Main Menu

জাফলংয়ে ফটোগ্রাফার সাদ্দাম হত্যা ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান

আব্দুল হালিম সাগর (বিশেষ প্রতিবেদন): সিলেটের জাফলংয়ে বনবিভাগের গ্রীনপার্ক এলাকা থেকে (১৫ জুলাই) বুধবার ট্যুরিস্ট গাইড ও ফটোগ্রাফার সাদ্দাম হোসেন(২৬) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের সুরতহাল রির্পোট ও ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দাফন সম্পন্ন হয় পারিবারিক কবরস্থানে। নিহত সাদ্দাম হোসেন জাফলংয়ের কালিনগর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে পেশায় তিনি একজন ট্যুরিষ্ট ফটোগ্রাফার ও পর্যটক গাইড।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ক্যামেরা নিয়ে পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য পর্যটন কেন্দ্র সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প এলাকার উদ্দেশ্যে সাদ্দাম বাড়ি থেকে বের হন। পরে বিকেলে জাফলং বনবিটের গ্রীনপার্ক এলাকায় কাছের টিলায় তার লাশ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। সে সময় লাশের পাশ থেকে একটি ধারালো অত্যাধুনিক চাকু ও একটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করে। লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরীকালে নিহত সাদ্দামের কাঁধে,গাড়ে, পেঠে ও শরিরে একাধিক আঘাতের চিহিৃন্ন পায় পুলিশ। সাদ্দাম হোসেন নিহতের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী নছিরা বেগম। গোয়াইনঘাট থানার মামলা নং ১২/২০২০ইং।
ঘটনার পর থেকে রহস্য উদ্ঘাটন ও পরিবারে সন্ধিগ্ন ব্যক্তিদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশ। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার ওসি হিল্লোল রায়কে।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, জাফলংয়ের নয়াবস্তির মকবুল হোসেনের সঙ্গে জমি দীর্ঘ দিনের বিরোধের জেরধরে গত ২২ শে এপ্রিল নয়াবস্তির ইনছানের ছেলে পাথরখেঁকো আলীম উদ্দিন তার ভাই রেজোয়ান, রায়হান সহ কয়েকজন মকবুল আলীর বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে আজকর ও আকবর, জব্বারদের উপর হামলা চালিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে। এ সময় হামলাকারীরা তাদেরকে দা দিয়ে কুপানোসহ চাকু দিয়ে একাধিক স্ট্যপিং করে। এঘটনায় মকুবল আলীর ছেলে ইউছুফ আলী গোয়াইনঘাট থানার মামলা দায়ের করেন, যাহার নং-১১(৪)২০ইং। উক্ত ঘটনায় মামলা দায়ের হলে আলীম উদ্দিন বাহিনী ২য়বার হামলা করে মকবুলের ছেলেদের উপরে। এ সময় হামলাকারীরা একাধিক চুরিঘাতের ঘটনা ঘটায়। উক্ত ঘটনায়ও থানায় মামলা হয়, যাহার নং ০৬(৫)২০ ইং। এই মামলাটি দায়েরের পর জাফলং বাজার এলাকায় আলীমসহ তার ভাইয়েরা হামলা করে মকবুল আলীর ছেলে আব্দুল জব্বার ও খালাতো ভাই সাদ্দামের উপরে। জব্বারকে মারা অবস্থায় নিজের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করেন সাদ্দাম। এসময় আলীম বাহিনীর সদস্যরা সাদ্দামের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহযোগীতায় রক্ষাপান সাদ্দাম। উক্ত ঘটনার জের ধরে পরে বল্লাঘাট এলাকায় আলীমের ভাই রেজোয়ানের কাছে রুশানলে পড়েন ফটোগ্রাফার সাদ্দাম। কারণ আলীমদের চিরশত্রæ মকবুলের ছেলে আব্দুল জব্বারের সাথে চলাফেরা করতো ফটোগ্রাফার সাদ্দাম। তাই নিহত সাদ্দামের খুনের ঘটনার সন্ধেহের তীর আলীম উদ্দিন বাহিনীর দিকে দেখছেন অনেকে।
সরেজমিনে জানা যায়, আলীম উদ্দিন নিজে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেছেন। এই বাহিনীর স্ট্যপিং গ্রæপের সদস্য হিসাবে কাজ করেন গোয়াইনঘাট উপজেলার খাপাউরা গ্রামের আইনুল ও লনী গ্রামের কামরুলসহ কয়েকজন। এ বাহিনীর কাছে রয়েছে দেশী বিদেশী অস্ত্র। এরা বিভিন্ন সময়ে আলীম উদ্দিনের নির্দেশে জাফলং এলাকায় চাকু দিয়ে স্ট্যাপিং করে সাধারণ মানুষকে। নদীতে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনকালে কেউ ছবি তুলতে গেলে আলীম উদ্দিনের নির্দিশে বাহিনীর একাধিক সদস্য বাধা-নিষেধসহ স্ট্যপিং হামলা ঘটনা গঠিয়েছে ইতিপূর্বে।
এদিকে, ফটোগ্রাফার সাদ্দাম হোসেন নিহত হওয়ার দিন গোয়াইনঘাট উপজেলা সদর থেকে একটি লেগুনা সহযোগে জাফলংয়ে ঘুরতে যায় একদল যুবক। যাদের সাথে জাফলং ট্যুরিষ্ট ফটোগ্রাফারদের ঝামেলা ও মারা-মারির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় লোকজনের
সহযোগীতায় সেই লেগুনাটির নয়জনের মধ্যে ৫জন যুবককে ফিরত পাঠানো হলেও, বাকি চারজন মারামারি সময়ে কোথায় পালিয়ে যায়। অনেকে সেই ঘটনার সাথে সাদ্দাম নিহতের এ ঘটনার যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টাও করছেন। তবে সেই সময়ে সাদ্দাম হোসেন সেখানে উপস্তিত ছিলোনা বলে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
নির্ভরযোগ্য আরেকটি সূত্র জানায়, অনেক সময় জাফলং পর্যটন এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা গঠে। যাহা বেশীর ভাগই বহিরাগতদের দ্বারা সংঘঠিত হয়ে থাকে। সেই হিসাবে বিষয়টিকে মাথায় নিয়ে কাজ করছেন পুলিশের একাধিক টিম। কারণ নিহত সাদ্দামের ক্যামেরা মোবাইলটি এখনো উদ্ধার হয়নি, বা লাশের পাশে পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার রাতেই ওসি আব্দুল আব্দুল আহাদ নিহত সাদ্দামের পরিবার পরিজনসহ ট্যুরিষ্ট গাইডদের সাথে কথা বলেন এবং নিজের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতার পাশাপাশি শিঘ্রই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস প্রদান করেন বলে জানান স্থানীয়রা। তবে পুলিশের একটি বিশেষ সূত্র জানায়, ফটোগ্রাফার সাদ্দাম হোসেন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছেন গোয়াইনঘাট সার্কেল এএসপি নজরুল ইসলাম ওসি আব্দুল আহাদ। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে তৎপর রয়েছে পুলিশের একাধিক টিম, ব্যবহার করা হচ্ছে প্রযুক্তি।






Related News

Comments are Closed