Main Menu

জৈন্তাপুরে ৪র্থ দফায় বন্যায় জনজীবন বিচ্ছিন্ন, তলিয়ে গেছে গ্রামীন জনপদের রাস্তাগুলো

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: সিলেটের জৈন্তাপুরে অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং উপজেলার সবক‘টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল ৪র্থ বারের মতো বন্যায় পানি প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধি অবস্থায় দিন যাপন করছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও গ্রামীন রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সারী নদীর পানি বিপদ সীমার .৬১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উপজেলার সবক‘টি নদ-নদীর পানি বদ্ধি পেয়েছে এবং সারী ও বড়গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বড়গাং, শ্রীপুর, রাংপানি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। তবে বৃষ্টি থামার সাথে সাথে পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যার পানিতে গ্রামীণ জনপদের বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় জৈন্তাপুর উপজলা পরিষদ চয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজলা পরিষদর সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহমদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মানিক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করছেন। তবে সরকারি ভাবে আজ কোন খাবার বিতরন করা হয়নি। তবে ব্যাক্তি উদ্দ্যোগে শুকনো খাবার বিতরন করতে দেখা যায়। ৪র্থ বারের মত বন্যা হওয়ায় উপজেলার গ্রামীন জনপদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের আউস ধানের চারা পানির নীচে তলিয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সালাউদ্দিন মানিক বলেন, সরকারী ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দের জন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরোও বলেন, উপজলার ৫টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৮ শত ৭৫টি পরিবারের জনগন পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলার উচু এলাকার ১৬টি স্কুলকে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রী, শেওলারটুক, বাওন হাওর, বাউরভাগ, লক্ষীপুর, বিরাইমারা,মুক্তাপু, মুয়াখাই, লামনীগ্রাম, কাটাখাল গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অনেক রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

নিজপাট ইউনিয়নের উপজেলা সদরের বন্দরহাটি, মেঘলী, তিলকইপাড়া নয়াবাড়ি, জাঙ্গলহাটিসহ বিভিন্ন এলাকা এবং পশ্চিম গৌরিশংকর, ডিবির হাওর, কামরাঙ্গীখেল, বাইরাখেল, হর্নি, কালিঞ্জীবাড়ি, দিগারাইল, নয়াগাতি, বারগতি, হেলিরাই, গুয়াবাড়ি সহ আরোও অনেক এলাকায় পানি প্রবেশ করে। অনেকেই বসতঘরে পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। চিকনাগুল ইউনিয়নের কাটুয়াকান্দি, কাপনাকান্দি, শিখার খাঁ গ্রামের অনেক মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। অনেকেই নৌকা দিয়ে চলাচল করছে।
দরবস্ত ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ইউনিয়নের সেনগ্রাম, গর্দ্দনা, হাজারী সেনগ্রাম, তেলিজুরী, ছাত্তারখাই গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

ফতেপুর ইউনিয়নের বালিপাড়া, লামাশ্যামপুর, দলাইপাড়া এলাকার বিভিন্ন বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল, বালিদাড়া, থুবাং, ভিত্রিখেল, সরুখেল সহ আরোও অনেক গ্রামে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ও পাহাড়ী ঢলে কারনে উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পর পর বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন মৎস্যজীবিদের ফিসারী‘র মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফারুক আহমদ প্রতিবেদককে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের উচু এলাকার ১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।






Related News

Comments are Closed