Main Menu

সুনামগঞ্জে ৬শ’ কি:মিটার সড়কের বেহাল দশা, প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার ক্ষতি

সুনামগঞ্জ থেকেঃ সুনামগঞ্জে চলমান বন্যার প্রবল তোড়ে, পাহাড়ী ঢল অার ভারি বর্ষণে জেলার অভ্যন্তরীণ রোডে ও বিভিন্ন উপজেলার আন্তঃসংযোগ গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েেছে।

যান ও যাত্রী চলাচলে অন্তহীন দুর্ভোগ আর দুর্দশার যেন শেষ নেই। সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই, শাল্লা সহ সবক’টি উপজেলার সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত আকার ধারণ করেছে। গত দশ দিনের ব্যবধানে দুই দফা বন্যার কারণে এসব এলাকার ৬’শ কিলোমিটার সড়ক ভেঙ্গে গেছে। অর্ধশতাধিক সেতু ও কালভার্টের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

জেলার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এই সড়ক গুলোতে টাকার অংকে তিনশ’ কোটি টাকার উপরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করছে প্রশাসন।

এ কারণে জেলা সদর ও অন্যান্য এলাকায় যাতায়াতকারী লাখো মানুষ চরম সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। বিভিন্ন সড়কের ভাঙ্গনের কারণে বিকল্প পথে খেয়া-ফেরি নৌকা দিয়ে পারাপারের মাধ্যমে জেলা শহর ও উপজেলার সঙ্গে যাতায়াত চালু রাখা হয়েছে।

অবশ্য ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জামালগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুরসহ বিভিন্ন উপজেলার ভাঙ্গন কবলিত সড়ক সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

সুনামগঞ্জ ছাতক সড়কের কাটাখালী এলাকায় প্রথম দফার বন্যায় ভাঙন দেখা দেয়। পরে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানি প্রবল তোড়ে সড়কের ভাঙা অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। ঢলের পানির চাপে ব্যাপক আকারে সড়কে ভেঙে গেছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, ৩০টি সড়ক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩০টি গ্রাম প্রতিরক্ষা দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার সড়ক অবকাঠামোতে সাড়ে ৩’শ কোটি টাকার ওপরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গতরা জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি সড়কের উপর দিয়ে উপচে যাওয়ায় ও বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সুর নদীর পানি জামালগঞ্জ অংশের উজালপুর সড়কের মূল রাস্তা ভেঙ্গে উজানের ঢলের ভীমখালী ইউনিয়ন ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কাটাখালী সড়কে ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে ১৫টি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জামালগঞ্জের মৌলীনগন গ্রামের লিয়াকত আলী বলেন, পয়লা বন্যার থাইকা দ্বিতীয় বন্যার ফানি বেশী অইছে। সে জন্য মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ভাঙ্গনে আমরার যাতাযাতে খুব সমস্যায় আছি।

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবুল কালাম জাকারিয়া জানান, দ্বিতীয় দফা বন্যায় শুধু উপজেলার কিছু উচুঁ অংশ ছাড়া সব খানেই পানি উঠেছে। সড়ক, কালভার্ট, উপচে প্রবল বেগে আমাদের ঘরবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এখনো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। গবাদিপশু-গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, সড়কের ভাঙ্গনে প্রথমে পারাপারে কিছু সমস্যা ছিল, এটা সমাধানের জন্য উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের পরামর্শে ১৫ দিনের জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে সাময়িক লীজ দেয়া হয়েছে।

ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি পরবর্তীতে লীজ নেয়া ব্যাক্তিকে ডেকে বলা হয়েছে।এখন উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে মিটিং করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী অাফিন্দী রাজু বলেন, উজালপুর ভাঙ্গনের পরই আমরা পরিষদ থেকে চেষ্টা করেছিলাম পরিষদের খরছে জনগন কে ফ্রি পারাপার করতে পড়ে সবার সম্মতিতে ১৫ দিনের লীজ হয়েছে।

ভাড়া বেশী নেয়ার অভিযোগ শুনেছি। তবে ক’দিনে মধ্যেই উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন সমন্বয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো জনগনকে সুবিধা দিয়ে দু:সময়ে তাদের পাশে থাকতে।

সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম বলেন, চলতি বন্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১শত কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই দফা বন্যায় প্রায় ৬’শ কিলোমিটারের বেশী সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অর্ধশতাধিক সেতু ও কালর্ভাট সংযোগ বিছিন্ন হয়েে পড়েছে। ৩০টি ভিলেজ প্রটেকশন ওয়াল ভেঙে গেছে। টাকার অংকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখন পর্যন্ত সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে।

পানি সম্পূর্ণ কমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি নেমে গেলে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ এখন সিলেটকে বলেন, বন্যায় সুনামগঞ্জে অভ্যন্তরীন সড়কের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলো পরিদর্শন করছি। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কাজ করতে বলা হয়েছে। পানি একটু নামলেই সড়কের কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

সুনামগঞ্জ জেলাবাসী এই দুর্দশা থেকে দ্রুত পরিত্রান পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সুনামগঞ্জের সজ্জন প্রিয় ব্যক্তিত্ব পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ মান্নান (এমপি)’র সুনজর প্রত্যাশা করছেন জেলাবাসী।






Related News

Comments are Closed