Main Menu

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণঃ ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টেই ভরসা

ডেইলি বিডি নিউজঃ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় ইতোমধ্যে এজহার নামীয় ৬ আসামীসহ ৮জন অাদালতে স্বীকারোক্তিমূলহ জবানবন্দি দিয়েছে। আসামীরা দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেও স্পর্শকাতর এই মামলায় যাতে কোন ফাঁক না থাকার পাশাপাশি মামলাটি যাতে ভবিষৎতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে আসামীদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর পরই পুলিশ এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে পারবে কারা ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছেন। এদিকে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামি আইনুদ্দিন ও রাজনকে নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খোদ পুলিশের মধ্যেও তাদের নিয়ে নানা প্রশ্ন। ধর্ষণের ঘটনায় তারা জড়িত থাকলেও মামলার বাদী তাদের নাম এজাহারে উল্লেখ করেনি। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করে রাজন ও আইনুদ্দিনের সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পান।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ও আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আইনুল ও রাজন জানিয়েছে, গণধর্ষণের ঘটনার আগে মামলার বাদী ও গৃহবধূ তাদের কাছে ছিল। পরে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়। এ সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন। তবে পুলিশ এই বক্তব্যও বিশ্বাস করছে না। এ কারণে সব রহস্য বের করতে ডিএনএ টেস্টেই ভরসা করছে পুলিশ। এ কারণে ডিএনএ টেস্টের জন্য ৮ আসামির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইনুদ্দিন ও রাজন গণধর্ষণের ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যায়। পরে উপস্থিত লোকমুখে শোনা গেলেও এজাহারে মামলার বাদী তাদের নাম প্রকাশ করেননি। এ কারণে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে গ্রেফতারর করা হয়। আইনুদ্দিন সিলেটের কুখ্যাত ডাকাত সর্দার মজিদের নাতি। নানা অপরাধের মূল হোতা সে। এমসি কলেজ এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটাতে তার ভূমিকা অন্যতম। তার নেতৃত্বে এমসি কলেজে সংঘর্ষে অস্ত্রের মহড়া হয়েছে। তবে তাদের আড্ডাস্থল হচ্ছে এমসি কলেজের সামনের এলাকা রাজপাড়ায়। ওই এলাকায় তাদের নেতৃত্বেই ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুরসহ অন্যদের।

এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সাইফুরের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের যে গ্রুপটি অপকর্ম করে বেড়াতো সেই গ্রুপের কর্মী ছিল রাজন ও আইনুদ্দিন। তারা সাইফুর, রবিউল, শাহ রনি, মাহফুজ, তারেক ও অর্জুনের সঙ্গী। এমসি কলেজের পাশের মন্দিরের টিলায় তারা একত্রে বসে ইয়াবা সেবন করতো। ওই টিলায় বেড়াতে যাওয়া মহিলাদের উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটাতো।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচিত এ ধর্ষণের ঘটনায় ৮ আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুর, অর্জুন, তারেক, রবিউল, শাহ রনি ও মাহফুজ একেক সময় একেক কথা বলে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছে। মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি ও অর্জুন লস্কর। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর টাকা, স্বর্ণালঙ্কারও লুটে নেয়ার কথা স্বীকার করে। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে প্রাইভেট কারের চাবিও জোরপূর্বক আটকে রাখার কথা স্বীকার করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট দক্ষিণ বিভাগের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সহ ৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কারা কারা এ গণধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত সেটি খুঁজে বের করতে এটি করা হয়েছে। আসামিদের ডিএনএ নমুনার সাথে ধর্ষিতার ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, রাজন মিয়া, আইনুদ্দিন, তারেক আহমদ ও মাহফুজুর রহমান মাসুমের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা দোষ কবুল করে এ স্বীকারোক্তি দেয়। এ কারণে রিমান্ড শেষে তাদের আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর এমসি’র ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। ঘটনার পর পুলিশ ও র‌্যাব আসামি সাইফুর, অর্জুন, রবিউল, শাহ রনি, রাজন, আইনুদ্দিন, মাহফুজ ও তারেককে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদের আদালতে তোলে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এদিকে আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্কর জবানবন্দিতে জানিয়েছ, তারা দু’জনসহ মোট চারজন নববধূকে ছাত্রাবাসে গাড়িতেই চারবার ধর্ষণ করেছে। এ সময় রবিউল ইসলাম ধর্ষণে সহযোগিতা করেছে। পরে নববধূ ও তার স্বামীকে বিদায় করে ধর্ষণকাণ্ড আড়াল করতে গাড়ি থেকে ধর্ষণের আলামত মুছতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু একজন পুলিশ ছাত্রাবাসে ঢুকে পড়ায় এটি করতে পারেনি।






Related News

Comments are Closed