Main Menu

নিরাপদ হল কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক নৌ রুট

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :: বেশ কয়েকবছর ধরেই চাঁদাবাজদের দখলে কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক নৌপথ। ঘাটে ঘাটে নামে বেনামে চাঁদা আদায়ের কারণে অতিষ্ঠ বালু ব্যবসায়ীরা।

গ্রামের নামে, পুলিশের লাইনের নামে এমনকি নদীর মালিকানার নামেও চাঁদা আদায় করা হতো। চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে নির্বিকার ব্যবসায়ী নৌযান মালিকরা বাধ্য হয়ে ব্যবসার একটা অংশ চাঁদার জন্য বরাদ্দ রাখতো।

তবে এবার নিরাপদ কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক নৌ রুট। চাঁদাবাজদের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার নবাগত ওসি কে এম নজরুল ইসলাম।

নৌপথে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নিরাপদে পণ্য পরিবহণ করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে করোনাকালে ব্যবসার মন্দা সময়ে চাঁদা প্রদানের ভীতি সরায় স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীর মধ্যে।

জানা গেছে, করোনার প্রাদুর্ভাব ও সরকারি বিধি নিষেধ থাকায় কোম্পানীগঞ্জে বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিলো। বিপর্যস্ত মুহূর্তে কিছু দিন আগে সরকার বালু মহল ইজারা দেওয়ায় বৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করার সুযোগ পান ব্যবসায়ীরা। তাই নৌপথে পরিবহন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে নৌপথে পন্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ টি স্থানে বিভিন্ন নামে বেনামে চাঁদা দিয়ে ভাড়া বৃদ্ধির ফলে ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এবার সেই চাঁদাবাজদের ভয় থাকলেও থানা পুলিশকে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। নদীতে পুলিশের স্পিড বোট দিয়ে টহলসহ চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করায় নির্বিগ্নে নৌপথে চলাচল করছে কয়েক শত বলগেট নৌকা।

সূত্র জানায়, নৌপথে নিরাপদে পন্য পরিবহনের মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন কোম্পানীগঞ্জ থানার নবাগত ওসি কেএম নজরুল। নৌপথে নানা অজুহাতে চাঁদাবাজি বন্ধে মাঠে নেমে পড়েন তিনি। তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে আটক করে মামলা দেন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়া জানান, গত বছরও কোম্পানীগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত বালু পরিহনে পুলিশের লাইনের নামে, নদীর জায়গার মালিক, গ্রামের কমিশনসহ বিভিন্ন নামে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিতে হত। কিন্তু এবছর কোথাও কোন চাঁদাবাজি না হওয়ায় বালুর দাম কম থাকার পরেও বেশ লাভবান হচ্ছি আমরা। তাই সিলেটের পুলিশ সুপার ও নবাগত ওসির প্রতি সকল বালু ব্যবসায়ীরা কৃতজ্ঞ।

এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল জানান, নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি লাঘবে অধিকাংশ সময় আমি নিজেও তদারকি করছি ।

ওসি জানান, সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নৌপথে সন্দেহ জনক নৌকা তল্লাশি ও টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জে কোন ধরণের চাদাবাজির সুযোগ দেয়া হবে না।

চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা হবে। কোথাও যদি চাঁদাবাজি হলে থানা পুলিশকে অবগত করার আহবান জানান তিনি।






Related News

Comments are Closed