অনাবশ্যক ভীতিও আছে। কারণ এর সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও সংশ্লিষট রয়েছেন।

সাক্ষাৎকার থেকে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন ’’গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্তের’’ যে তথ্য দেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার সংঘাত তৈরি হয়ে চলছিল গোড়া থেকেই।

নয়জনের নমুনা সংগ্রহ এবং ফলাফল প্রকাশে গড় সময় লেগেছে ৭ দিন। তবে নয় জনের মধ্যে ৪ জনেরই ১০ দিন সময় লেগেছে। প্রায় সবাই পজিটিভ। আমাদের এই সমীক্ষায় শুধু একবার টেস্ট হওয়া ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছেন।

নয়টি স্যাম্পল

তারেক আহমেদ চৌধুরী

তিনি স্যাম্পল দিয়েছেন ১৭ জুন, শামসুদ্দিন হাসপাতালে। রিপোর্ট এসেছে ২৩ জুন। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে একবার ফোন করে জানানো হয়েছে। সুস্থ থাকায় হাসপাতালে যেতে হয়নি।

নুরুল ইসলাম সোহেল

প্রথম স্যাম্পল দিয়েছেন ৬ জুন, রিপোর্ট পেয়েছেন ১৬ জুন। দ্বিতীয় স্যাম্পল দিয়েছেন ১৭ জুন রিপোর্ট পেয়েছেন ২৩ জুন। পুলিশ ফোন করে জানিয়েছে। চিকিৎসকের নাম্বার দিয়েছে প্রয়োজনে যোগাযোগ করার জন্য।

দিজেন্দ্র কুমার দাস

প্রথম স্যাম্পল দিয়েছেন ৯ জুন, কিন্তু রিপোর্টের বিলম্ব দেখে তিনি অস্থির হয়ে ওঠেন। অন্তত কিছু ক্ষেত্রে স্যাম্পল দ্বিতীয়বার নিতে হয়েছে। কারণ ঠিক মতো নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। দিজেন্দ্র কুমার দাস সেকারণে নিজেই উদ্যোগী হয়ে ৯ দিন পরে নমুনা দেন। ১৮ জুনে দ্বিতীয় নমুনা দেন। কিন্তু পরদিনই তিনি প্রথম নমুনার রিপোর্ট পেয়ে দেখেন তিনি পজিটিভ। আবার দ্বিতীয় স্যাম্পল রিপোর্ট পেয়েছেন ২৪ জুন। সেখানেও পজিটিভ। দুইবারই শামসুদ্দিন হাসপাতালে স্যাম্পল দিয়েছেন। ১৩ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত শরীর খুব খারাপ ছিল। পুলিশ ফোন করে জানিয়েছে। চিকিৎসকের কাছে টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে বর্তমানে সুস্থ। তিনি সন্তুষ্ট।

কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, শুধু পজিটিভ হওয়া ব্যক্তি রোগ সেরে যাওয়ার পরে দ্বিতীয়বার টেস্ট করেছেন, তাই নয়। তিনি কৌতূহলী হয়ে দ্বিতীয়বার টেস্ট করাতে পেরেছেন। এবং তিনি বাধাগ্রস্ত হননি। এটা নির্দেশ করে যে, বর্তমানে কম্পিউটারে তারা এমনভাবে তথ্য রাখছেন, যাতে একই ব্যক্তি কারণে–অকারণে একাধিকবার টেস্ট করাতে গেলে যন্ত্র তাকে শনাক্ত করবে না।

এর আগে প্রবীণ সরকারি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম এ ফয়েজ এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ‘সামাজিক কারণঘটিত টেস্ট হচ্ছে’ বলে সতর্ক করেছেন। এর অর্থ হলো, উপযুক্ত উপসর্গ আছে, এমন লোক চান্স পাচ্ছেন না, কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে বা ম্যানেজ করে অনেকেই করাতে পারছেন, যাদের হয়তো দরকারই ছিল না। সেই অর্থে যতো টেস্ট সিলেটে এপর্যন্ত হয়েছে, তার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যার যথার্থতা বা শুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।

ইয়াসিন

স্যাম্পল দিয়েছেন ১৮ জুন, রিপোর্ট পেয়েছেন ২৪ জুন। শামসুদ্দিনে স্যাম্পল দিয়েছেন। পুলিশ ফোন করে জানিয়েছে। শামসুদ্দিন হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়েছেন। তাদের পরামর্শমত চিকিৎসা চলছে।

দিপা দাশ

স্যাম্পল দিয়েছেন ১৮ জুন, রিপোর্ট পেয়েছেন ২৪ জুন। শামসুদ্দিনে স্যাম্পল দিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে জানিয়েছে। টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছেন। তাদের পরামর্শমত চিকিৎসা চলছে। মোটামুটি সুস্থ আছেন।

শাহ দিদার আলম নবেল

৬ জুন নমুনা দিয়েছেন রিপোর্ট পেয়েছেন ১৬ জুন। নেগেটিভ। শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা দিয়েছিলেন।

সাকিফ আহমদ

তিনি নমুনা দিয়েছিলেন ৭ জুন। নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে ১৭ জুন। শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা দেন। অফিসিয়ালি প্রথমে জানানো হয়নি নেগেটিভ। নিজে খোজ নিয়ে জেনেছেন। পরে ২-৩ দিন আগে মেসেজ এসেছে।

বনবির দে

২০ জুন শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা দেন। রিপোর্ট এসেছে ২৪ জুন। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ফোন করে জানিয়েছে। সুস্থ আছেন। প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য চিকিৎসকের নাম্বার দেয়া হয়েছে।

সৈয়দ রাসেল

নমুনা দিয়েছেন ২১ জুন। রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে ২৬ জুন। নিজে খোজ নিয়ে জেনেছেন রিপোর্ট।

সিলেট বিভাগের সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এক বাক্যে স্বীকার করেন টেস্ট বাড়ানো দরকার। কিন্তু কারো জানা নেই, কতদিনে এটা প্রতিদিনের মোট কত জনের টেস্ট করা থেকে তারা কতজন ব্যক্তিতে পৌছাবেন। কারণ তারা কেউ এভাবে হিসাবই রাখেন না। কর্মকর্তারা বলেছেন, সিলেটের প্রতি জেলা সদরে একটি করে ল্যাব বসবে। কিন্তু সেটা কবে, তা কারো জানা নেই।






Related News

Comments are Closed