Main Menu

করোনাকালে বন্যায় বিপর্যস্ত গ্রামীণ জনপদ, জীবন যেখানে থেমে গেছে

গোলজার আহমদ হেলালঃ মুষলধারে প্রবল বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে পানি। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরে চাল নেই, ডাল নেই, মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই।

স্মরণকালের সর্বনাশা ভয়াবহ বন্যা যেন করোনাকালে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় কারো ঘরে হাটু পানি, কারো ঘরে কোমর পানি স্থির কিংবা চলমান। আংগিনায় পানি, ডানে পানি, বামে পানি, সামনে পানি, পিছনে পানি।শুধু পানি আর পানি। চারিদিকে অথৈ জলে হাবুডুবু করছে অসহায় মানুষের জীবন তরী। কারো চাল উড়ে গেছে, কারো ওয়াল-বেড় ভেঙে গেছে।কারো বাড়ী ঘরে পানি নিচে গেলে বা কমলেও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে গ্রামীণ জনপদ।কেউ বা বানের পানির সর্বগ্রাসী কবল থেকে জান বাঁচাতে চলে গেছে অন্যত্র। ঘর দুয়ার বন্ধ করে গৃহপালিত গবাদি পশু ও অন্য জায়গায় নিরাপদে নেয়া হচ্ছে। এমন চিত্রই এখন গ্রামগুলোর। অসহায় গ্রামবাসী দীর্ঘমেয়াদী উপর্যুপরি বন্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।জীবিকা আর খাবারের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা বিরাজ করছে। এক অসীম ও মানবিক শূন্যতায় নাকাল গ্রামের সহজ সরল জীবনযাপন কারী মানুষগূলো। সম্ভাবনাময় ফসলী জমি অনিশ্চিতভাবে ডুবন্ত আছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই গ্রাম বাংলার মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস ধান চাষ নিয়ে। কৃষকরা দিশেহারা আর কর্মহীন শ্রমিক ও দিন মজুর রা সর্বস্বান্ত। এক নীরব দুর্ভিক্ষের ধেয়ে আসার আশংকা করছেন নিরীহ জনগণ।

সরেজমিন সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ বয়স্করা অসহায়। চোখে চাহনিতে অনিশ্চয়তার দীপশিখা টলটলে করছে। ফেরেশতার মত নিষ্পাপ শিশুগুলোর মুখে যেন হাসি নেই।হাজারো পানিবন্দী মানুষের জীবনচিত্র বড়ই করুন।
অচল ও নিশ্চল জীবনযাত্রা। বেঁচে থাকার অধিকারটুকু যেন নেই। নিষ্প্রভ জীবন।করোনা ও বন্যায় সর্বশান্ত মানুষ নেই ঈদের আমেজ।কৃষকের ঘরে, শ্রমিকের ঘরে, বন্যার্ত মানুষের ঘরে শুধু হাহাকার।

লেখক:সাংবাদিক।সহ সভাপতি, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।






Related News

Comments are Closed