Main Menu

সিলেট সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনঃ প্রার্থী বাছাইয়ে বিএনপি-আওয়ামী লীগে প্রস্তুতি

ডেইলি বিডি নিউজঃ প্রথমবারের মতো দেশে দলীয়ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট শুরু হচ্ছে আগামী ২২ মার্চ। মোট ছয় ধাপে ৪ হাজার ২৭৯টি ইউনিয়ন পরিষদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এই ছয়টি ধাপের ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করে স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তফসিল ঘোষণার দায়িত্ব দিয়েছে।

প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির ভোট হবে ২২ মার্চ। এরপর ৩১ মার্চ ৭১০টি ইউপি, ২৩ এপ্রিল ৭১১টি ইউপি, ৭ মে ৭২৮টি ইউপি, ২৮ মে ৭১৪টি ইউপি এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হবে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে এই তারিখ ঠিক করা হয়েছে। প্রথম দফার তফসিল কমিশন ঠিক করেছে। বাকিগুলো স্থানীয় পর্যায়ে ঘোষণা করা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম দফায় ২২ মার্চের নির্বাচনে অংশ নিতে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় রাখা হয়েছে ২ মার্চ। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৩ মার্চ। চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন দলীয়ভাবে হলেও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের ভোট হবে নির্দলীয়ভাবে।

এদিকে, প্রথম ধাপে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র সিলেট সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পৌরসভা পর এবার ইউনিয়নেও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতিক নিয়ে প্রার্থীদের নির্বাচন করার বিধান থাকায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন প্রার্থীরা। অন্যান্য বার দলীয় প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করার বিধান না থাকায় একই দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু এবার সেই সুযোগটি নেই। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে হলে বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দল থেকে এসব প্রার্থীদের উপর খড়গ নেমে আসতে পারে। এমন অবস্থায় প্রার্থীরা দলীয় টিকিট বাগিয়ে নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন।

প্রথম ধাপে সদরে নির্বাচন হবে কিনা এমন সংশয় থাকলেও গতকাল তফশিল ঘোষণার সাথে সাথে তৎপর হয়ে উঠেন আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। তবে ২২ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও এখনো কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সিলেট বিএনপি। বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি যাবে না, তার উপর নির্ভর করছে দলটির প্রার্থী নির্ধারণ। এর মধ্যে মাত্র ৫দিন পূর্বে সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হলেও জেলার নেতারা জানিয়েছেন, সাংগঠনিক দিক দিয়ে আমাদের পুরোপুরি প্রস্তুতি রয়েছে। কারণ সম্মেলন আয়োজন করতে গিয়ে উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ের বিভিন্ন ওয়ার্ডেও বিএনপির কমিটি রয়েছে। যে কারণে কেন্দ্র থেকে সবুজ সংকেত পেলেই বিএনপি দলীয় প্রার্থী বাছাই করে নিতে পারবে বলে দাবি করেছেন নব-নির্বাচিত সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ।

অপরদিকে, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, তারা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছেন দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ হবে বলে জানান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ।

সিলেট সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন হলো- ১নং জালালাবাদ ইউনিয়ন, ২নং হাটখোলা, ৩নং খাদিমনগর, ৪নং খাদিমপাড়া, ৫নং টুলটিকর, ৬নং টুকেরবাজার, ৭নং মোগলগাঁও ও ৮নং কান্দিগাঁও ইউনিয়ন।

সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে যারা রয়েছেন তারা হলেন- ১নং জালালাবাদ ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জালাল আহমদ। বিভিন্ন মামলায় তিনি পলাতক থাকায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য মুহিত আলম শফিক। বর্তমানে এ ইউনিয়নে মুহিত আলম শফিকসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আশ্রব আলী, আওয়ামী লীগ নেতা মনফর আলী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির থেকে এখনো দেশের বাইরে অবস্থান করা ইউসুফ লন্ডনী এবং আরেক প্রবাসী তেরা মিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে। জামায়াত থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান জালাল আহমদের সাথে অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজুর নাম শোনা যাচ্ছে।

২নং হাটখোলা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির হাজী জমির উদ্দিন। তবে এ ইউনিয়নে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণ হওয়ায় গতবার স্বেচ্ছায় আসন ছেড়ে দেওয়া সাবেক চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন। নির্বাচন নাও করতে পারেন বর্তমান চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন। এছাড়া বিএনপি থেকে সাকিব জামান ও রফিকুল বারীর নাম শোনা যাচ্ছে। খেলাফত মজলিস থেকে রফিকুজ্জামানের নাম শোনা যাচ্ছে।

অপরদিকে, আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মোসাহিদ আলী, আওয়ামী লীগ নেতা খুর্শিদ আহমদ এবং দিলবর মেম্বার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির দিলওয়ার হোসেন। তিনি ছাড়াও বর্তমানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বর্তমান ইউপি সদস্য ইলিয়াছ আলী। এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ইকলাল আহমদ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তারা মিয়া, অ্যাডভোকেট মখলিছুর রহমান প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিলাল। তিনি ছাড়াও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফছর আহমদ ও যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গির আলম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি থেকে মনসুর আহমদ চৌধুরী ও আইয়ুব আলী সজিব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৫নং টুলটিকর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মছব্বির। তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রমিজ উদ্দিন বাবুল, জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত নেতা হিরণ মাহমুদ নিপু এবং প্রজন্মলীগ নেতা আলী হোসেন প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে মুহিবুর রহমান প্রচারণা চালাচ্ছেন।

৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহীদ আহমদ। এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফতাব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল হক ফুল মিয়া ও যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জিন হোসাইন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া শামসুল ইসলাম টুনু। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আছন মিয়া ও ইরণ মিয়া প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে নাজিম উদ্দিন ও মাশুক মিয়া তৎপর রয়েছেন।

৮নং কান্দিগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান রয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন। বিএনপি থেকে আহমদ আলী ও ইন্তাজ আলী তৎপর রয়েছেন। জামায়াত থেকে আব্দুল মনাফ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানান- বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে কি নেবে না তার উপর নির্ভর করছে প্রার্থী নির্ধারণ। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা তৃণমূলের মতামত নিয়ে এবং প্রকৃত বিএনপির প্রার্থীদের বাছাই করবো।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ বলেন- গতকাল বৃহস্পতিবার আমরা একটা মিটিংয়ে বসেছিলাম। প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) তৃণমূলের মতামত নিয়ে আমরা প্রার্থী নির্ধারণ করে নিতে পারি।






Related News

Comments are Closed